কলিকাতায় নবকুমার – ৫৮

আটান্ন

গোটা ভারতবর্ষে যৌনকর্মীর সংখ্যা কত? কয়েক লক্ষ না কোটি, তা শেফালি-মা জানেন না। বেঁচে থাকার জন্যে এই আদিমতম পেশায় যেসব মেয়েরা আসতে বাধ্য হয়েছে তাদের পাশে কোনও সম্রাট, রাজা অথবা সরকার দাঁড়ায়নি। তথাকথিত সভ্য মানুষের একাংশের লালসার বিষ এরা বহন করে এসেছে বাধ্য হয়ে। আজ যদি যৌনকর্মীদের বিকল্প সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হত তাহলে দেশে ধর্ষণ, বলাৎকারের সংখ্যা এমন বেড়ে যেত যে তথাকথিত সামাজিক কাঠামো ভেঙে চুরমার হয়ে যেত। মুখোশগুলো খুলে পড়ত একের-পর-এক।

নোংরা জল বার করে দেওয়ার নর্দমার মতো সভ্য মানুষ এতকাল যৌনকর্মীদের ব্যবহার করেছে। শহরের বুকে এতগুলো লালপাড়া থাকা সত্বেও তারা উদাসীনতার ভান করেছে। এখন সরকার যে আইন পাশ করতে চলেছে তাতে বিস্ফোরণ অনিবার্য। বাড়িওয়ালাকে বলা হবে যৌনকর্মীকে বাড়ি ভাড়া দেওয়া যাবে না। পুলিশকে বলা হবে খদ্দের লালপাড়ায় ঢুকলেই গ্রেফতার এবং জেল-জরিমানা করা হবে।

কিন্তু যৌনকর্মীরা কী করবে, তা নিয়ে এই আইন মাথা ঘামাচ্ছে না। অর্থাৎ, তুমি যদি লুকিয়ে ব্যাবসা করো তাহলে বেঁচে থাকতে পারবে। আর লুকোনোর পদ্ধতিটা আয়ত্ব করতে গেলে তোমাকে আইনরক্ষকদের ভালোভাবে সন্তুষ্ট করতে হবে। নইলে সেই সাইলকের মতো অবস্থা হবে তোমার, মাংস কাটতে পারো, কিন্তু এক ফোঁটা রক্ত পড়লেই চরম শাস্তি পাবে। আর এই আইন যদি সত্যি পাস হয় তাহলে অগুনতি যৌনকর্মী কি কর্মহীন হয়ে ঘরে-ঘরে শুকিয়ে মরবে? যারা আইন তৈরি করছেন তাঁরা কি মাটিতে হাঁটেন না?

শেফালি-মা বুঝতে পারছিলেন, তাঁর ইচ্ছেমতো কাজ এখন সম্ভব হচ্ছে না। কবিতা তাঁর কাছে সময় চাইছে। কিন্তু ওরা এখন বেশি ব্যস্ত হবে ওই আইন যাতে পাস না হয়, তার জন্যে আন্দোলন করতে। আর আইন পাস হয়ে গেলে পেটের জ্বালায় যদি যৌনকর্মীরা বিশেষ এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে জনারণ্যে মিশে যায়, তাহলে দুর্বার সমিতি কাদের জন্যে কাজ করবে? একটু-একটু করে যে সংস্থা পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছিল তা ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে। তখন তারা এই বাড়ি নেবে কেন?

যারা আজ বাড়িটা কিনতে এসেছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলতে শেফালি-মায়ের বিন্দুমাত্র ইচ্ছে হচ্ছিল না। বস্তুত এই বাড়িটা বিক্রি করার কোনও বাসনাই তাঁর নেই। যদি আইন পাস হয়, যদি দুর্বার উঠে যায়, তাহলে এই বাড়ির একতলায় যেসব মেয়ে আছে তাদের দান করে যাবেন তিনি। তবে দুর্বার যে আন্দোলন শুরু করেছে তার ভাগ্য জানা পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে।

