বিদ্বান বনাম বিদুষী – ২
।। দুই।।
২০১৭ সাল
অফিস-টাইমের লোকাল ট্রেনগুলোতে রোজ সকালে যেন কুম্ভমেলার ভিড়। মফস্বলের স্টেশনগুলো থেকে আকণ্ঠ প্যাসেঞ্জার গিলে ট্রেনগুলো শিয়ালদা- হাওড়ার প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে গাদাগাদা মানুষ ওগরাতে থাকে। এই গিজগিজে মানুষদের ঘর্মাক্ত দেহের অলিগলির ভিতর দিয়ে অভ্যস্ত পায়ে চলে ট্রেনের কামরায় কামরায় উপার্জনের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় কিছু গরীব ফেরিওয়ালা।
হকার গগন ঢালি ভিড় ঠেলেঠুলে আপ বজবজ লোকাল ট্রেনের কামরায় পা রাখল। তারপর বেতার-ঘোষকের মতো গলা গম্ভীর করে বলল, ‘আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করব না। আজ শুধু দশটা, মাত্র দশটা শব্দের মানে জিজ্ঞাসা করব। যদি বলতে পারেন, তবে এই পাঁচশো টাকার নোট আপনার।’
বাঁদিকে কয়েকজন প্যাসেঞ্জারের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে উত্তেজিত তর্ক-বিতর্ক চলছিল। গগন হকারের ঘোষণায় সেখানে মুহূর্তের মধ্যে কৌতূহলের নীরবতা ডানদিকে একজন দু’হাত মেলে খবরের কাগজে মুখ ডুবিয়ে পড়ছিল, কাগজ ভাঁজ করে চশমার ফাঁক দিয়ে তার ঔৎসুক্য এবং তার দু’পাশের পরজীবী পাঠকদের চোখের বিস্ময় গগনের নজর এড়াল না। গগন দেখল কামরার মোটামুটি সকলেরই দৃষ্টি তার পাঁচশো টাকার নোটে। গোপীযন্ত্র হাতে রসকলি কপালে বাউল ভিখারিটা পর্যন্ত গান শুরু না করে টাকার দিকে তাকিয়ে। *তাহলে বলি, মন দিয়ে শুনুন,’ এবার গগন থেমে থেমে আওড়াল—‘দশটা শব্দ উপোদকী, ত্বাষ্ট্রী, সুনিষণ্ণক, উদ্দানক, শোভাঞ্জন, সুকন্দক, সিন্ধুবার, মদয়ন্তিকা, তর্বাদক আর রুদন্তিকা।’
মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা আশাহত। কারোর থুতনিতে ভাঁজ, কারোর ভ্রূ কুঞ্চিত। কেউ চশমা রুমালে মুছতে মুছতে মনে করার চেষ্টা করছে। গগন হকার নীরবতা ভাঙল—‘না পারলে লজ্জা পাবার কিছু নেই, পাশের কামরাতেও কেউ পারেনি। বাড়িতে মেয়ে বা বৌ অ্যানিমিক কিনা চেক করাতে চান? ব্লাড টেস্ট করাতে একগাদা পয়সা নষ্ট? শুধু মদয়ন্তিকার রস হাতের তালুতে লাগিয়ে দিন। যদি শরীরে হিমোগ্লোবিন ঠিকঠাক থাকে তবেই হাতে লালচে আভা দেবে, না হলে দেবে না। এখনো রাজস্থানের গ্রামে বদ্যিরা এভাবেই হিমোগ্লোবিন চেক করে। একসময় আমাদের এই বাংলাদেশেও করত, কিন্তু আজ—’
‘কিন্তু, মদয়ন্তিকার মানেটা কী?’ টোয়েন্টি-নাইনের তাস হাতে একজন অফিস যাত্রী জিজ্ঞাসা করল।
‘বলছি,’ গগন সবজান্তার মতো হাসল। ‘তারপর ধরুন সিন্ধুবার। সিন্ধুবার মানে কী?’ গগন থামল। চারদিকে আবার পরাজয়ের নীরবতা। গগন বলল, ‘বাড়ির জামা-কাপড়, বই পোকায় কাটছে? ন্যাপথলিন তো বিদেশিদের সৃষ্টি, ন্যাপথলিন আসার আগে আমাদের দেশে কি রাজা-জমিদাররা তাদের দামি কাপড়-চোপড় রক্ষা করতেন না? নিশ্চয়ই করতেন। কীভাবে? সিন্ধুবার ব্যবহার করে। যদি পয়সা বাঁচাতে চান তবে সিন্ধুবার—’
‘এই সিন্ধুবার বস্তুটি কোথায় পাব, ভাই,’ একজন হাই-পাওয়ার বাইফোকাল চশমা পরা প্রৌঢ় লোক জিজ্ঞাসা করল। ‘আমার নাতনি ন্যাপথলিন চিবিয়ে ফেলেছিল, বাড়িতে সে কী টেনশন—’
