Course Content
সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী
সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী
0/5
সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

সমুদ্র কন্যা – ১০

দশ

মেয়ের মুখ দেখলেন এঁরা।

খালি কফির পেয়ালা উঠিয়ে নিয়ে চলে যেতেও দেখলেন।

আর করে বসলেন এক অসমসাহসিক কাণ্ড।

প্রথমে অবশ্য সুপ্রভা।

মৃদু হাসি হেসে বললেন, ‘দেখলেন তো আমার মেয়েকে?’

সিংহসাহেবের হাত দুটো আর একটু লীলায়িত হল।

চেক-বইটার পাতা উড়ল ফর-ফরিয়ে। যেন একটা বাজে পত্রিকার পাতা ওলটাচ্ছেন।

তা সেটা তো হাতের ভঙ্গী।

মুখে স্থিতপ্রজ্ঞ হাসি। ‘দেখেইছি তো আগে। তখন আর-একটু ছোট আর রোগা ছিল।’

অর্থাৎ এখন আর একটু লোভনীয় হয়েছে।

শরদিন্দু নড়ে-চড়ে বসেন। সুপ্রভা কোনো কথা বলতে চাইছেন।

সিংহসাহেব মৃদু হাসেন

যেটার অনেক অর্থ আবিষ্কার করা যায়। অথবা কোনও অর্থ আবিষ্কার না করলেও চলে।

সুপ্রভা ঝোপের ঘাড়ে কোপ দেন, ‘বলেছিলাম মেয়েকে—’  

সিংহসাহেব সুরেলা গলায় অলসভাবে বললেন, ‘ও, আচ্ছা—’

এর বেশী আর বলেন না।

প্রশ্ন করাটা যে খেলোমী।

তা’ছাড়া সুপ্রভার মুখ দেখেই বুঝে নিয়েছিলেন তিনি। বুঝে নিয়েছিলেন পরিস্থিতি অনুকূল

তবু ওই অলস আর কৌতূহলশূন্য ভাবটা ত্যাগ করেন না।

অর্থাৎ, দাঁড়াও শুনি আগে ওই বলার ফলাফলটা কী। তার পরে ভাব প্রকাশ করব।

শরদিন্দুর রক্তচাপ বৃদ্ধি হচ্ছে।

কী বলতে চায় সুপ্রভা?

বলল আবার কখন মেয়েকে? সে খবরটা শরদিন্দু আগে জানলেন না, জানল বাইরের লোকটা? ঈশ্বর জানেন কী উত্তর দিয়েছেন কন্যা। প্রতিকূল হলে কি সুপ্রভার মুখে অমন একটা হাসি হাসি ভাব দেখা যেত?

সুপ্রভা সেই হাসির গলায় বলেন, ইচ্ছের কিছু অভাব দেখলাম না। আপনার মহানুভবতা দেখেই গলে গেছে একেবারে।’

বটে বটে!

এই সব ভালো ভালো কথাগুলো বলে নিচ্ছে সুপ্রভা? অথচ শরদিন্দুর সঙ্গে পরামর্শ করেনি একবার?

শরদিন্দুই কি তবে মুখ বুজে থাকবেন?

কেন?

সে কথা জানেন না শরদিন্দু?

জানেন, সুপ্রভার চাইতে ভালোই জানেন। তাই তাঁর কথার উপর থাবা বসান, ‘গলে গেছে বললে কিছুই বলা হল না স্যার! স্রেফ অভিভূত! অভিভূত হয়ে বলল, “টাকার জন্যে নয়। টাকা ওঁর আছে, এক কথায় দশ-বিশ হাজার খরচ করাটা হয়তো ওঁর কাছে কিছু নয়, অভিভূত হচ্ছি ওঁর মনের জন্যে। মানুষের দুঃখ অসুবিধে বোঝবার ক্ষমতা যে মনের আছে, সে মনের সংস্পর্শে আসতে পাওয়াটাই পরম ভাগ্য!”

সিংহসাহেবের মুখে একটা আলোর ডো খেলে যায়। তবে সুরবিচ্যুতি ঘটে না। তেমনি মসৃণ গলায় বলেন, ‘এ আপনি একটু বেশি বলছেন শরদিন্দুবাবু, মানুষ মাত্রেই যা করে থাকে তার বেশি কিছু করিনি আমি।

(‘করে ফেল না বাবা!’ মনে মনে বলেন শরদিন্দু, ‘আর কতক্ষণ ঝুলিয়ে রাখবি? বিয়ের দিনস্থির না-করা পর্যন্ত চেক-বইটা খুলবি না নাকি?’)