আবার এই অপেক্ষার সময়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে তিনি ভবানীপুরের বাড়িতে যেতেও পারছেন না। নবকুমার এবং মুক্তো সেখানে আছে। অসুস্থ ছেলেটাকে একা ওখানে রাখতেও মন চাইছে না। মুক্তোর ওপর তাঁর ভরসা আছে। তবু—।

তার চেয়ে একদম সুস্থ হয়ে ওঠা পর্যন্ত নবকুমার এখানে থাকলে তিনি স্বস্তি পাবেন। ওর ঘরে নিজের মতো থাকুক ও। দুপুরে মুক্তো এলে কথাটা বললেন তিনি, ‘আজ আসতে হবে না। কাল ভোর-ভোর ট্যাক্সি নিয়ে এলেই হবে।’

মুক্তো হাঁ হয়ে গেল, ‘ওম্মা! ও তো কাল শ্যুটিং-এ যাবে!’

হতভম্ব হয়ে গেলেন শেফালি-মা, ‘শ্যুটিং-এ যাবে! তার মানে? ও কি ভালো হয়ে গিয়েছে?’

‘না। মুখ হাতের দাগ কাঁচা আছে এখনও। বাথরুমে যায় কোনওরকমে। ব্যথা যায়নি।’

‘তাহলে শ্যুটিং-এ যাবে কী করে?’

‘জানি না। দুজন লোক এসেছিল ওই দিদির সঙ্গে। দুজনের একজন পরিচালক। তারা কথা বলে ওকে রাজি করাল।’ মুক্তো জানিয়ে দিল।

‘ওই দিদি মানে মন্দাক্রান্তা?’

মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল মুক্তো।

শেফালি-মা ফোনের রিসিভার তুলে মন্দাক্রান্তার নম্বর ডায়াল করলেন। কয়েকবার রিং হওয়ার পরে কেউ একজন ফোন ধরলে বললেন, ‘মন্দাক্রান্তাকে ফোনটা দিন।’

‘কে বলছেন?’

‘শেফালিদেবী।’

একটু বাদেই মন্দাক্রান্তার গলা পেলেন, ‘কেমন আছেন?’

‘আমি তো ভালোই। এইমাত্র শুনলাম, নবকুমার কাল শ্যুটিং-এ যাচ্ছে!’

‘হ্যাঁ। এছাড়া উপায় নেই।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

‘কিন্তু সে তো এখনও সুস্থ হয়নি। ভালো করে হাঁটতেও পারছে না।’

‘গীতিময়বাবু গল্পটা একটু বদলে নিচ্ছেন। কলকাতায় এসে ও একটা ঝামেলায় বিনা দোষে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিল। সেই অবস্থায় যে বাড়িতে যাওয়ার কথা, সেখানে যাবে। এর আগে যে শ্যুটিংটা ওকে নিয়ে হয়েছিল সেটা ফেলে দেবেন গীতিময়বাবু। এখন আহত অবস্থাতেই সেখানকার কাজের লোককে নিজের পরিচয় দেবে।’ মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘এর ফলে ওর শরীরের দাগ, হাঁটাচলা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠবে না। দর্শকরা বাস্তব বলে মনে করবে।’

‘কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষকে দিয়ে অসুস্থের অভিনয় কেউ করায়? এতে সে আরও অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। তার চেয়ে সুস্থ হয়ে উঠে মেক-আপ নিয়ে তো ও করতে পারে। সেটাই একজন অভিনেতার কাজ।’ শেফালি-মা বললেন।

‘সেটা করার সুযোগ পাওয়া যেত না।’ মন্দাক্রান্তা জানালেন।

‘কেন?’

‘শ্যুটিং বন্ধ থাকায় ক্ষতি হচ্ছে বলে এই ছবি বাতিল করে আর-একটা নতুন ছবি শুরু করতে চাইছেন বড়বাবু।’

‘ও।’

‘আর সেই ছবিতে নবকুমার থাকবে না।’ মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘তাই আমরা চাইছি এই ছবির কাজ বন্ধ না করতে। ওর কষ্ট হবে। কিন্তু গীতিময়বাবু বলছেন ব্যাপারটা মাথায় রেখে যত কম কাজ পারেন ওকে দিয়ে করাবেন।’

‘তুমিও চাইছ ও কাল শ্যুটিং করুক?’