‘বড্ড বোর করছ। এই শব্দগুলোর মানে এবার বলেই ফেল—একজন মাঝবয়সী যাত্রীর দৃষ্টিতে অসহিষ্ণুতা।
‘এই বইটা –, গগন হকার ব্যাগ থেকে কয়েকটা চটি বই বের করল। ‘এখানে সবকটা শব্দের মানে পাবেন এবং কীভাবে পয়সা বাঁচবে সব এখানে লেখা। কিনুন ‘চলতি-চলন্তিকা’—মাত্র বিশ টাকা দাম। তিনটে পঞ্চাশ।’
কয়েকজন প্যাসেঞ্জার বইটা হাতে নিয়ে দেখল, একজন কিনব কি কিনব না দ্বিধায় থেকে বইটা কিনেই ফেলল। বউনির টাকা কপালে ঠেকিয়ে বুক পকেটে ঢুকিয়ে এবার গগন শুরু করল দ্বিতীয় অঙ্ক। সে উচ্চকণ্ঠে বলল, ‘খনা। খনার নাম যে শোনেনি সে বাঙালি নয়। কিন্তু খনার বচনগুলো আমরা ভুলতে বসেছি অথচ খনার বচন আমাদের কত কাজে লাগতে পারে। যেমন এটা
খনা বলে তিথি দেখে খাবে খাদ্য নানা
পূর্ণিমা অমাবস্যায় গুরুপাক মানা
টমেটোতে পেটে অম্ল, যত হোক স্বাদ,
দ্বিতীয়ায় কুমড়োটি খেলে ব্রণ, দাদ
তৃতীয়ায় পটলটি খেলে কষ্ট বাতে
চতুর্থীতে মূলা খেলে গাড়ু হাতে রাতে’
‘আজকালকার সফিস্টেকেটেড মেডিকেশনের যুগে সব কিছু সব সময় খাওয়া যায়। এসব খনার বচন আউটডেটেড, ফুলশার্ট, টাই, আর কালো রোদচশমা পরা একজন যুবক বিরক্ত গলায় বলল।
গগন ঠোঁট চেপে হেসে তার বিরক্তি ঢাকল। কাস্টমারকে চটানো তার ব্যবসায় মানা। তার ওপর এ ইংরাজি বলা কাস্টমার।
‘মান্ধাতা আমলের খনার পদ্যের বইগুলো এবার রদ্দিওয়ালার ঝোলায় ফেলে কাল থেকে কিছু সায়েন্টিফিক বই জোগাড় করে নিয়ে আসো,’ যুবকের ভঙ্গিতে অবজ্ঞা।
গগন চুপ করে গেল।
‘কী হল দাদা, চুপ হয়ে গেলেন? খনা বোবা হয়ে গেল?’ পাশের সিটে বসা তার সহকর্মী আরেকজন টাই পরা যুবক গা-জ্বালানো হাসি হাসল। ‘বরাহমিহির খনার জিভ কেটে দিল বুঝি?’
কামরায় অনেকে হেসে উঠল। বিনি পয়সার রঙ্গ-তামাশা। গগন বুঝল বিক্রির দফারফা। মনটা খারাপ হয়ে গেল গগনের। বইগুলো চুপচাপ ব্যাগের ভিতর ঢোকাতে লাগল।
জানলার পাশে বসে একজন বৃদ্ধ বিরক্ত মুখে সব কিছু দেখছিল। এবার সে বলল, ‘গরীব মানুষ বই বিক্রি করছে, ওর জীবিকায় কেন বাধা দিচ্ছেন ভাই? আপনারা তো মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। এও তো পেশায় আপনাদের মতোই
একজন সেলসম্যান। না হয় আপনাদের মতো অত রোজগার করে না।’
‘আপনি কেন আমাদের সঙ্গে তুলনা করছেন?’ যুবক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলল। মামুলি হকারের সঙ্গে টাই পরা সেলসম্যানকে এক পঙক্তিতে বসানোতে ওর ইগোতে খুব লেগেছে। ‘একদিকে ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো মেডিসিনের রিসার্চে কোটি কোটি ডলার ঢালছে, আর এদেশে টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরিতেও এই খনা-ফনার সব অশিক্ষিত গেঁয়ো কুসংস্কার
‘খনা অশিক্ষিত গেঁয়ো?’ বৃদ্ধ ফোঁস করে উঠল। ‘আর খনাকে অসম্মান করে ‘খনা-ফনা’ বলা হচ্ছে!’ বৃদ্ধের কণ্ঠস্বর হঠাৎ সপ্তমে। ‘জিভ টেনে ছিঁড়ে নেব
বুড়োর অকস্মাৎ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে টাই পরা স্মার্ট যুবক ঘাবড়ে গেল। বৃদ্ধ উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়াচ্ছিল, তাকে পাশের একজন অল্পবয়সী ছাত্র সামলাল—‘দাদু, এদের এই সামান্য কথায় এত উত্তেজিত হচ্ছেন কেন?’