তা সিংহসাহেবই কি না-ভাবছেন, ও তোমরা বুড়োবুড়ি যাই বল, মেয়েটাকে একবার নিজে যাচাই করে দেখতে চাই আমি। এদিকে তোমরা টাকাটি হাতালে, ওদিকে তোমাদের মেয়েটি হাওয়া হল। আজকালকার দিনে এসব তো নতুন নয়! কত মেয়েই অমন মা-বাপের মুখে চুনকালি লেপে হাওয়া হচ্ছে।

হলে?

তখন?….তবে দেখে মনে হচ্ছে, নম্র শান্ত সভ্য শিষ্ট। কৃতজ্ঞতার ভারে নুয়ে থাকবে কিছুটা। এ ভারটা চাপানোর দরকার আছে, নচেৎ এতখানি বয়সের ভারের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষে হবে কী করে?

সিংহসাহেব এবার চেক-বইয়ে কলম ঠেকান, আস্তে বলেন, ‘নামটা তাহলে কার দিচ্ছি? আপনারই তো?’

নাম!

চেকে!

তাই তো!

এ প্রশ্নটা যে আসতে পারে তা তো কই আগে মনে পড়েনি।

ও কী চায়?

সোমার নামেই দেবার মতলব নাকি?

অসহায়ভাবে সুপ্রভার মুখের দিকে তাকান শরদিন্দু। আর চিরদিনের মন্ত্রী সেখানে সহায়ের হাত বাড়িয়ে দেন।

‘তা দেখুন ওঁর নামেই বোধহয় দেওয়া ভালো। বাড়ি যখন ওঁরই নামে। অবশ্য দিলে আপনি সোমার নামেও দিতে পারেন। তবে মেয়েটা যদি লজ্জা পায় তাই—’

‘কী আশ্চর্য, ওঁর কথা উঠছে কেন?’ সিংহসাহেব চেকটা খসখস করে লিখে ফেলে নিজেকে সামলে নেন, আমি ভাবছিলাম বাড়ি হয়তো আপনার নামেই—’

‘না, না, এ ওঁদের পৈত্রিক বাড়ি। আমাদের আর কবে এমন অবস্থা হয়েছে—’

ড্যাস্ টেনেই ছেড়ে দেন সুপ্রভা।

ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল।

চেকটা এগিয়ে দিচ্ছেন সিংহসাহেব তাঁর একদার অধস্তনের দিকে। বাঁ হাতের দু’ আঙুলে। যেমন করে এগিয়ে দিতেন চিঠির ড্রাফ্ট।

শরদিন্দু এ অপমানটুকু হজম করেন।

আর মনে মনে ভাবেন, আচ্ছা, আমারও দিন আসবে। ভবিষ্যতে আমার মেয়ে যখন তোর নাকে দড়ি পরিয়ে নাচাবে—

নাচাবেই।

কথায় বলে বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা।

সাহেবের সেই ‘নাচা’ মূর্তি কল্পনা করে শরদিন্দু যেন মনের দাহ মেটান।

আজীবনের অপমানের দাহ।

এখনকার দীনতার দাহ।

এগারো

সিংহসাহেব বিদায় নেন।

তারপর সোমা এসে ঘরে ঢোকে।

বসে পড়ে বলে, ‘উঃ, কী ডাঁট তোমার সিংহীসাহেবের—’

হাসি হাসি মুখেই বলে অবশ্য।

‘ডাঁট! ডাঁটের তুমি কী দেখলে?’ চটে যেন ওঠেন শরদিন্দু। অদ্ভুত এই হৃদয় রহস্য! যার উপর আক্রোশে মন জ্বলছে, তার সমালোচনা শুনেও জ্বলে ওঠা।

সোমা তবু হাসে, বাবার প্রেসার বেড়ে যাওয়ার ভয় ভুলে হাসে, ‘ও কি আর বুঝিয়ে বলা যায় বাবা? ডাঁট হচ্ছে অনুভবের জিনিস। যাক—দেখি চেকটা। সত্যি না খেলাঘরের?’

সুপ্রভার হাতে ছিল, এগিয়ে দেন দুরুদুরু বুকে। এই, এই হচ্ছে মোক্ষম সময়। এক বস্তা টাকার প্রতিশ্রুতি হাতে নিয়ে বসে আছে, এই জব্দ করবার মুহূর্ত।

উলটে-পালটে দেখেটেখে দুষ্টু হাসি হাসে সোমা, ‘দেখো এ ব্যাঙ্কে এর টাকা নেই।’

ফস্ করে জ্বলে ওঠেন সুপ্রভা। বলেন, ‘বললেই হল? ওঁর একটা-মান-মর্যাদা নেই? চেক ফেরৎ আসা অপমানের নয়? তাছাড়া আজ বাদে কাল উনি আমাদের কত আপনার লোক হবেন, ওঁকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাসা—’

সুপ্রভার কথা শেষ হবার আগেই সোমার স্তম্ভিত গলা থেকে উচ্চারিত হয়, ‘আপনার লোক হবেন? কে?’