‘হ্যাঁ।’ মন্দাক্রান্তা জোর দিয়ে বললেন।

ফোন রেখে দিলেন শেফালি-মা। খুব চিন্তিত দেখাচ্ছিল তাঁকে। অন্যমনস্ক গলায় বললেন, ‘ছেলেটার কপালে কী লেখা আছে কে জানে!’

মুক্তো বলল, ‘ওসব ভেবে কী হবে! ছেলেটা অ্যাদ্দিন এখানে আছে, একটুও চালু হল না। ওর মাথায় তো সবাই কাঁঠাল ভাঙবে! যাকগে, এ-বাড়ি ছেড়ে কবে যাওয়া হবে?’

‘এখনই বলতে পারছি না।’

‘ওমা! আমি কতদিন ওখানে মুখ গুঁজে পড়ে থাকব?’

‘মুখ গুঁজে মানে?’

‘ভূতের মতো বসে থাকি। কথা বলার কোনও লোক নেই। ওই ছেলে তো সারা দিনরাত শুয়ে থাকে। কথা বলতেই চায় না। আমি ওখানে থাকতে পারব না।’ মুক্তো বলল।

‘তাহলে নবকুমারকে কে দেখবে? যতদিন শ্যুটিং চলবে ততদিন ওকে ওখানে থাকতেই হবে। ওর পক্ষে একা থাকা কি সম্ভব?’

‘তাহলে কী করা যায়। ইতিকেও তো ওখানে পাঠানো যাচ্ছে না।’

‘ঠিক আছে। আমি ইতিকে নিয়ে ওখানে গিয়ে থাকব। তুমি চলে এসো এখানে। বাড়ির দরজায় তালা পড়তে দেব না। এখানে এসে যতখুশি গল্প করো।’ শেফালি-মায়ের কথা শেষ না হতেই বাইরের দরজায় শব্দ হল। মুখ ভার করে মুক্তো গেল দেখতে। ফিরে এসে বলল, ‘নীচের মেয়েরা কথা বলতে চায়!’

‘কেন?’

‘জানি না। আমাকে বলল না।’

নীচের ভাড়াটে মেয়েরা কখনওই শেফালি-মায়ের সঙ্গে কথা বলে না। সমীহ তো করেই, বেশ ভয়ও পায় ওঁকে। ওঁকে নামতে দেখলে দ্রুত সরে যায় সামনে থেকে।

শেফালি-মা দেখলেন সামনের বারান্দা সিঁড়িতেও মেয়েরা দাঁড়িয়ে রয়েছে।

‘কী ব্যাপার?’ শেফালি-মা জিজ্ঞাসা করলেন।

সামনে দাঁড়ানো মেয়েটি বলল, ‘আমরা এসেছি বলে আপনি রাগ করবেন না!’

‘ঠিক আছে। বলো।’

‘আইন পাস হয়ে গেলে আপনি কি আমাদের তাড়িয়ে দেবেন?’

অবাক হয়ে গেলেন শেফালি-মা। তারপর বললেন, ‘আমি তো এখানে আর থাকছি না। দুর্বারকে বলেছি নিতে। তারা কী করবে জানি না।’

‘যদি দুর্বার না নেয়?’

