অশরীরী – কাজী সারওয়ার হোসেন
অশরীরী
ভূত-প্রেতে কোনকালেই বিশ্বাস ছিল না আমার। কিন্তু বন্ধু নাজমুলের এসব ব্যাপারে দারুণ আগ্রহ, জিন, ভূত কিংবা অশরীরী যে সত্যি সত্যিই আছে, তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে সে। এক বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় আমার ড্রইংরুমে জমিয়ে আড্ডা হচ্ছিল। আমি, নাজমুল, শাকীল আর সুজন। সুজনের ব্যাপারে সম্ভবত এর আগে কখনও বলা হয়নি। বি.এ. পাস করে বাবার ফার্নিচারের ব্যবসা দেখাশোনা করছে— আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নাজমুল আর শাকীলকে বোধহয় নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই।
আড্ডার এক পর্যায়ে ভূত-প্রেতের কথা উঠল। নাজমুল বলল, ‘ভূত, প্রেত কিংবা অশরীরী কোন কিছুর অস্তিত্ব আছে কিনা, তা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের আর কোন সুযোগ নেই। কারণ খোদ আমেরিকাতেই ‘অ্যামিটিভিলের ভৌতিক বাড়ির’ ব্যাপারটা ইদানীং অবিশ্বাসীদের কাছেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
‘তবে আমাদের চারপাশে যে সমস্ত সত্যিকারের (!) ভূত-প্রেতের কাহিনি প্রচলিত আছে সেগুলোর প্রায় সবটাই ভুয়া,’ বললাম আমি।
‘কী-কী ভুয়া কাহিনি প্রচলিত আছে, দু’একটা উদাহরণ দে তো দেখি?’ নাজমুলের কণ্ঠে প্রচ্ছন্ন বিদ্রূপ।
‘ধর্, এক পূর্ণিমার রাতে তুই গ্রামের পথ দিয়ে হেঁটে চলেছিস্। পথে আর কোন লোকজন নেই। এমন সময় দেখা গেল, একটা ছায়ামূর্তি তোর পেছন পেছন হাঁটছে। তুই হাঁটছিস, সেও হাঁটছে, তুই দৌড়াচ্ছিস, সেও দৌড়াচ্ছে। আসলে ওটা কিন্তু তোরই ছায়া। এ ছাড়া এমনও কাহিনি শোনা গেছে, সন্ধ্যার সময় কোন এক রাখাল গরুর পাল নিয়ে মাঠ থেকে ফিরে আসার সময় ভূতের খপ্পরে পড়ে কিছুতেই আর সামনে এগোতে পারছে না। ভয়ে প্রায় মূর্ছা যাবার উপক্রম তার। তার চেঁচামেচিতে লোকজন কাছে এসে দেখে, গরু বেঁধে রাখার খুঁটির সঙ্গে তার লুঙ্গিটা পেঁচিয়ে যাওয়াতেই এই অঘটন ঘটেছে।’
আমার কথা শেষ না হতেই নাজমুল বলল, ‘আসলে তোর এই দুটো কাহিনিই এত প্রাচীন যে নব্য অবিশ্বাসীরাও ‘ভূত নেই’ প্রমাণ করতে গিয়ে এই বস্তাপচা গল্পের অবতারণা করবে না।’
‘ভূত-প্রেতের ব্যাপারটায় সত্যি-মিথ্যা কতটুকু আছে জানি না,’ অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর এবারে মুখ খুলল সুজন, ‘কিন্তু নিতাই বলে, প্রতিদিন রাতে ওর মিষ্টির দোকান বন্ধের কিছুক্ষণ আগে আচমকা কিছু লোক এসে হাজির হয়। লোকগুলো ছয় ফুট কিংবা তারও বেশি লম্বা। ওরা দোকানে ঢুকেই একগাদা মিষ্টির অর্ডার দেয়। অপ্রয়োজনীয় একটা কথাও বলে না। মিষ্টি কেনা হয়ে গেলে দাম চুকিয়ে দিয়েই যেন বাতাসে মিলিয়ে যায়- এতই দ্রুত এদের চলাফেরা! নিতাই বলে, এরা নাকি জিন, আসে মানুষের ছদ্মবেশ ধরে। মিষ্টি খুব পছন্দ করে এরা। সাধারণত শনি আর মঙ্গলবারেই বেশি আনাগোনা লক্ষ করা যায় এদের।’
সুজনের ছেলেবেলার বন্ধু নিতাইয়ের সঙ্গে আমাদের সবারই কম-বেশি বন্ধুত্ব আছে। শান্তিনগরের মোড়েই ওর মিষ্টির দোকান- দোকানের নাম ‘মিষ্টি মুখ’।
‘শোন, সুজন,’ শাকীল বলে উঠল এবার, ‘লোক মুখে শুনেছি, জিনেরা নাকি অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী। যদি তাই হবে তা হলে এই রাত বিরেতে মানুষের দোকানে এসে মিষ্টি কেনা কেন! নিজেরাই তো ইচ্ছে করলে হাজারো রকমের মিষ্টি তৈরি করে নিতে পারে!’