‘সামান্য কথা!’ বুড়ো এবার ঝাঁঝিয়ে উঠল। ‘একজন বাঙালি মেয়েকে অত্যাচার করে তার জিভ কেটে ফেলল, রক্তপাতে তার মৃত্যু হল, অথচ দেখ তার জন্য সহানুভূতিটুকুও নেই! তা নিয়ে ঠাট্টা চলছে! ‘খনা-ফনা’ বলছে—ছিঃ!’
‘আমি কি অন্যায় কিছু বলেছি? বিদেশি কোম্পানিগুলো রিসার্চের জন্য—’
‘আমাকে বিদেশি কোম্পানির রিসার্চ দেখাতে এসো না!’ বুড়ো এবার তেড়েফুঁড়ে উঠল। ‘ছোটবেলা থেকে মা ঠাকুমার মুখে শুনে আসছি ব্ৰাহ্মি শাক খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে, আজ শুনি ইউরোপের এক দু’দিনের ওষুধের কোম্পানি সেই ব্রাহ্মির ওষুধের পেটেন্ট নিয়ে বলছে ওটা নাকি তাদের আবিষ্কার! তারপর হলুদ? তিন হাজার বছর ধরে দারুহরিদ্রা আমাদের দেশে কত রোগে যে ব্যবহার হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই, এখন শুনছি কোন ফরেন কোম্পানি পেটেন্ট নিয়ে বলছে এটাও তাদের আবিষ্কার। কোট-টাই পড়ে ওদের বিলিতি ওষুধ বিক্রি করছ করো, তাই বলে আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্বন্ধে মনে কেন এত অবজ্ঞা?’
ডেইলি প্যাসেঞ্জাররা বচসাটা বেশি দূর গড়াতে দিল না। তারা বুড়োকে শান্ত করল। মাঝেরহাট জংশন স্টেশন এল, গগন হকার ঝোলা-ব্যাগ সামলে প্ল্যাটফর্মে নামল। জংশনে ট্রেনটা ক্রসিংয়ের জন্য দাঁড়িয়ে। দু’পা এগোতেই কে যেন পিছন থেকে বলল ‘মদয়ন্তিকা হল মেহেন্দি, সিন্ধুবার হল নিসিন্দা, উপোদকী হল পুঁইশাক, ত্বাষ্ট্রী হল থানকুনী পাতা—’
গগন ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখল। সেই বুড়ো। বুড়োর জ্ঞান দেখে চমৎকৃত হল সে। ‘আমার জন্য আপনি ঝামেলায়-’
‘খনার বচনের পদ্যটা তুমি লিখেছ?’ বুড়ো গগনের কথায় আমল না দিয়ে জিজ্ঞাসা করল।
‘হ্যাঁ স্যার,’ গগন স্বীকার করল। ‘এই খনার বচন বইটার অনেকগুলো পদ্যই আমার লেখা।’
‘খনার বচন তোমার লেখা?’
‘হ্যাঁ স্যার। শুধু খনা কেন, এই যে কালিদাসের হেঁয়ালি সেখানেও আমার অবদান আছে—’
‘আচ্ছা!’ বৃদ্ধের চোখ কপালে। কেউ যে এতটা বদ হতে পারে তা যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না বৃদ্ধের। ‘নিজের লেখা পদ্য খনার বচন বলে চালাচ্ছ? লজ্জা করে না?’ বৃদ্ধ খুব রেগে গেল।
‘আজ্ঞে, খনার নামের জন্যই তো তাও কিছু বই বিক্রি হয়,’ গগন বলল। ‘বাঙালির সেন্টিমেন্ট ভাঙিয়েই খাই—’
‘তাই বলে বিদুষী খনার নামে মিথ্যা কথা লিখবে?’ বুড়োর রাগী দৃষ্টি। আর তাছাড়া টমেটোতো পর্তুগিজরা প্রথম এদেশে নিয়ে এল ষোড়শ’ শতাব্দীতে, আর খনা সেই ষষ্ঠ শতাব্দীর। উল্টোপাল্টা একটা কিছু লিখলেই হল!’