‘কেন, সিংহসাহেব? তোকে দেখে এত পছন্দ হয়ে গেল যে একেবারে পাকা কথা চেয়ে বসলেন।’

দেখে এত পছন্দ! সোমা আরো অবাক হল। তার বেশি তার বাবা।

শরদিন্দু অবাক নেত্রে নিজের এই চিরদিনের ঘর-গেরস্থ-করা স্ত্রীটির দিকে তাকিয়ে দেখেন।

উঃ, কী বুদ্ধি! কী বুদ্ধি! এ যে উকিলের বাবা!

কেমন কৌশলে আগের ইতিহাসটি ধামা-চাপা দিয়ে দিল। যেন সবকিছুই এক মুহূর্তের ফসল।

তার মানে, টাকা দেওয়ার সঙ্গে এ ব্যাপারের কোনো সংস্রব থাকল না। তার মানে, এটাই রাষ্ট্র করা যাবে টাকাটা দিতে এসে হঠাৎ ওকে দেখে পছন্দ হয়ে গিয়ে বুড়োবয়সে মাথা ঘুরে গেছে বুড়োর।

মন্দ কী?

এমন ঘটনা ঘটে না তা নয়।

কিন্তু সোমা তো কই রেগে ফেটে পড়ল না? সোমা, তার মানে, সামলেছে। সোমা বরং এখন সকৌতুকে বলে উঠল, “তা, ও ভদ্রলোক তো শুনেছি ব্যাচিলার, কাজেই ছেলের কথা ওঠে না, একটা অগা-বগা ভাগ্নে আছে বুঝি?’

হঠাৎ শরদিন্দু ফেটে পড়েন, ‘কেন, এত অছেদ্দা করে কথা কেন? উনি নিজে বিয়ে করতে পারেন না? নিজের জন্যেই বলেছেন উনি।’

এই, এই ঠিক। ঝড় তুলে ভয়ের-পথটা এগিয়ে যাওয়া। সাবধানে ধীরেসুস্থে বলতে গেলে ছোট হয়ে পড়তে হত মেয়ের কাছে। এ বরং মাথাটা উঁচু রইল।

রইল।

মাথাটা উঁচু।

সোমারও।

মুখ উঁচু করে বাপের দিকে নিষ্পলকে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড। তারপর বলল, ‘নিজের জন্যেই বলেছেন! আর তোমরা বোধহয় সেই পাকা কথাটি দিয়েও দিয়েছ? এমন একখানা পাকা দলিল যখন হাতে পেয়ে গেলে!’

এ গলা কার?

এ কি সোমার গলা?

বাপ-মার সঙ্গে কবে এ-গলায় কথা বলেছে সোমা?

বুদ্ধির দোষে যখন সর্বস্বান্ত হয়েছেন শরদিন্দু, যখন বাড়ি বন্ধক দিয়েছেন, যখন পথে বসবার নোটিস এসেছে, সুপ্রভা অনেক গলায় আর অনেক ভাষায় ধিক্কার দিয়েছেন স্বামীকে, করেছেন অনেক কটু-কাটব্য, অনেক লাঞ্ছনা। সোমা তো কোনোদিন তাতে যোগ দেয় নি! সোমা বরং তার মাকেই সামলেছে, আর বাবার জন্যে রেখেছে মমতাময় হৃদয়ের স্পর্শ। ছোট ছেলে বুদ্ধির দোষে আছাড় খেলে মা যেমন কোলে তুলে নেয়, যেন তেমনি তুলে নিয়েছে।

কিন্তু আজ এ যেন আর এক মেয়ে।

ঘৃণা, ধিক্কার, ক্ষোভ, গ্লানি, ব্যঙ্গ, সবকিছুর সংমিশ্রণে গঠিত এই স্বর সোমার কণ্ঠে ছিল?

শরদিন্দু এই স্বর আর ওই দৃষ্টির সামনে অবিচলিত থাকতে পারেন না, হঠাৎ হাউ হাউ করে কেঁদে উঠে বলেন, ‘আমায় তোমরা জুতো মারো! আমায় তোমরা জুতো মারো! তবু এই টাকা আমায় নিতে হবে। স্ত্রী-পুত্র নিয়ে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতে পারব না আমি।’

ব্লাড প্রেসারের রুগী—মাথায় কিল মারতে থাকেন দুম দুম করে।

সোমা আস্তে বলে, ‘বাবা থাম। শান্ত হও, প্রেসার বেড়ে যাবে।’

বারো

বৃষ্টি পড়ছিল রিমঝিম করে।

তবু বিনা-ছাতাতেই বেরিয়েছিল শঙ্খ।

তাই অভ্যাস ওদের।

ছাতা যে মাথা-রক্ষক, এটা মানতে রাজি নয় এ যুগের ছেলেরা। মাথার অপমান যেন ওতে।

ঠান্ডা লেগে সর্দি হবে? রোদ লেগে অসুখ?