সুজনের কণ্ঠে এবারে খানিকটা ক্ষোভ প্রকাশ পেল যেন। ‘এসব ঘটনার সত্যি-মিথ্যা জানি না। কিন্তু নিতাইকে তো তোরা সবাই ভাল করে চিনিস। বাজে কথা বলার ছেলে ও নয়। আর যদি চাস তো একদিন রাতের বেলায় ওর দোকানে চল। ঘটনার সত্যি-মিথ্যা নিজেরাই যাচাই করে দেখার সুযোগ পাবি।’
ভূত-প্রেতে বিশ্বাস আছে নাজমুলের। সুতরাং নিতাইয়ের দোকানে জিনদের আনাগোনার ব্যাপারটা এককথায় মেনে নিল সে। শাকীলকে বললাম, নিতাইয়ের দোকানে গিয়ে ব্যাপারটা হাতে-কলমে পরখ করবে কিনা। কিন্তু ও এক কথায় প্রস্তাব নাকচ করে দিল- অত বাজে সময় নাকি ওর নেই। শেষ পর্যন্ত কাজটা আমার ঘাড়েই চাপল। বললাম, ‘ঠিক আছে, সুজন। তুই নিতাইয়ের সঙ্গে কথা বলে একটা দিন ঠিক কর, আর কেউ না গেলেও জিনদের সঙ্গে মোলাকাত করতে আমিই যাব ওর দোকানে।’
কয়েকদিন পর সুজনের দেখা পাওয়া গেল। ও নিতাইয়ের সঙ্গে আলাপ করে এসেছে। আগামী মঙ্গলবার আমাকে দোকানে যেতে বলেছে নিতাই। আজ রবিবার, অর্থাৎ আজ থেকে দু’দিন পরই জিন-রহস্যের আসল ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে! যদিও এসব ব্যাপারে আমার অবস্থান অবিশ্বাসীদের দলেই, তবু মনের মাঝে শিরশিরে একটা অনুভূতির উপস্থিতি স্পষ্ট অনুভব করতে পারলাম। সুজনকে বললাম, ওই দিন আমার সঙ্গে থাকার জন্য। কিন্তু ও ব্যবসার কাজে ঢাকার বাইরে যাবে সুতরাং জিনদের সঙ্গে মোলাকাতের ব্যাপারটা আমাকে একলাই সামলাতে হবে!
মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে পৌঁছে গেলাম নিতাইয়ের দোকানে। ক্যাশ-কাউন্টারে একটার বদলে দুটো চেয়ার। বুঝলাম, ওর পাশেই বসার জায়গা ঠিক করা হয়েছে আমার জন্য। এতে বরং সুবিধেই হবে- অনেকেই হয়তো ভাববে, আমি বোধহয় মালিক পক্ষের কেউ, ক্যাশিয়ারকে চোখে চোখে রাখার জন্যই এই ব্যবস্থা। কথাটা নিতাইকে বলতেই ও তো হেসেই খুন।
ঘড়ি দেখলাম। এগারোটা বাজতে মিনিট দশেক বাকি। এরই মাঝে তিনজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা বেশ কিছু মিষ্টি কিনে নিয়ে গেল। তবে উচ্চতায় এদের কেউই চোখে পড়ার মত নয়- তাই এদেরকে নিয়ে মোটেই মাথা ঘামালাম না। এরকম টুকটাক বেচা-বিক্রি চলতে লাগল আরও কিছুক্ষণ, এবং সোয়া এগারোটার পর দোকানে খদ্দের আসা বন্ধই হয়ে গেল একরকম। সাড়ে এগারোটার সামান্য আগে বেশ জোরে গাড়ি ব্রেক কষার আওয়াজ পাওয়া গেল। বাইরে তাকালাম। অল্পবয়সী স্বামী-স্ত্রী নেমে এল গাড়ি থেকে। মেয়েটির বয়স বড়জোর বিশ আর ছেলেটি পঁচিশের বেশি হবে না। তবে লক্ষ করার মত ব্যাপার হচ্ছে, ছেলেটি লম্বায় ছ’ফুটের চেয়েও বেশি! ছেলেমানুষি কৌতূহল মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। চেয়ার থেকে উঠে শো-কেসের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। ছেলেটির একেবারে গায়ে ঘেঁষে একটা সিগারেট জ্বাললাম। ইচ্ছে করেই লাইটারের শিখা বাড়ালাম, কমালাম বেশ কয়েকবার। কিন্তু ছেলেটির মাঝে কোন ভাবান্তর লক্ষ করলাম না- ওদিকে আমার কাণ্ড দেখে মুখ টিপে টিপে হাসছে নিতাই। যাহোক, ওরা কিছু মিষ্টি কিনে গাড়িতে গিয়ে উঠল।
