Course Content
সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
0/22
সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

সায়েবদের গান্ধি

১ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার ব্যয়ে নির্মিত এবং ১ কোটি ২০ লক্ষ ডলারে বিজ্ঞাপিত স্যার অ্যাটেনবরো পরিচালিত গান্ধি নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র সমালোকপের বিচারে ১৯৮২ সালের সর্বশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বলে পুরস্কৃত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে ছবিটির জন্য প্রচুর দর্শকের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি পৃথিবীর সর্বকালের একজন বিরল ব্যক্তিত্ব, চার দশকেরও বেশি সময় জুড়ে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসসৃষ্টিতে তিনি বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করে গেছেন। এর মধ্যে কখনো কখনো এখানকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে তিনি মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন। কোনো সিনেমায় প্রদর্শিত না হলেও বাংলাদেশেও গান্ধি অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং ভি.সি.আর.-এর কল্যাণে অনেকে ছবিটি দেখেছেন এবং এর ওপর কয়েকটি মন্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমান শতাব্দীর প্রথম ও দ্বিতীয় দশকে আইনজীবী হিসাবে গান্ধি দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালে সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়দের স্বার্থ সংরক্ষণ আন্দোলন পরিচালনা থেকে শুরু করে ১৯১৪ সালে তাঁর ভারত-প্রত্যাবর্তন এবং এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংস্কারমূলক ও ‘আধ্যাত্মিক’ তৎপরতার পর ১৯৪৮ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হওয়া পর্যন্ত অর্ধ-শতাব্দীকাল সময় হল গান্ধি চলচ্চিত্রের পটভূমি। এই সুদীর্ঘ সময়ে আমাদের উপমহাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়। এই সমস্ত তৎপরতার প্রত্যেকটির সঙ্গে তিনি জড়িত। অনেক আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে তাঁর নেতৃেত্বে, কোনো কোনো আন্দোলনের তিনি বিরোধিতা করেন। কোনো কোনো আন্দোলন সম্পর্কে তিনি নীরব, আবার কোনো-কোনোটি এড়িয়ে গেছেন। নীরব থেকে বা এড়িয়ে গিয়েও গান্ধি তাঁর ভূমিকা পালন করে গেছেন। এই সময়কালে কেবল শৌচাগারে ছাড়া তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত কোনো জীবন নেই। তাঁর খাওয়াদাওয়া, পোশাক, চলাফেরা-জীবনযাপনের সর্বাংশে গান্ধি অপরিহার্যভাবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবনী নিয়ে সৃষ্ট যে-কোনো শিল্পমাধ্যমের ভিত্তি তাই রাজনৈতিক এবং এর বিচারও রাজনৈতিকভাবে হওয়া দরকার।