হোক।

বেশী হবে?

হয়, বাড়ির লোক আছে।

যাদের কথা অবজ্ঞা-ভরে ঠেলে ফেলে দিয়েছি।

শঙ্খও সেই নীতিতেই চলে।

মা যখন বলেছিল, ‘বিষ্টি পড়ছে অমনি মাথায় বেরোচ্ছিস?’ শঙ্খ বলেছিল, ‘শুধু বৃষ্টি? বান ডেকেছে বল।’

তারপর বেরিয়ে পড়েছিল।

ট্রাম লাইনের ধারে সোমার সঙ্গে দেখা

সোমার হাতে বেঁটে একটা ছাতা আছে, সোমাদের সেই সারান কোম্পানির বদান্যতা এটি।

মাথা বাঁচাতে ছাতা দেয়।

বাবার ওষুধ আনতে বেরিয়েছিল সোমা। ওকে দেখে বলে উঠলো, ‘এই ছাতার নীচে চলে এসো।’

শঙ্খ পাশাপাশি পৌঁছে বলে, ‘পাগল তো নই!’

‘কেন?’ সোমা তীক্ষ্ণ হয়, ‘এতে পাগলের কী হল?’

‘সবটাই হল।’

‘আমি কতদিন তোমার ছাতার তলায় তলায় এসেছি।’

শঙ্খ হেসে ওঠে, ‘ওঃ তুমি! তুমি তো আসবেই। তুমি আমার ছাতার তলায় আশ্রয় নেবে এটাই যে বিধি! চিরকালই নিতে হবে।’

‘চিরকাল?’

হঠাৎ কেমন উচ্ছৃঙ্খলভাবে হেসে ওঠে সোমা, ‘চিরকালের কথা বলতে পার তুমি? আমার মাথার জন্যে ছাতার ব্যবস্থা তো হয়েই যাচ্ছে।’

শঙ্খ ভুরু কুঁচকে বলে, ‘অর্থাৎ?’

‘অর্থাৎ? তা’হলে বিশদ করে বোঝাতে হয়।’

‘তা বোঝাও।’

বোঝালো সোমা। আস্তে নয়, দ্রুত। তবু বুঝতে আটকালো না।

‘ওঃ, দাদন!’ বুঝে নিয়ে বলে উঠল শঙ্খ, ‘তাই বল।’

ঠোঁটটা বাঁকিয়ে ঘৃণার গলায় বলে শঙ্খ, ‘পয়সাওলা লোকেরা সুন্দরী মেয়েদের জন্যে এমন দাদন দিয়ে থাকে শুনেছি।’

‘অসভ্যতা কোরো না শঙ্খ!’ সোমা তীব্র ঝঙ্কার দেয়।

‘তা বটে!’ শঙ্খ আরো ঠোঁট বাঁকায়। ‘ওটা করবার একচেটে অধিকার শুধু বয়স্ক এবং পদস্থদের।’

‘আমায় অপমান করে যদি সুখ পাও তো কর। যত পার কর। কিন্তু বাবার মানসিক অবস্থা আমি বুঝতে পারছি শঙ্খ! বাবা ওকে যে কী দারুণ ঘৃণা করেন—’

‘ঘৃণা করেন? ও মাই গড! তথাপি জামাই করতে অনিচ্ছে নেই?

সোমা ম্লান হেসে বলে, ‘তাহলেই বোঝো, কী যন্ত্রণা পাচ্ছেন বাবা! কী নিরুপায় অবস্থা!’

‘আর তোমার মা?’

‘মা?’ সোমা শান্ত গলায় বলে, ‘মা-র কথা তুলো না শঙ্খ! তুমি তো জানো, মা চিরকালই জগতের সব কিছুই টাকা দিয়ে বিচার করে। হয়তো দাদা ওই আঘাতেই— কিন্তু সে কথা যাক, তুমি বল এরপর কী?’

‘কী আবার?’ শঙ্খ বলে, ‘সেই ধনী বৃদ্ধটির গলায় মালা দিয়ে একটি ধনবতী মহিলা হয়ে বস গে।’

‘থাম বলছি—’

‘থামব কেন? বাঃ! কত বড় বাড়ি, কত দামী গাড়ি, কত ব্যাঙ্কে কত কত টাকা— আর বৃদ্ধের তরুণী ভার্যার কত আদর! একেই বলে লাক। কোথায় একখানা সিমেন্ট ওঠা রান্নাঘরে বসে পুঁই-চচ্চড়ি রেঁধে মরতে হত, সাবান কেচে আর বাটনা বেটে হাত ক্ষইত, সে জায়গায় ভেলভেটের চটি পরে ভারী কার্পেটে পা ফেলে হাঁটা, আর সোনালি পেয়ালায়—’

‘শঙ্খ, তুমি থামবে?’ সোমা হতাশ বিরক্ত গলায় বলে, ‘অসহ্য লাগছে তোমার এই ন্যাকামি!’