গগন বোকা বোকা হাসি দিয়ে মাথার চুলে আঙুল চিরুনি করতে লাগল, তারপর ক্লান্ত গলায় বলল, ‘স্যার, দেখলেনই তো, আজকাল খনার নামেও বই বিক্রি হয় না। বাঙালির জ্যোতিষে একদম বিশ্বাস নেই। খনার জ্যোতিষের বচনগুলি বললে সবাই বলে এসব কুসংস্কার, কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।’
‘বৈজ্ঞানিক ভিত্তি?’ এবার বুড়ো গোলগোল চোখ করে বলল, ‘যারা বলছে তাদের ক’জন সত্যি সত্যি জ্যোতিষশাস্ত্র পড়েছে? না পড়েই বুঝে গেল কুসংস্কার? সব ‘মুখেন মারিতং জগৎ’ পণ্ডিত। ধর্মের নামে আর রাজনীতির নামে কত্ত অবৈজ্ঞানিক কাজকম্মো রোজ রোজ হয়ে চলেছে এই খোদ বাংলায়—তার বেলা কিছু নেই, দোষ যত জ্যোতিষের বেলা!’
‘কিন্তু এটাও তো ঠিক যে চারদিকে কত ভুলভাল জ্যোতিষী উল্টোপাল্টা পাথর দিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে পয়সা বানাচ্ছে,’ গগন নিজেও জ্যোতিষীদের পছন্দ করে না, তাই বলেই ফেলল কথাটা।
‘যদি কেউ বেসুরে হেঁড়ে গলায় রবীন্দ্রসংগীত গায়, তবে কি সেটা রবীন্দ্রনাথের লেখার দোষ? বলো?’
বৃদ্ধের চোখের দৃষ্টি অস্বাভাবিক। গগন ভয়ে ভয়ে বৃদ্ধের কথায় সায় দিল ‘আজ্ঞে না, রবীন্দ্রনাথের দোষ কেন হবে?’
‘তাহলে? সেই একই রবীন্দ্রসংগীত যখন ভালো গায়ক গায় তখন গান একেবারে বুকের ভিতর ঢুকে যায়। জ্যোতিষী খারাপ হলে জ্যোতিষশাস্ত্রকে কেন দোষারোপ করবে? কত ভালো ভালো জ্যোতিষী ছিল জানো আমাদের এই বাংলায়। আর খনার কথা বলছ? যদি ডিঙিবাদলের বেহুলা জ্যোতিষীর ‘বেহুলার খনা’ পুঁথিটা এদের পড়াতে পারতাম তবে এরা বুঝত খনা কীরকম বিদুষী জ্যোতিষী ছিল। এসব আজকের বাঙালির দৃষ্টির বাইরে চলে গেছে।’
‘কোন পাবলিশার বইটা ছেপেছে স্যার?’
‘নাঃ। কোনো পাবলিশার রাজিই হল না খরচা করতে। আমারও তো সে সামর্থ্য নেই যে নিজের পয়সায় বই ছাপি। ছেলেটাকে বললাম কিছু টাকা দে, ও রাজি হল না। বলল এসব বই আজকালকার ছেলে-মেয়েরা নাকি পড়ে না।’
‘বেহুলা! মানে মনসামঙ্গলের লখীন্দর বেহুলা?’
‘না এ বেহুলা অন্য এক বিদুষী। ডিঙিবাদল গ্রামে থাকত—’
‘ডিঙিবাদল!’ এরকম গ্রামের নাম গগন কোনোদিন শোনেনি। ‘অদ্ভুত নাম তো গ্রামের!’
‘ঘটনাটাই অদ্ভুত,’ বৃদ্ধ এবার চোখ গোলগোল করে বলল, ‘আকাশ থেকে শ’য়ে শ’য়ে ডিঙির বৃষ্টি হয়ে গোটা গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেল। বুঝলে? তাই তো গ্রামের নাম ডিঙাডুবি থেকে ডিঙিবাদল হয়ে গেল।’
‘ডিঙির বৃষ্টি! মানে নৌকার বৃষ্টি?’ গগনের এবার সন্দেহ হল সকাল সকাল উন্মাদের পাল্লায় পড়ল না তো সে?