এখন রাত এগারোটা পঁয়ত্রিশ। ভেতরে ভেতরে অধৈর্য হয়ে উঠেছি। নিতাইকে বললাম, ‘আজ বোধহয় কপাল মন্দ আমাদের। ‘তেনাদের’ পদধূলি পড়বে বলে তো মনে হচ্ছে না।’
‘আমাদের আরও কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে,’ বলল নিতাই, ‘সাধারণত শনি ও মঙ্গলবারে তারা আসরেই।’
খুব বেশিক্ষণ আর প্রতীক্ষায় থাকতে হলো না। ঘড়িতে রাত পৌনে বারোটা বাজার একটু পরেই হঠাৎ কোত্থেকে যেন বেশ কজন লোক এসে হাজির। লম্বায় এদের কেউই ছ’ফুটের কম হবে না। পরনে আলখেল্লা এবং সবার মুখেই চাপ দাড়ি। সংখ্যায় এরা মোট ছ’জন। লোকগুলো দোকানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে চোখ টিপল নিতাই— অর্থাৎ মেহমানরা এসেছেন! লোকগুলো দোকানে ঢুকেই অন্য কোন কথা না বলে ইশারায় বেয়ারাদের ডেকে মিষ্টির পরিমাণ বলে যেতে লাগল। লক্ষ করলাম, দোকানের বেয়ারারাও এদের আচরণের সঙ্গে বেশ অভ্যস্ত। তারা কোন কথা না বলে মিষ্টি বাক্সে ভরতে লাগল। এমন সময় হঠাৎ ইলেকট্রিসিটি চলে গেল; অবশ্য পনেরো-বিশ সেকেন্ড পরেই আবার জ্বলে উঠল বাতি। ভেতর থেকে কে যেন ইমার্জেন্সী ল্যাম্প এনেছিল, সেটা আর জ্বালানোর প্রয়োজন পড়ল না। এদিকে বেয়ারারা মিষ্টির প্যাকেটগুলো বেঁধে পলিথিনের ব্যাগে ঢোকাচ্ছে। কারেন্ট চলে যাবার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র মিনিট খানেক পেরিয়েছে। অথচ আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলছে, এই সামান্য সময়টুকুর মধ্যে পুরো দোকানটায় কিছু একটা ঘটে গেছে। কিন্তু কী ঘটেছে, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। যাক। লোকগুলো কাউন্টারে বিল মেটাতে এলে আমি আগের কৌশল প্রয়োগ করলাম। লাইটারের শিখা দেখে সামনের লোকটি একটু যেন থমকে দাঁড়াল। কিন্তু তা মুহূর্তের জন্য। লোকগুলো আর দেরি করল না। কিছু ভাঙতি টাকা ফেরত নিয়ে চোখের পলকে মিষ্টির প্যাকেটসহ দোকান থেকে বেরিয়ে গেল। আমি উঠে গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ালাম। ওরা রাস্তা দিয়ে এত দ্রুত হেঁটে যাচ্ছিল যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। কোন মানুষের পক্ষে এভাবে হাঁটা প্রায় অসম্ভব। আরও একটা ব্যাপার লক্ষ করে কেমন যেন খটকা লাগল। ওরা দোকানে ঢুকেছিল মোট ছ’জন, কিন্তু বেরিয়ে যাবার সময় লক্ষ করলাম সংখ্যায় ওরা পাঁচজন। তা হলে আরেকজন গেল কোথায়! নাকি কারেন্ট চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেটে পড়েছে! ব্যাপারটা নিতাইকে বললাম। ও মুখে কিছু না বলে শুধু বিজ্ঞের মত হাসল। এদিকে ঘড়ির কাঁটা সোয়া বারোটা ছুঁই ছুঁই করছে। নিতাই আমাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাইল। আমি আপত্তি করলাম না- যদিও ওর দোকান থেকে আমার বাড়ি রিকশায় বড়জোর তিন মিনিটের রাস্তা, তবু এত রাতে একা একা বাড়ি ফেরা উচিত হবে না। ঠিক হলো, ও রিকশা করে আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আবার দোকানেই ফিরে যাবে। আজ রাতে দোকানেই থেকে যাবে ও।