অ্যাটেনবরোর প্রধান বিবেচনা গান্ধির অহিংসা। হিংসা বা ক্রোধ বা ভালোবাসা বা ভয়ের মতো অহিংসাও একটি মানবিক প্রবৃত্তি। অহিংসা একটি রাজনৈতিক মতবাদ বা দার্শনিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। অহিংসাকে এমনকী আধ্যাত্মিক উপলব্ধি বলে চালানোটাও অসম্ভব কাও। গান্ধির বহুকাল আগে কপিলাবস্তুর যুবরাজ সিদ্ধার্থ অহিংসার বাণী প্রচার করেন, কিন্তু অহিংসা তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল না। অহিংসা ছিল নির্বাণলাভের জন্য অনুসরণীয় পথ। অ্যাটেনবরো অহিংসাকে মনে করেন গান্ধির প্রধান লক্ষ্য বলে। ছবির প্রথম দিকেই দেখি, দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের ওপর শ্বেতকায় শাসকদের নিপীড়নের প্রতিবাদে গান্ধি অহিংসা পদ্ধতিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আয়োজন করেছেন। কিন্তু, সেখানে তিনি কতটা সফল হলেন তার কোনো পরিচয় এই ছবিতে নেই। অহিংসা ব্যাপারটি সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া অ্যাটেনবরোর পক্ষে অসম্ভব, এ সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণাও তাঁর নেই। এ-সম্বন্ধে গান্ধির নিজেরই সামঞ্জস্যপূর্ণ ধারণা কী আচরণের পরিচয় পাওয়া যায় না। দক্ষিণ আফ্রিকায় অহিংসা আন্দোলন পরিচালনা করার সঙ্গে সঙ্গে গান্ধি আর-কিছু তৎপরতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অ্যাটেনবরো সযত্নে সেসব এড়িয়ে গেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বুয়র জাতির বিদ্রোহদমনের জন্য ইংরেজ শাসকদের আক্রমণকালে গান্ধি ইউনিয়ন জ্যাক সমুন্নত রাখার জন্য ইংরেজদের সরাসরি সহায়তা করেন। এই আক্রমণ কি অহিংস ছিল? আরেকটি আফ্রিকান জাতি জুলুদের সঙ্গে ইংরেজদের সংঘর্ষের সময় ইংরেজ সৈন্যদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে তিনি অ্যাম্বুলেন্স কোর গঠন করেন। এমনকী প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজ সৈন্যদের সেবা করার জন্য গান্ধি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বিদেশি বেসামরিক নাগরিকের সেবা গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার চার মাস পর গান্ধি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জীবনে গান্ধি সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে সরাসরি সেবা করতে উৎসাহী ছিলেন এবং তাদের হিংসাত্মক কার্যকলাপে সাহায্য করতেও তাঁর বাধেনি।

গান্ধি ভারতে ফেরার আগেই তাঁর খ্যাতি এখানে পৌঁছে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর ভূমিকা সম্বন্ধে নানারকম খবর এসেছে, সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়দের পক্ষে এখানে জনমতসৃষ্টির কাজ চলছে এবং ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ পর্যন্ত প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য তাঁর সহানুভূতির কথা ঘোষণা করেছেন। আফ্রিকায় ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনে গান্ধিকে যতটা দৃঢ়চিত্ত ও সংকল্পবদ্ধ দেখানো হয় তা বিশ্বাস করা খুব কঠিন। তা-ই যদি হত তা হলে হার্ডিঞ্জ সাহেব তাঁর পরিচালিত আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতি জানাবেন কেন? তবে এটা ঠিক, ভারতীয়দের অনেকেই তাঁর দেশে ফেরায় বিশেষ উৎসাহিত বোধ করেছিলেন।

ভারতে ফিরে এসে গান্ধি স্বাধীনতাকামী ভারতীয়দের হতাশ করেন। প্রথমদিকে তাঁকে নানা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এইসব সংবর্ধনাসভার যাঁরা খুব উৎসাহের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন তাঁদের একজন ইন্দুলাল যাজ্ঞিক। গুজরাট সভার সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ঐ সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি নিজেও একটি সংবর্ধনার আয়োজন করেন। Gandhi as I Know Him বইতে যাজ্ঞিক জানান, প্রত্যেকটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাকামী যুবকদের বক্তৃতার জবাবে গান্ধি কোনোরকম রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশ করেননি। এমনকী দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের ওপর নিপীড়ন বা তার প্রতিকারের জন্য আন্দোলন সম্বন্ধেও তিনি সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন।