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ। উপোদকী, সিন্ধুবার, সুকন্দক—এরকম কঠিন কঠিন শব্দের মানে তুমি জান, অথচ ডিঙি মানে যে ছোট নৌকা সেটা বলে দিতে হবে? সেই ডিঙির বৃষ্টিতে কত মানুষ ডিঙি চাপা পড়ে মরল।’
বাসে চাপা পড়ে মৃত্যু, লরি চাপা পড়ে মৃত্যু এসব শুনেছে গগন। কিন্তু আকাশ থেকে বাদলের মতো ঝরে পড়া ডিঙি চাপা পড়ে মৃত্যু! গগন একটা ঢোঁক গিলে ফেলল।
নাকে নেমে আসা চশমাটা উপরে তুলে গগনের দিকে ফোকাস করে চোখ কুঁচকে বৃদ্ধ বলল, ‘তুমি এত কঠিন কঠিন শব্দ শিখলে কোথা থেকে? তোমাকে তো বেশ শিক্ষিত মনে হচ্ছে।’
‘না না,’ গগন বিব্রত হাসি হাসল। ‘আমার বিদ্যে ক্লাস নাইন পর্যন্ত। আমি কোথা থেকে এত কঠিন কঠিন শব্দ শিখব। চোরিয়ালে গোপাল কবিরাজের দোকানে পুরিয়া বানাতাম। তিনিই আমাকে কিছু কিছু কবিরাজি শব্দ শিখিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তো দেহ রাখলেন। পেট চালাবার জন্য পেশা বদলে ট্রেনে ট্রেনে ঘুরছি আর ওই শেখা শব্দগুলোকে ব্যবহার করি লোকের কাছে বই বিক্রির জন্য। কিন্তু আপনি এত সব জানলেন কী করে? আপনি কি কবিরাজ?’
‘আমার দশ পুরুষ কবিরাজ ছিল।’
‘ওঃ, নমস্কার, কবিরাজমশাই।’
‘ছিলাম, এখন নই, চিকিৎসা ছেড়ে দিয়েছি। এখন সখের জ্যোতিষচর্চা করি, বৃদ্ধ প্রতিনমস্কার করল।
‘ওঃ, কবিরাজি ছেড়ে দিলেন?’
‘বয়স অনেক হল, আর ভালো লাগে না, তাছাড়া হাত কাঁপে, খলে মধু- মকরধ্বজ বাটার মতো জোর আর আঙুলগুলোতে নেই। ইচ্ছেও নেই,’ দীর্ঘশ্বাস ফেলল কবিরাজ। ‘একটাই ছেলে, সেও চলে গেল আমেরিকা।’
‘আমেরিকা! বাব্বা!’ গগন সম্ভ্রমের সঙ্গে বলল।
বুড়ো বলল, ‘আমেরিকার একটা নাম করা ওষুধের কোম্পানিতে কাজ করে সে। আয়ুর্বেদের ভৈষজ্যবিষয় এবং রসতান্ত্রিক চিকিৎসার অনেক প্রাচীন সমীকরণ-তথ্য ছিল আমার কাছে লেখা। ও গবেষণা করবে বলে সব নিয়ে চলে গেল। ঠিকই করেছে! আমি তো বুড়ো হয়েছি। এসবে তো তারই উত্তরাধিকার।’ বিদেশে বসে এদেশের আয়ুর্বেদের গবেষণা? এদেশেই করতে পারতো?’
‘টাকা!’ বুড়োর চোখ যেন বিরক্তি বমন করল। ‘শুনলে না ট্রেনে ছোঁড়াটা বলল যে বিদেশে ওষুধের কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা খরচা করে আয়ুর্বেদের গবেষণার জন্য? ক’দিন পর হয়তো দেখবে আমাদের খনার বচনেরও একটা পেটেন্ট নিয়ে নেবে ওই ইউরোপ-আমেরিকা।’
গগন রসিকতা ভেবে হাসতে গিয়েও থমকে গেল। গগনকে অবাক করে দিয়ে প্ল্যাটফর্মে ঘেন্নায় থুঃ করে থুথু ফেলল বুড়ো। তারপর বিড়বিড় করে কী বকতে বকতে সামনে হাঁটা লাগল। গগন হতবাক হয়ে ভাবল পাগল নাকি!
পিছন থেকে কে যেন গগনের পিঠে হাত রাখল। পল্টু-হকার। গলায় চানাচুর,
সল্টেড বাদামের প্যাকেটের লম্বা মালা। পল্টু বলল, ‘অ্যাই গগনদা, বিশু বলল, ‘তোমার কম্পার্টমেন্টে নাকি কে একজন বাওয়াল করেছে?’
‘আরে ছাড়ো পল্টু,’ গগন ব্যাপারটা উড়িয়ে দিতে চাইল।
‘ছাড়ব কেন? হকারদের পেটে কেউ লাথি মারবে আর আমরা ছেড়ে দেব? আমাদেরও ইউনিয়ান আছে—’
‘কাস্টমার হল লক্ষ্মী। ওদের চটিয়ে কী লাভ?’ গগন পল্টুকে শাস্ত করল। আর তাছাড়া, ওই যে সামনের ওই বুড়ো ভদ্রলোককে দেখছো, ও ওদের উচিত জবাব দিয়েছে।’
‘কোন বুড়ো? ওই যে যাচ্ছে লোকটা? আরিব্বাপস!’