‘তখন ভাবব।’

‘তাই বলছি, আপনি আমাদের তাড়াবেন না। আমরা আপনাকে ভাড়া দিই বললে পুলিশ যদি হয়রানি করে, তাহলে আমাদের ভাড়াটে বলার দরকার নেই। আমরা বলব পেয়িংগেস্ট হিসেবে আছি। পেয়িংগেস্টদের রাখলে আইন কিছু করতে পারবে না।’ মেয়েটি বলল।

সঙ্গে-সঙ্গে তার পাশের মেয়েটি বলল, ‘আমরা কিন্তু ভাড়ার টাকা আপনাদের দিয়ে যাব।’ সেটা সমর্থন করল বাকি মেয়েগুলো, মাথা নেড়ে।

প্রথম মেয়েটি বলল, ‘সরকার করতে চাইলে দুর্বার কি আটকাতে পারবে? তা ছাড়া—।’

শেফালি-মা জিজ্ঞাসু চোখে তাকালেন।

‘আপনার কাছে বাড়ি কিনতে লোক এসেছিল। ওরা আমাদের তাড়িয়ে দেবে।’

‘কেন? ওদের বলবে পেয়িংগেস্ট হিসেবে তোমাদের রাখতে।’

মাথা নাড়ল মেয়েটি, ‘ওরা নাকি এখানকার বাড়িগুলো সস্তায় কিনে নিয়ে অনেক ফ্ল্যাট বানিয়ে বেশি দামে বিক্রি করবে। এই পাড়ায় ব্যাবসা বন্ধ হলে ভদ্রলোকেরা চলে আসবে ফ্ল্যাট কিনে।’

‘ঠিক আছে। আগে তো আইন পাস হোক, তারপর দেখা যাবে।’

‘আপনি দয়া করে ওদের কাছে বিক্রি করবেন না।’

‘শোনো। এই বাড়ি আমি কাউকেই বিক্রি করব না। যদি আইন পাস হয়, যদি দুর্বার এই বাড়ি না নিতে পারে তখনও এই বাড়িতে অন্য কোনও লোক বাড়িওয়ালা হয়ে আসবে না। তবে তোমাদের পেয়িংগেস্ট বলাটা মিথ্যে ভাষণ হবে। সেটাও আমি করতে পারব না। তোমরা কজন আছ?’ শেফালি-মা জিজ্ঞাসা করলেন।

‘দশজন।’ প্রথম মেয়েটি বলল।

দ্বিতীয় মেয়েটি মনে করিয়ে দিল, ‘আর-একজন আছে। ব্যাঙ্কের বাবু। বিকেলে আসে, রাতে চলে যায়।’

‘তাঁকে আমার দরকার নেই। তোমরা দশজন মিলে যদি একটা কোঅপারেটিভ তৈরি করতে পারো, তাহলে সেই কোঅপারেটিভকে আমি বাড়িটা দিয়ে যাব।’

সঙ্গে-সঙ্গে মুখগুলোয় হাসি ছড়িয়ে পড়ল, উল্লাসের শব্দ ফুটল।

‘কিন্তু মনে রেখো, আগে আইন পাস হোক, আগে দুর্বার বলুক ওরা বাড়িটা নিতে পারছে না, তারপর—!’

সঙ্গে-সঙ্গে মেয়েগুলো এগিয়ে এসে শেফালি-মায়ের পায়ের পাতা স্পর্শ করতে লাগল একের-পর-এক।

‘যাও তোমরা। আর এই নিয়ে কোনও কথা নয়।’

মেয়েরা চলে গেলে মুক্তো বলল, ‘দুর্বারকে দেওয়ার একটা মানে ছিল। বিনি পয়সায় এদের মালিক করে দেওয়া কি ঠিক?’

‘তোমার গায়ে এত লাগছে কেন?’

‘এ-বাড়িতে অনেকদিন রয়েছি, লাগবে না-ই বা কেন।’ মুক্তো বলল, ‘চালচুলো নেই মেয়েগুলোর, হঠাৎ বাড়িওয়ালি হয়ে যাবে!’

‘ওরা কেউ একা হবে না। ওদের তৈরি কোঅপারেটিভ হবে। যাক, এ নিয়ে কথা বাড়িও না। তুমি এখন ভবানীপুরে ফিরে যাও।’

‘তা যাচ্ছি। কিন্তু কাজটা ভালো হল না।’ মুক্তো তখনও অস্বস্তিতে।

‘শোনো মুক্তো, এই বাড়ি আমি আমার টাকায় কিনিনি। যিনি কিনে আমাকে দিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি সস্তায় অন্য কোথাও বাড়ি পাননি। এই বাড়ি বিক্রি করে টাকা নিলে আমি নিজের কাছেই ছোট হয়ে যাব।’ শেফালি-মা দ্রুত নিজের ঘরে চলে গেলেন।

.