গান্ধি ছবিতে দেখি, রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশের আগে গান্ধি বেরিয়ে পড়েন ভারত-দর্শনে। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে গান্ধির স্বদেশ-দর্শন ছবির দর্শকদেরও ভারতের বিচিত্র নিসর্গের সঙ্গে একটুখানি পরিচিত করে বইকী! গান্ধি নিজেও ভারতীয়, এবং ভারতীয়দের সমস্যায় উত্তেজিত হয়েই তাঁর রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হওয়ার কথা। রাজনীতি করতে করতে দেশবাসীর সমস্যা তাঁর কাছে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হবে এবং তাঁর রাজনীতিও সুনির্দিষ্ট পথে অগ্রসর হবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ছবি দেখে মনে হয় সদ্য-অর্জিত ভারত-প্রেমে গদগদ তরলমতি কোনো সায়েবের মতো গান্ধি ভারত-পরিচিতিলাভের জন্য হিচহাইকে বেরিয়েছিন। রাজনীতি যে স্বতঃস্ফূর্ত একটি প্রক্রিয়া — ছবির প্রথমদিকেই এই সত্যটিতে অস্বীকার করা হয়েছে।

স্বতঃস্ফূর্ততা, সামঞ্জস্য ও সততার অভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অহিংসার বক্তব্য প্রচারের মধ্যে। অসহযোগ আন্দোলনের ঘটনায় গান্ধি খুব বিচলিত হয়ে পড়েন। আন্দোলনের একটি পর্যায়ে মানুষ জঙ্গি হয়ে ওঠে এবং চৌরিচোরায় জনতার আক্রমণে পুলিশ নিহত হয়। দেশবাসী তাঁর অহিংসা নীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে—এই আক্ষেপ করে গান্ধি জনতার আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। এই ঘটনাটিকে দেখানো হয়েছে সমগ্র ভারতবাসীর হিংসা-প্রবৃত্তির অমানবিক প্রকাশ বলে। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রাম এইভাবে চিহ্নিত হয় গুণ্ডামি হিসাবে। আবার অন্যদিকে জালিয়ানওয়ালাবাগের বীভৎস হত্যাকাণ্ডের বিশ্বস্ত প্রতিফলন সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্তে আসা হয় যে, ঘটনাটি একটি মাথাগরম ইংরেজ সেনাপ্রধানের হঠকারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবে সামরিক শাসনের বীভৎস কার্যকলাপ হল সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। লাহোরে কার্টু-আদেশ লঙ্ঘনকারী নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো হয়, দিন-দুপুরে দোকানপাট লুট করা হয়। গুজরানওয়ালার বিক্ষোভরত নিরস্ত্র মানুষের ওপর রীতিমতো বোমাবর্ষণ করা হয়েছিল এবং এই হত্যাযজ্ঞের নায়ক সেনাবাহিনীর মেজর কার্বি খুব বাহাদুরির সঙ্গে তাঁর তৎপরতার কথা ঘোষণা করেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ পাঞ্জাবে সামরিক শাসনের নিপীড়নের চূড়ান্ত পরিণতি। অথচ অ্যাটেনবরোর ছবিতে জালিয়ানওয়ালাবাগের কসাই জেনারেল ডায়ারের ওপর ব্যক্তিগতভাবে সব দোষ চাপানো হয় এবং ইংরেজ বিচারকরা পর্যন্ত তাকে একটি মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা বলে উপস্থাপিত করার সূক্ষ্ম প্রচেষ্টা চালান। সাম্রাজ্যবাদকে এইভাবে রেহাই দেওয়ার কায়দা কিন্তু দর্শকের চোখ থেকে রেহাই পায় না। তবে এই ব্যাপারে গান্ধি স্বয়ং নানাভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, ঘটনাটি যে একজন বদমাইশ ইংরেজের কাণ্ড নয়, সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতার অংশবিশেষ—এই সত্যটি স্বীকার করার জন্য গান্ধি প্রস্তুত ছিলেন কি না সন্দেহ। জালিয়ানওয়ালাবাগের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ নাইট উপাধি বর্জন করেন। কাইজার-ই-হিন্দ উপাধিটি কিন্তু গান্ধি তখনও আঁকড়ে ছিলেন এবং ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় সরকারি উপাধি বর্জনের জন্য কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে পর্যন্ত এটাকে তিনি সগৌরবে বহন করে গেছেন।