তবু থামে না শঙ্খ।

বলে, ‘কী আশ্চর্য, ন্যাকামি কী? আমি তো এখনই ভাবছি তোমায় ধরাধরি করে, তোমার প্রতিষ্ঠাপন্ন স্বামীর কাছ থেকে একটা মোটা মাইনের চাকরির সুযোগ বাগিয়ে নেব।’

সোমা কঠিন হয়।

সোমা বলে, ‘শঙ্খ, তুমি বাবার কাছে যাও। যাও বলছি—বল গে এ হতে পারে না।’

আমি? আমি বলব মানে?’ শঙ্খ যেন সোমাকে কেটে কেটে নুন দেয়, ‘আমি কে? আমায় যদি তোমার বাবা বলে বসেন, ‘তা তুমি শঙ্খবাবু, ওই দশটি হাজার দিয়ে দাও আমায়, তারপর সিংহসাহেবকে দিচ্ছি বিদায় করে তখন?’

‘তখন?’ হঠাৎ যেন ক্ষেপে ওঠে সোমা, ‘আনবে তাই যোগাড় করে। পুরুষমানুষ, পার না এটুকু?’

‘এটুকু?’

হা হা করে হাসতে শুরু করে শঙ্খ, অনেকক্ষণ ধরে হাসে, যেন একটা যন্ত্রের শব্দের মতো লাগে হাসিটা।

‘তবে আমি কী করব বল?’

শঙ্খ এবার সিরিয়াস হয়, ‘তোমার কর্তব্য তোমার মনই বলবে। তবে আমি যদি তোমার জায়গায় থাকতাম, তাহলে পষ্ট জানিয়ে দিতাম, “আমি বেচাকেনার মাল হতে পারব না। এতে আমায় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দাও আর যাই কর”।’

সোমা হতাশ গলায় বলে, ‘কিন্তু বাবা? বাবাকে তো তাহলে স্রেফ্ মেরে ফেলা হবে। আশাভঙ্গের দুঃখে, আর কথার খেলাপের লজ্জায়—’

শঙ্খ তীব্র গলায় বলে, ‘তবে আর কথায় কী কাজ? বাবাকে বাঁচাও গে। দধিচির মতো, কর্ণের মতো, রাজা শিবির মতো আত্মোৎসর্গের মহিমায় ভাস্বর হয়ে থাক।’

সোমাও ক্রমশ হিংস্র হয়।

ক্রুদ্ধ গলায় বলে, ‘বেশ, তোমার বাড়িটা বাঁধা দিয়েই তবে আমাদের বাঁধা বাড়ি ছাড়ানোর টাকা যোগাড় কর—’

শঙ্খ আকাশ থেকে পড়ে। ‘আমার বাড়ি? বাঁধা দিয়ে?’

সোমা হিংস্ৰগলায় বলে, ‘কেন নয়? আমাকে নীলেমে তোলার বদলে পার না এটুকু? কিসের তবে তোমার ভালোবাসা? কিসের বড়াই?’

এবার শঙ্খর মুখটা আস্তে আস্তে শান্ত আর বিষণ্ণ হয়ে আসে। সেই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের রেখাগুলো মিলিয়ে যায়। বিষণ্ণ গলাতেই বলে, ‘বড়াই কিছুরই নেই সোমা! গরিবের ভালোবাসার দাম রাস্তার একটা ঢিলের বেশী নয়। নিরুপায়ের সম্বল ব্যঙ্গ, সেটাই করে মনের জ্বালা মেটাচ্ছি।….তুমি কি মনে কর ও-কথা ভাবিনি আমি? অনেক আগেই ভেবেছি। যখনই ভেবেছি তোমার বাবার সংসার ঠেলবার জন্যে চাকরি ছাড়বার উপায় নেই তোমার, উপায় নেই নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার, তখনই মনে হয়েছে, দূর ছাই, আমাদের বাড়িটাই দিই বিক্রয় করে। বরং ওতেই ভাড়াটে হয়ে থাকবে, টাকাটা তোমার বদলে তোমার বাবাকে —

তার মানে সেই কেনা-বেচা?’ সোমা তীক্ষ্ণ হয়, ‘তা তাই বা করলে কই? শুধু ভাবলেই হবে?’