‘ওকে চেনো তুমি?’
‘চিনি মানে? আমাদের সন্তোষপুরের ধন্বন্তরি কবিরাজ। বাপ ঠাকুরদার কবিরাজি জ্ঞান আর জ্যোতিষ মিশিয়ে ওষুধ দিয়ে ভালো পসার করেছিল। তবে এখন মাথার কয়েকটা ইস্ক্রু একটু ঢিলে হয়ে গেছে। ওর ছেলে তথাগত আমার বন্ধু ছিল।’
‘ছিল মানে? এখন নেই?’
‘এক ক্লাসে পড়তাম। আমি তো ইস্কুলে ক্লাস এইটে দু’বার গাড্ডা মারার পর ইস্কুল ছেড়ে দিলাম, আর তথাগত হেব্বি ব্রেনি স্টুডেন্ট ছিল। প্রত্যেক বছর ফার্স্ট। ন্যাশনাল স্কলারশিপ পেল। তারপর কলেজে ফাটাফাটি রেজাল্ট করে প্লেনে করে আমেরিকা চলে গেল। সেও অবশ্য গুরুদেব ছেলে, আজ ওর বাপের এই অবস্থা ওরই জন্য।’
‘কেন?’
জিঞ্জিরা মোড়ে একটা আয়ুর্বেদিক ওষুধের কারখানা আছে। অনেক পুরোনো। আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। একসময় ওদের ওষুধ বাজারে খুব ভালো চলত। রমরমা ব্যবসা, কলেজে পড়তে পড়তে ওই কারখানার বুড়ো মালিকের সুন্দরী নাতনিটিকে পটিয়ে ফেলল তথাগত, আর ওদের ওই আয়ুর্বেদিক কারখানাতে চাকরি নিল। তারপর লোকে বলে ও নাকি ভাবী শ্বশুরবাড়ির পয়সাতে বিলেত চলে গেল।’
‘ভাবী শ্বশুরবাড়ির পয়সায়?’
‘বাপকে তো দেখলে, একটা সামান্য কবিরাজ, বাপের অত সামর্থ্য ছিল না। ছেলেকে যে পড়াশোনা শিখিয়ে কলেজ পাশ করিয়েছে এটা কী কম খরচের! তাই ধান্ধা নিয়ে বড়লোকের মেয়েটাকে ইউজ করেছিল তথাগত। তারপর আমেরিকা পৌঁছে কিছুদিন পর প্রেমিকাকে ল্যাং মারল। ওখানে নাকি একটা আমেরিকান মেয়েকে পটিয়েছে। শুনলাম ফেসবুকে ফটো পোস্টায় দু’জনের একসঙ্গে।’
‘বলো কী! এদেশের প্রেমিকাকে ল্যাং মেরে দিল?’ গগন বলল। ‘হারামি তো!’
‘ওর হারামিপনার তো এখনো কিছুই বলিনি। তথাগতের বাপের কাছে কবিরাজি জড়িবুটি সম্বন্ধে লেখা কয়েকটা দামি পুঁথি ছিল। বুড়োর বাপ-ঠাকুর্দার থেকে পাওয়া। আরো আগেকার পুঁথি-টুথি নাকি। পুঁথিগুলো বুড়োটা নাকি যখের ধনের মতো আগলে রাখতো। বিলেতে যাওয়ার আগে তথাগত বাপকে বলল ওগুলো কি ডিম পাড়ার জন্য তোমার বিছানার নীচে তোরঙ্গে রেখেছ? আমায় দাও, আমি বিদেশে গিয়ে এসব নিয়ে রিসাচ করব।’
‘গুরুদেব ছেলে তো!’
‘এখনো তো আসলটাই শোননি। বুড়ো সাফ মানা করে বলল, তোমার মতলব আমি বুঝেছি। এগুলো আমাদের দেশের ঐতিহ্য, এগুলো বিলেতের ওষুধের কোম্পানিতে বিক্রি করবে? বিদেশে না, রিসাচ করতে হলে দেশে ফিরে এসে রিসাচ কর। তথাগত তখন খচে গিয়ে বলল এদেশে রিসাচ-ফিসাচ করা অসম্ভব। বাপও অনড়। তখন তথাগত থ্রেট করে বলল আমি তাহলে এবাড়িতে আর কক্ষনো পা রাখব না। বাপও কম জেদি না, কিন্তু ছেলে যে একটা ঢ্যামনা সাপ, সেটা বুড়ো জানতো না। বুড়ো যখন টের পেল যে তার মূল্যবান ডায়েরিগুলোর বেশ কয়েকটা হাপিস, তার গুণধর ছেলে বাপকে ছোবল মেরে তখন আমেরিকার এরোপ্লেনে বসে গেছে।’
‘কী ডেঞ্জারাস!’