অহিংসার গোঁজামিল ও অসামঞ্জস্যের জন্য অ্যাটেনবরোকে সদাসর্বদা সতর্ক থাকতে হয়। তাই ভারতীয় রাজনীতির যেসব ঘটনা গান্ধির অহিংসার সঙ্গে খাপ খায় না সেগুলো এড়ানো হয়েছে। এমনকী গান্ধির এই উদ্ভট ও সাম্রাজ্যবাদতোষণ পদ্ধতির কাছে যাঁরা মাথা নত করেননি এমনসব ব্যক্তিত্বকে ছবি থেকে ছেঁটে ফেলার জন্য অ্যাটেনবরো দ্বিধা করেন না। নানারকম রাজনৈতিক দুর্বলতা সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদ আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। গান্ধি ছবি দেখে তা বোঝা অসম্ভব। ১৯৪৬ সালে বম্বের নৌ-বিদ্রোহের আভাসমাত্র নেই। এমনকী ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন গান্ধি যার প্রধান নেতাদের একজন—তারও চিহ্নমাত্র অনুপস্থিত

কংগ্রেসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে গান্ধির আপোসমুখী নীতির জোর বিরোধিতা করেন সুভাষচন্দ্র বসু। জালিয়ানওয়ালাবাগ অসহযোগ প্রভৃতির কয়েক বৎসর পরেও ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনের বিরোধিতা করার ব্যাপারে গান্ধি তাঁর জেদ অব্যাহত রাখেন। ১৯২৯ সালে পূর্ণ স্বাধীনতা দাবির উত্থাপকদের মধ্যে জওয়াহরলাল নেহরুকে গান্ধি নিজের পক্ষে পটাতে পারলেও সুভাষচন্দ্র বসু স্বাধীনতার পক্ষে অবিচল থাকেন। স্বাধীনতার পক্ষে জওয়াহরলালের অনেক বিপ্লবী উক্তি সত্ত্বেও গান্ধি বুঝতে পারেন, জওয়াহরলালকে নিজের কবজায় নিয়ে আসা তাঁর পক্ষে কঠিন কাজ নয়। একথা মানতেই হয় যে, সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনীতিতে স্ববিরোধিতা ছিল। কিন্তু, ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার ক্ষেত্রে তাঁর অনমনীয় দৃঢ়তা গান্ধি মর্মে মর্মে অনুভব করেছিলেন। ভারতীয় রাজনীতি থেকে তাঁকে হুটাবার জন্য গান্ধি তাই উদ্গ্রীব হয়ে পড়েন। একই কারণে অ্যাটেনবরোও সুভাষচন্দ্র বসুকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন চিত্রায়িত করার সংকল্প নেন। অহিংসা নীতি যদি সৎ ও স্বতঃস্ফূর্ত হত এবং এর যদি কোনোরকম দার্শনিক ভিত্তি থাকত, তবে সুভাষচন্দ্র বসুকে উপস্থিত করে তাঁর জঙ্গি মনোভাবের বিরুদ্ধে অ্যাটেনবরো অহিংসাকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিতেন।

মওলানা আবুল কালাম আজাদের লেখা বই এবং তাঁর সম্বন্ধে তাঁর সহকর্মীদের লেখা পড়ে বোঝা যায় তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। গান্ধির সঙ্গে বহু বিষয়ে তাঁর মতবিরোধ ঘটেছে, নিজের মতামত ও বিশ্বাসের পক্ষে দলীয় সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার জন্য তিনি অনেক দূর পর্যন্ত চেষ্টা করতেন। কিন্তু অ্যাটেনবরোর কল্যাণে এই ছবিতে তিনি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। বল্লভভাই প্যাটেলও প্রায়ই আসেন। তাঁরও কিছু করার নেই। ভারতের প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক শক্তির তিনি একজন পাত্তাব্যক্তি। কিন্তু এই ছবিতে মাঝে মাঝে ভাঁড়ামো করার মধ্যে তাঁর ভূমিকা সীমাবদ্ধ।