ঘরে ঢুকে বড়বাবু বললেন, ‘কী ব্যাপার? এমন কী হয়েছে যাতে আমার সঙ্গে কথা না বলে তুমি থাকতে পারছ না? আমি তোমাকে প্রথম দিনেই বলে দিয়েছিলাম যে জোর-জবরদস্তি আমি পছন্দ করি না।’

মন্দাক্রান্তা বসেছিলেন সোফায়। শান্ত গলায় বললেন, ‘তাহলে না এলেই পারতেন।’

‘বা:। চমৎকার!’ একেই বলে উলটো চাপ।’ বড়বাবু সোফায় বসলেন, ‘বলো, কী ব্যাপার?’

‘কাল থেকে শ্যুটিং হচ্ছে।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

‘কাল থেকে? কী করে হবে? গীতিময় তো গল্পই বাছতে পারেনি। তারপর চিত্রনাট্য হবে, কাস্টিং, সেট—, তোমার কি মাথা ঠিক আছে?’

‘আমার আছে। আপনার ঠিক নেই। যে গল্পের শ্যুটিং শুরু হয়েছিল সেটাই হবে।’

‘কিন্তু কী করে? নবকুমার তো হাঁটতেই পারছে না।’

‘তাঁকে হাঁটানো হবে।’

‘অসম্ভব। একজন অভিনেতা মৃতের ভূমিকায় অভিনয় করতে পারে কিন্তু মৃত মানুষ অভিনয় করতে পারে না। আমি আমার টাকা আর নয়ছয় করতে চাই না।’ বড়বাবু সোজা হয়ে বসলেন, ‘বেশ, হোক শ্যুটিং। আমি টাকা দেব না।’

‘আপনি টাকা দেবেন না?’

‘নো। একটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ছেলে, বেশ্যাপাড়ায় পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা করে মার খেয়েছে, একবারও চিন্তা করেনি ওর ওপর কয়েক লক্ষ টাকার ভাগ্য নির্ভর করছে। রাস্তা থেকে তুলে এনে যাকে সুযোগ করে দিলাম সে যদি বেইমানি করে তাহলে আমি মেনে নেব না।’ বড়বাবুর গলার স্বর চড়ায় উঠল।

‘ও একটা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বেইমানি করার ছেলে নয়।’

কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তাকিয়ে থাকলেন বড়বাবু, ‘তুমি জানলে কী করে?’

‘ও গ্রামের ছেলে, ওর মধ্যে শহুরে প্যাঁচ নেই।’

‘বা:! গ্রামে যেন রেপ হয় না, লম্পটরা বাস করে না?’

‘করে। কিন্তু তাদের সঙ্গে শ্যুটিং-এর কোনও সম্পর্ক নেই।’

‘খবর পেলাম তুমি থানায় গিয়েছিলে?’

‘হ্যাঁ। শেফালি-মা আমায় ফোন করে ঘটনাটা জানিয়েছিলেন। তখন অনেক রাত। ওই সময় আপনি ফোন ধরেন না। তাই আমাকে যেতে হয়েছিল।’

‘ভোর অবধি থেকে ওকে ছাড়িয়ে নিয়ে নার্সিং হোমে ভরতি করেছ?’

‘হ্যাঁ। আপনার গোয়েন্দারা অসত্য খবর দেয়নি।’

‘কিন্তু কেন? হোয়াই?’

‘আমি চাই ছবিটা শেষ হোক।’

‘শুধু এটুকু?’

‘তার মানে? কী বলতে চাইছেন আপনি?’

এবার বেশ জোরে শ্বাস ফেললেন বড়বাবু, ‘আমি জানতে চাই ওই গ্রাম্য আনকালচার্ড ছোকরার সঙ্গে তোমার কী সম্পর্ক?’