রাস্তায় বেরিয়ে চট্ করেই পেয়ে গেলাম রিকশা। দামাদামি না করে উঠে পড়লাম দু’জনে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়ির গেটে এসে থামল রিকশা। রিকশা থেকে নেমে নিতাইকে বিদায় দেব বলে পেছন ফিরে তাকিয়েছি, কিন্তু এ কী! সীটে তো ও নেই! অন্ধকারেই চারদিকে দৃষ্টি বুলাচ্ছি- কিন্তু নাহ্, যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে নিতাই। সংবিৎ ফিরে পেলাম রিকশাওয়ালার ডাকে, ‘সাব, এই আন্ধারে কী খুঁজতাছেন?’
বললাম, ‘যে লোকটি রিকশায় আমার সঙ্গে এল, তাকে কি তুমি নামতে দেখেছ?’
অবাক দৃষ্টিতে লোকটি আমার দিকে তাকিয়ে রইল কয়েক মুহূর্ত। তারপর বলল, ‘হেই মিষ্টির দোকান থিকা আফনে তো একাই আইলেন আমার রিকশায়, অহন আবার লোক পাইলেন কোন্হান থিকা?’
রিকশাওয়ালার সঙ্গে আর কথা না বাড়িয়ে ভাড়া দিয়ে বিদায় করলাম। বাড়িতে ঢুকেই ফোন করলাম নাজমুল আর শাকীলকে। পুরো ঘটনা খুলে বললাম ওদের। শাকীল বলল, ‘নাজমুলকে নিয়ে আমি এখনই তোর ওখানে আসছি। কে জানে নিতাইয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে!’
দশ মিনিট পর গাড়ি নিয়ে শাকীল এসে হাজির। সঙ্গে নাজমুলও এসেছে। দেরি না করে আমরা নিতাইয়ের দোকানের উদ্দেশে রওনা হলাম। ওখানে পৌঁছে দেখি হুলস্থুল কাণ্ড! কয়েকজন কর্মচারী নিতাইকে চৌকিতে শুইয়ে মাথায় পানি ঢালছে। ওদের কাছ থেকে জানা গেল, দোকানের সাথে লাগোয়া বাথরুমটা অনেকক্ষণ যাবৎ ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে একজন কর্মচারী সবাইকে ডেকে নিয়ে আসে এবং দরজা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দরজা ভেঙে ওরা দেখতে পায় বাথরুমের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে নিতাই। এদিকে মাথায় পানি ঢালার পর জ্ঞান ফিরে এসেছে ওর। ও বলল, হঠাৎ ইলেকট্রিসিটি চলে যাওয়ার পর একটা মিষ্টি সুগন্ধ নাকে এসে লাগে। তারপর আর কিছু মনে নেই।
এরপর অনেকদিন কেটে গেছে। নাজমুল আমার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে জিন- ভূতের অস্তিত্বের ব্যাপারে আরও জোরেশোরে প্রচারে নেমেছে। শাকীলের দৃষ্টি- ভঙ্গিরও পরিবর্তন ঘটেছে। ওই ঘটনার পর থেকে ও আর কখনোই এ ব্যাপারে কোনরকম উচ্চবাচ্য করে না। আর আমার মনোভাবের কথা জানতে চাইছেন? যে ঘটনা সেদিন আমি চাক্ষুষ করেছি, তারপর এ ব্যাপারে বেশি কিছু বলার আছে কি? ইচ্ছে করলে আপনারা আমার মত অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে পারেন। নিতাইকে গিয়ে আমার কথা বললেই ও সব ব্যবস্থা করে দেবে। দোকানটা শান্তিনগর মোড় থেকে সামান্য দক্ষিণে, নাম— ‘মিষ্টি মুখ’।
কাজী সারওয়ার হোসেন