জওয়াহরলাল নেহরু চাবি দেওয়া-পুতুলের মতো গান্ধির করতালুতে হাস্যকরভাবে নাচেন। রাজনৈতিক জীবনে প্রথম থেকে স্বাধীনতা, মুক্তি, সাম্য, সমাজতন্ত্র, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, নিপীড়িত মানুষের ঐক্য প্রভৃতি উরধ্বনি শব্দের পৌনঃপুনিক ব্যবহারে তিনি সিদ্ধির পরিচয় দেন। তাঁর বক্তৃতা, চিঠিপত্র এবং রচনায় তাঁর যে-মানসিক গঠন ফুটে ওঠে তাতে মনে হয় ঐসব বিষয়ে জওয়াহরলাল রোমান্টিক আকর্ষণ বোধ করতেন। কিন্তু, নিজের প্রচারিত মতের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি তিনি জীবনেও অর্জন করতে পারেননি। তাঁর সিদ্ধান্ত ও তৎপরতার সঙ্গে তাঁর ঘোষিত মতামত ও চিন্তাভাবনার মিল নেই। দেশি ও বিদেশি সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ও প্রগতিশীল ব্যক্তি ও সংস্থাসমূহ তাঁর কাছে যেমন অনেক আশা করেছিলেন, হতাশ হয়েছেন ঠিক তেমনই। নিজের চিন্তাভাবনা ও মতবাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ এবং সদাসর্বদা দোদুল্যমানচিত্ত ভারতীয় রাজনীতির হ্যামলেট এই নেতা গান্ধির অভিভাবকত্ব, শাসন ও পৃষ্ঠপোষকতার কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেন। জওয়াহরলালের এই হ্যামলেটির দ্বিধা ও অস্থিরতা প্রতিফলিত হলে ছবিতে তাঁর ঘনঘন আসা-যাওয়াটা তৎপর্যময় হত। অহিংসার পরম স্পর্শে প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার বেদনা থেকে জওয়াহরলাল মুক্তি পান—জওয়াহরলালের এরকম একটি পরিণতির সাহায্যে অহিংসাকে পাকাপোক্তভাবে স্থাপন করার কোনোরকম উদ্যোগ অ্যাটেনবরোর ছবিতে অনুপস্থিত। এর কারণ হল যে, অহিংসার প্রচারক হলেও অহিংসা ব্যাপারটি তাঁর কাছে শেষ পর্যন্ত ধোঁয়াটে ও অস্পষ্ট। গান্ধির আমলেও জিনিসটা ফাঁপাই ছিল, শিল্পমাধ্যমে অবয়ব দেওয়ার মতো উপযুক্ত তার ও শক্তি তার মধ্যে খুঁজে বার করা অসম্ভব। এই ছবিতে জওয়াহরলালের প্রধান কাজ মাঝে মাঝে গান্ধিকে অনশন ভাঙার জন্য কাকুতিমিনতি করা। ছবিতে তিনি প্রায়ই আসেন, কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকাই তিনি কিছুমাত্র পালন করেন না।