শঙ্খ মলিন হয়, ‘সে ক্ষমতাই বা কই? বাড়ি তো আমার একার নয়। বিধবা মা, নাবালক ভাই, তাদের সই-স্বাক্ষর চাই। এবং নিশ্চয়ই তারা দেবে না সেটা।’

‘তা নিশ্চয় দেবে না,’ সোমা বলে, ‘আমি আত্মহত্যা করলে যদি সমস্যার সমাধান হত, তাই করতাম। কিন্তু তাতে তো সংসারটাকে বাঁচানো যাচ্ছে না।’

শঙ্খ মনে মনে বলে, ‘আত্মহত্যার পথেই পা বাড়িয়েছ তুমি! বেশ বুঝতে পারছি মন তুমি স্থির করে ফেলেছ।’

মুখে বলে, ‘থাক, ওই সাধু সংকল্পটি আর কাজে পরিণত করে কাজ নেই। তবে আমার মতে তোমার উচিত ওই বুড়োর সঙ্গে দেখা করে যাচ্ছেতাই করা—’

‘যাচ্ছেতাই?’

সোমা বিস্ময়ের চোখে তাকায়।

শঙ্খ বলে, ‘না তো কী? বাবার অসাক্ষাতে গিয়ে বলবে, ‘শয়তান বুড়ো, তুমি একটা অসহায় লোকের অভাব আর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটা যুবতী মেয়ের জীবন ধ্বংস করতে চাও? লজ্জা করছে না তোমার? টাকা আছে, যাও না সেই টাকার জোরে প্রবৃত্তির আগুন নিবৃত্তি করতে। শহরে অভাব নেই কোনও কিছুরই। বিদুষী পাবে, সুন্দরী পাবে। শুধু আমায় রেহাই দাও। আমি কথা দিচ্ছি, আস্তে, আস্তে এই টাকাটা শোধ করে দেব তোমায়।’

রিমঝিমে বৃষ্টি, তবু হাঁটতে হাঁটতে ভিজে যাচ্ছিল ওরা। কিন্তু সেদিকে খেয়ালই ছিল না ওদের। ছোট্ট ছাতাটা দুজনের কারোই উপকারে লাগছিল না, শুধু মাঝামাঝি থেকে অসুবিধে বাড়াচ্ছিল।

সোমা যেন এতক্ষণে অবহিত হল ওর বাম বাহুমূলটা ভিজে যাচ্ছে। হাতটায় একটা ঝাঁকুনি দিয়ে জল ঝেড়ে ফেলবার চেষ্টা করে সোমা, তীব্র গলায় বলে, ‘বলব এই কথা? ভরসাটা কী? শোধ করে দেব।’

‘তোমার দাদাকে কড়া করে চিঠি লেখো, আর আমিও—’

‘দাদাকে?’ সোমা হাসে, ‘দাদাকে কি এমনিই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তোমার ধারণা? ও-সব ঢের হয়ে গেছে। আর তুমিই বা কোথা থেকে পাবে শঙ্খ? তোমার অবস্থাই কি জানি না আমি?’ নরম হয়ে আসে। ছলছলে হয়ে আসে।

দুজনে দুজনের হাতটা মুঠোয় নেয়, মৃদু চাপ দেয়। সেই স্পর্শের মধ্যে যেন একটা নিরুপায় অসহায়তা শুধু সান্ত্বনার আশ্রয় খোঁজে।

আশ্চর্য, এত লোকের এত টাকা, পৃথিবীতে কত টাকা, অথচ সামান্য কিছু টাকার জন্যে দুটো মানুষ তাদের আজীবনের স্বপ্ন হারাচ্ছে, হারাচ্ছে জীবন সুখ আনন্দ। আর একটা অসহায় মানুষ হারাচ্ছে সভ্যতা-ভব্যতা, পাপ, পুণ্য, ধর্ম, সত্য, চক্ষুলজ্জা, কর্তব্য। আর? আর একটা দাম্ভিক শয়তান সেই টাকা ক’টা দিয়ে কিনছে ওই সমস্তগুলো।

‘এখুনি নাই বা বাড়ি ফিরলে?’

শঙ্খ বলে।

সোমা হাতের জিনিসটা দেখায়, বাবার ওষুধ।’

‘একটু দেরীতে আর ক্ষতি কী?’

শঙ্খ ওর সেই ধরা হাতটায় একটু চাপ দেয়, ‘চল না দীপালীতে গিয়ে একটু বসি।’

‘দীপালী রেস্তারাঁ’!

ওদের অনেকদিনের লুকিয়ে পালিয়ে আসার একটা আশ্রয়।

মোড়ের কাছেই।

সোমা ইতস্তত করে বলে, ‘মা যদি বলেন এত দেরী কিসের?’

‘বলবে ভিজে যাচ্ছিলাম, তাই একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।’

সোমা একটু হাসে, বলে ‘সত্যি কথাটা বলা যাবে না?’