‘গগনদা, কী আর বলব, বুড়ো এত বড় ধাক্কাটা সামলাতে পারল না। সেই রাত্তিরেই স্ট্রোক হল। আমরা ধরাধরি করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পিজিতে নিয়ে গেলাম। বুড়ো বেঁচে গেল কিন্তু মানুষটার মেরুদণ্ড কেমন ঝুঁকে গেল।
‘ছেলে আর ফেরেনি এদেশে? অন্তত বুড়ো বাপকে দেখতে?’
‘ফিরেছিল গতবছর। তবে বাপকে দেখতে না। অন্য কাজে। বাড়ি আসেনি। কলকাতার হোটেলে এসে উঠেছিল। হঠাৎ এস্প্ল্যানেডে দেখা। বললাম—আরে গুরু তুমি! কবে এলে? আমাকে হেসে পাশ কাটাতে চাইল। আমি কি ছেড়ে দেওয়ার পাবলিক নাকি! বললাম গুরু, ইম্পোটেড মাল খাওয়াতে হবে।’
‘খাওয়ালো?’
‘ছোটবেলার পুরোনো বন্ধু তো, রিকোয়েস্ট ফেলতে পারল না। বলল রাতে আয়, স্কচ খাওয়াব। স্কচ-টচ তো বাপের জন্মে চোখেই দেখিনি। ভদ্রতা করে আমাদের ডাকঘরের হাফিজের দোকানের পাঁঠার মেটের ঝাল নিয়ে ওর হোটেলে গেলাম। গ্লাসে অল্প একটুখানি মাল ঢেলে বলল খা। আমি বললাম, শালা, হোমিপেথিক ওষুধ দিচ্ছিস নাকি? আরো মাল ঢাল। নিট মারলাম এক গ্লাস স্কচ। তারপর নেশাটা জমে উঠল, মুখের কন্টোল কমে গেল, বললাম গুরু, তুমি দেশে ফিরে এসো। তোমাদের মতো বিলিয়ান্ট ছেলেরা সবাই চলে গেলে কী করে হবে। ও বলল—রিসাচ-ফিসাচ কী সব করছে নাকি ওদেশে, আমাদের এদেশে নাকি বড় পলিটিক্স। আমি এইট ফেল, রিসাচ-ফিসাচ বুঝি না, কিন্তু পলিটিক্সটাতো বুঝি। বললাম চাড্ডি, কংগ্রেস, তিনোমূল, লেলিন- ফেলিনদের সঙ্গে দশ বছর করে খাচ্ছি, অনেক লিডারদের সঙ্গে ওঠাবসা আছে, তুই চলে আয়, দাদাদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেব। তোরা ব্রেনি স্টুডেন্ট, তোদের লুফে নেবে। কোনো একটা বড় জায়গায় ঠিক ফিট হয়ে যাবি।’
‘কী বলল সে?’
‘তথাগত প্রথমে উত্তর দিল না, দু-আঙুলে ঝাল মেটে তুলে মুখে পুরল। চিবোতে চিবোতে চুপচাপ গ্লাসে একটা চুমুক মারল। তারপর উদাস হয়ে বলল—নারে, আসা হবে না। শুধু বাবা আর পিসির টানেই দেশে আসি। তবে দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবলে খুব দুঃখ হয়। বুঝলাম ফরেনের আঠা মুছে মালটার এদেশে ফেরার কোন ইচ্ছাই নেই, বাকিটা হল সাকসেসফুল মানুষের দুঃখবিলাস। ফোকোটে মাল খাওয়াচ্ছে তাই বেশি মুখ খুললাম না। শুধু বললাম—গুরু, আমাদের ভবিষ্যৎ-টবিষ্যৎ নিয়ে দুঃখ কোরো না, ওখানে যেমন চালাচ্ছ চালিয়ে যাও, আমরা এদেশের লোকেরা সুখে দুঃখে ঠিক বেঁচে থাকব। তুমি বাপের একমাত্র ছেলে, তাই মাইরি কিছু ছুটি-ছাটা জমিয়ে রেখো, যাতে বাপ মরলে বাপের মুখের আগুনটা তোমার পাশের বাড়ির বিশুকে না দিতে হয়।’
‘তুমি এটা বলতে পারলে?’