‘বলতে পারলে আমার আপত্তি নেই। তোমারই তো কোনোকালে সাহস হয় না।’

‘ঠিক আছে—চল’ একটু বসা যাক।’

গিয়ে ওঠে। ‘দীপালী’র খিদ্‌মদগার ছোকরা ওদের দেখে একটু হাসে। যে হাসিতে বেশ একটু ব্যঞ্জনা ফুটে ওঠে, ‘কী চাই?’

‘শুধু চা। দু’পেয়ালা। ভীষণ ভিজে গেছি।’

তেরো

কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে দুজনে চায়ের পেয়ালা নামিয়ে রেখে। তারপর সোমা বলে, ‘যা হোক একটা কিছু করতেই হবে। লোকটার বিবেকের কাছে আবেদন জানিয়ে দেখব! তবে এত ডাঁট লোকটার! ভারী খারাপ লাগে।’

‘ডাঁট হবে না?’ শঙ্খ আর একবার ঝাঁকিয়ে ওঠে, ‘এরাই তো বিধাতার সুয়ো ছেলে, ভাগ্যদেবীর বরপুত্তুর। উঃ! কী অবিচার!’

তারপর সোমা চলে যায় নিজের বাড়িতে, শঙ্খ বেরিয়ে পড়ে যত্রতত্র। আর একটা চিরকালের সভ্য-ভদ্র বাড়ির ছেলে যার শিরায় শিরায় মধ্যবিত্তের ঠান্ডা রক্ত ছাড়া কোন দিকে কোনো মিশেল পর্যন্ত নেই, তার মনের মধ্যে একটা কুটিল অমানবিক বর্বর চিন্তা মাথাচাড়া দিতে থাকে।

লোকটার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয় না?

ভারী লরির সঙ্গে সাধের স্টুডিবেকারটির রাম-ধাক্কা? থেঁতলে যায় মুখটা, পিষে যায় দেহখানি। বিয়ের বাসনা অপূর্ণ রেখেই ইহজগৎ থেকে বিদায় নিতে হয় বাছার!

বেশ হয়।

তাহলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করবে জগতে কোথাও একটা সুবিচারক আছে। টাকাটা তো পাওয়া হয়ে গেছে। কাকাবাবুর চিন্তা মিটেছে।

সই নেই, হ্যান্ডনোট নেই, দাতার ওয়ারিশানও নেই। কাজেই আর কোনো বিপদেরও ভয় নেই।

অদেখা লোকটার থেঁতলে যাওয়া মুখটার অবস্থা চিন্তা করতে করতে একসময় হঠাৎ লজ্জা পায়, তবু সমাধানের ওই সহজ পথটাই মনের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে থাকে শঙ্খ বোসের।

চৌদ্দ

সোমা এসে দেখল দরজায় গাড়ি! দেখল বাড়িতে সাড়া পড়ে গেছে। একটি আত্মীয় ছোকরা, হয়তো অগা-বগা ভাগ্নেই হবে, আর জনৈক পুরোহিতকে সঙ্গে করে সিংহসাহেব এসে হাজির হয়েছে।

এটা অভাবিত!

এটা স্বপ্নের অগোচর!

সোমা যখন শঙ্খর সঙ্গে কথা কয়ে এসে বুকটায় একটু বল পাচ্ছিল, হঠাৎ এই অঘটনে ধড়াস করে উঠল। দমে গেল।

লোকটা যেন তাকে গ্রাস করে ফেলার তোড়জোড় করছে।

যেন তাকে ছেঁকে তোলবার জন্যে জাল ফেলছে!

টাকার বস্তার শোকে হয়তো এ ক’দিন ঘুমোয় নি। হয়তো তাড়াতাড়ি দেখতে এসেছে এরা ভেগে গেল কিনা।

কিন্তু এখন পুরুত সঙ্গে নিয়ে আসার কারণ কী?

কারণ আবার কী, পাকা দেখা! অথবা দলিল পাকা করা!

অর্থাৎ দশ হাজার টাকায় কেনা সম্পত্তিটা তাড়াতাড়ি পাকাপাকি রেজেস্ট্রী করিয়ে নিতে চায়।

সুপ্রভা হানফান করছিলেন, মেয়েকে দেখেই চাপা আক্রোশে ফেটে পড়লেন, ‘কোথায় ছিলি? ওষুধ আনতে গেলি তো. গেলি! ‘

সোমা কখনো মা-বাপকে রুক্ষ কথা বলত না, হঠাৎ আজকাল বলছে।

আর ‘বলা মুখ’ বলছেই।

‘বৃষ্টি পড়ছিল দেখতে পাওনি? চোখ নেই?’