‘মালের ঘোরে বলেছি। কিন্তু তখন বুঝিনি বাপের টান-ফান সব ঢপ। পরে রমেন মোক্তারের থেকে জানলাম শালা এমন হারামি যে আগের প্রেমিকার কোম্পানির কী একটা ঘাপলা বের করে নাকি ওর আমেরিকার কোম্পানিকে দিয়ে প্রেমিকার কোম্পানির নামেই কোর্টে কেস ঠুকে দিয়েছে, আর সেই কেসের কাজেই সে ব্যাটাচ্ছেলে ইন্ডিয়া এসেছে। কী হারামি ভেবে দেখ!’
‘তথাগতের বাপ জানে এসব?’
‘কে জানে? বুড়ো তো কারোর সঙ্গে একদম মেশেটেশে না। বুড়ি অনেক আগেই ফেঁসেছে। বুড়োর এক আধপাগল বোন আছে। বিয়ে হয়নি। তারও বয়স কম না। সেও নাকি এমন বিলিয়ান্ট ছিল যে পড়তে পড়তে মাথাই নাকি খারাপ হয়ে গেছিল। মেন্টাল পেশেন্ট। ডাক্তার দেখিয়েও শুনেছি কাজ হয়নি। আমাদের পিন্টে নাকি ওই পাগলি বোনকে এই সেদিনও দেখেছে শোভাবাজার স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ভিখারি বাচ্চাদের সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে চু-কিৎ-কিৎ খেলছে। এমনি বাজারে এসে দোকানিদের সঙ্গে যখন কথা বলে তখন দূর থেকে অবশ্য নর্মাল লাগে। সেও কারোর সঙ্গে মেশেটেশে না। স্টেশন রোডের সাইবার কাফেতে সন্ধ্যায় সময় কাটায়। বুড়োর কাছেই থাকে। ওই বোনই বুড়োর দেখভাল করে।’
পল্টু লাইনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ডাউন গাড়ি ঢুকছে—চলি গো।’
প্ল্যাটফর্মে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল গগন। অনেক দূরে শ্লথগতিতে হেঁটে চলছে ন্যুব্জ ধন্বন্তরি কবিরাজ। প্রাচ্যের বৃদ্ধ জ্ঞানবৃক্ষের বীজ থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পাশ্চাত্যের কোনো এক ল্যাবরেটরির প্রাচুর্যের আঁতুড়ঘরে জন্ম নিচ্ছে ঔষধের অঙ্কুর। আর সে মুহূর্তে গগনের মনে এক অদ্ভুত চিন্তার উদয় হল। গগনের মনে হলো যে, সে যেমন ট্রেনে ট্রেনে ঘুরে ফেরি করে বেড়ায়, তেমনি ধন্বন্তরি কবিরাজের ব্রিলিয়ান্ট ছেলের মতো আমাদের দেশের কত বিদ্বান মানুষ হয়তো আমাদের প্রাচীন গবেষণা বিদেশে ওষুধের কোম্পানিগুলোতে ফেরি করে বেড়াচ্ছে টাকার জন্য।
এই বুড়ো মানুষটার জন্য বড় কষ্ট হল গগনের। গগন বিড়বিড় করে বলল, ‘শালা, কেউ বেশি শিক্ষিত, কেউ কম শিক্ষিত—জীবনের রেলগাড়িতে আমরা সকলেই খদ্দের-সন্ধানী ফেরিওয়ালা, ফারাকটা শুধু বেসাতির।’
গগনের মনে এক অসম্ভব জেদ জন্ম নিল সে ধন্বন্তরি কবিরাজের ঝুঁকে পড়া শিরদাঁড়া আবার ঋজু করে দেবে। যে লোকটা এক কামরা মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা রাখে, যে লোকটা খনার অপমানের প্রতিবাদে ‘জিভ টেনে ছিঁড়ে নেব’ এ কথা উচ্চস্বরে বলার ক্ষমতা রাখে, তার শিরদাঁড়া এত সহজে বেঁকে যেতে পারে না। গগন প্রতিজ্ঞা করল সে ধন্বন্তরি কবিরাজকে আবার জাগিয়ে তুলবে, আর কিছু না পারুক, সে যেভাবেই হোক কবিরাজের অনেক আশার ‘বেহুলার খনা’ বই ছাপাবে। আর সেই বই সে নিজে ট্রেনে ট্রেনে ফেরি করে পৌঁছে দেবে পরবর্তী প্রজন্মের বাঙালির কাছে। কিন্তু বইতে কি সত্যি আকাশ থেকে নেমে আসা ডিঙির বৃষ্টি লেখা? তা কি সম্ভব?