‘না, নেই! চোখ-কানের মাথা খেয়েছি যে! উঃ, কী অবস্থা! এদিকে এই কাণ্ড, ওদিকে তোর বাবার শরীর কেমন করছে, আমি একা কী করি তার ঠিক নেই। এক্ষুণি পাকা দেখবে।’

সোমা এবার মূঢ়ের মতো তাকায় মা-র দিকে, তারপর বলে, ‘জানতে না এ-সব তোমরা?’

‘কোথায়? জানলে এই রকম অব্যবস্থা করে রাখি?’

‘তা সেই কথাটাই বলছো না কেন?’ সোমা কঠিন হয়, ‘সামাজিক একটা আইনও তো আছে। নাকি, সব কিছুই টাকা দিয়ে কেনা যায়? সেই আইন-টাইন সব?’

সুপ্রভা কালিমুখে বলেন, ‘তা আমায় বলছিস কেন? আমি কী করব? বললাম তো, ঠিকঠাক নেই, কী করে হবে? তা বললেন, ‘ঠিকঠাকের কী আছে, কী কী আয়োজন করতে হয় বলুন, ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, গাড়ি রয়েছে, ড্রাইভার রয়েছে’

‘ওঃ। আজ থেকেই তাহলে উনি তোমাদের এই ভাঙা নৌকোর ভার নিয়েছেন?’ সোমা রুদ্ধকণ্ঠে বলে, ‘এতবড় একটা নির্লজ্জতার প্রতিবাদ করতেও সাহস হল না তোমাদের? এটুকুও বলতে পারলে না, এর জন্যে তো পাঁজি-পুঁথির অনুমতিও লাগে!’

সুপ্রভা যেন এইবার পায়ের তলায় মাটি পান।

‘সেই জন্যেই তো! ওঁর পুরুত নাকি পাঁজি দেখে বলেছেন, আজ এই সময়টুকু ভালো আছে, তারপর সাত-আট দিন আর দিন ভালো নেই। ‘

সোমা ছিটকে ওঠে, ‘ওঁর পুরুত তো বলবেনই, ঘুষ খেয়ে এ-কথাও বলতে পারেন, আজ রাত্রে ছাড়া বছরের মধ্যে আর লগ্ন নেই।…ঠিক আছে, আমিই যাচ্ছি। বলছি গিয়ে

সুপ্রভা মেয়ের এই মূর্তি দেখে শঙ্কিত হন।

.সুপ্রভা কাতর গলায় বলেন, ‘বাড়িতে এসেছে, অতিথি, তা ছাড়া যতই হোক একটা মান্যগণ্য লোক, তুই তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিবি?’

‘তাড়িয়ে দেব? অপমান করে?’

সোমা ঘাড়টা ফিরোয়

সোমার মসৃণ ঘাড়টা ব্লাউজের উপর থেকে যেন একটা রহস্যের ইশারা দিয়ে যায়।

সোমার এই সুছাঁদ গ্রীবায় এক চিলতে সোনা নেই। নির্নিমেষ চোখে তাকিয়ে দেখেন সুপ্রভা।

সিংহসাহেব মস্ত একটা গহনার বাক্স হাতে করে এসেছেন। অতবড় যখন, হয়তো নেকলেস।

গোটা কতক বছর আগে পৃথিবীতে এসে পড়ার অপরাধে এত আশা এত আগ্রহ ব্যর্থ যাবে লোকটার?

আর সোমাও এতখানি হারাবে?

কিন্তু ওই মেয়েকে কে বোঝাবে?

এতদিন জানা ছিল নরম, ঠান্ডা, স্নেহ-মমতামতী মেয়ে। হঠাৎ তার মধ্যে থেকে আগুনের ফিনকি দেখা গেল যেন।

তা, সে আগুন মুহূর্তেই অন্তর্হিত হল। সোমা যেন অবাক গলায় বলে, ‘অপমান করে তাড়িয়ে দেব কী বল? আমি কি ভূত? যা বলবার ভদ্রভাবেই বলব—’  

‘কিন্তু সে তোমার ওই ‘ভাবে’র ধার ধারবে? ক্ষেপে যাবে না?’

সোমা শান্ত গলায় বলে, ‘তাহলে তো বুঝতেই হবে লোকটা ‘সুস্থ’ নয়। ক্ষেপে যাওয়া রোগ আছে।’

‘রোগ আছে?’ সুপ্রভাই ক্ষেপে ওঠেন, ‘কারণ নেই ক্ষ্যাপবার?’

টাকা ছাড়া আর তো কোনো কারণ নেই।’

‘তা সেটাই কি সোজা?’

‘সোজা অবশ্য নয়। তবু বলতেই হবে, ওই শক্ত কাজটা করতে হবে আপনাকে। আস্তে আস্তে শোধ নিতে হবে।’

‘শোধ!’ সুপ্রভা ছিটকে সরে যান।

যান স্বামীর দরবারে।