ব্যক্তিত্বের পরিচয় বরং পাওয়া যায় মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ্র মধ্যে। জিন্নাহকে ভিলেন করবার দিকে অ্যাটেনবরোর দুর্বল ও অপরিণত শিল্পীসুলভ প্রবণতা প্রথম থেকে ধরা পড়ে। জিন্নাহ্র রাজনীতি আজ সম্পূর্ণ ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর রাজনীতিতে বা কোনো কার্যকলাপের সমালোচনা করতে হলে রাজনৈতিক উপায়েই করা দরকার। কোনো যুক্তিতর্কের ধারেকাছে না-গিয়ে জিন্নাহকে তৈরি করা হয়েছে রগচটা ও শয়তান ধরনের এক চরিত্রে। এটা করে অ্যাটেনবরো শিল্পী হিসাবে দুর্বলতা ও চরম অপরিণতির পরিচয় দেন। তবে গান্ধির বিরোধিতায় সোচ্চার হওয়ার ফলে এর মধ্যেই জিন্নাহর স্বাতন্ত্র্য ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশিত হয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর এবং এর বিরুদ্ধে গান্ধি ও তাঁর অনুরাগীদের যুক্তিসমূহ অতি সরলীকৃত। পাকিস্তান মেনে না নিলে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে— জিন্নাহর এই হুমকিতে গান্ধি একেবারে থতমত খান এবং পাকিস্তান মেনে নেন। এইসব দেখেশুনে সন্দেহ হয়, অ্যাটেনবরো আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে ইয়ার্কি করতে নেমেছেন। তিনি কি জানেন না যে দেশ জুড়ে দাঙ্গাহাঙ্গামা শুরু করা হয় অনেক আগেই; তা যে-প্রকট রূপ ধারণ করে তাকে গৃহযুদ্ধ ছাড়া আর কী বলব? আর পাকিস্তান কি গৃহযুদ্ধ এড়াতে পারল? দাঙ্গাহাঙ্গামা অব্যাহত রইল, অসংখ্য মানুষকে নিজেদের ভিটে থেকে উচ্ছেদ করা হল। এর ওপর নতুন উপসর্গ হল পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত বিরোধ। গান্ধির অহিংসা ভারতীয়দের দাঙ্গা রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। অহিংসা ব্যবহৃত হয়েছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামী চেতনাকে ঠাণ্ডা করে দেওয়ার কাজে। ভারতীয়দের ঐক্যের জন্যে সদিচ্ছা সত্ত্বেও গান্ধি এখানে অহিংসার প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

জীবদ্দশায় গান্ধি ব্যবহৃত হন সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা। অহিংসার নামে, আধ্যাত্মিক যুক্তি উদ্বোধনের নামে দেশবাসীদের তিনি সংগ্রামবিমুখ করে রাখার তৎপরতা চালিয়ে গেছেন। বিজ্ঞানচর্চার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে তিনি তাঁর দেশবাসীকে পশ্চাৎপদ করে রাখেন। দেশের গ্রামগুলোকে স্বাবলম্বী করার জন্য গান্ধি চরকার প্রচলন করেছিলেন। কিন্তু এর অর্থনৈতিক কাঠামো কী কিংবা কোন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে চরকা কী ভূমিকা পালন করবে—এ-সম্বন্ধে গান্ধি কিছুই বলতে পারেননি। কাপড় বোনা আমাদের দেশে নতুন জিনিস নয়। মোটা কাপড় থেকে শুরু করে ঢাকার মসলিন বা জামদানি বা মুর্শিদাবাদ-রাজশাহীর সিল্ক বোনার ইতিহাস হাজার বছরের। কিন্তু এর দ্বারা সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কিছুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি। চরকা যে মানুষের অর্থনৈতিক বা সামাজিক জীবনে কী কাজে আসবে সে সম্বন্ধে গান্ধির স্বচ্ছ কোনো ধারণা ছিল না। তা গান্ধিরই যখন এই অবস্থা, অ্যাটেনবরোর ধারণা তখন কী হতে পারে? গান্ধির চেয়ে পরে এক ধাপ ওপরে উঠে অ্যাটেনবরো চরকার মধ্যে আধ্যাত্মিক সত্যের অনুসন্ধান করেন।

ভারতের কোটি কোটি নিরন্ন মানুষের সঙ্গে একই সারিতে নেমে আসার জন্য গান্ধি আহারে ও পোশাকে কৃষ্ণতা পালন করেন। এইসব কৃচ্ছ্রতাসাধন ছিল বহুবিজ্ঞাপিত এবং এর জন্য যে-আয়োজন করতে হত তাতে খরচও হত প্রচুর। ‘It takes a great deal of money to keep Bapu in poverty -কংগ্রেস নেত্রী সরোজিনী নাইডুর এই উক্তিতে গান্ধির শৌখিন দারিদ্র্যচর্চার স্বরূপ ধরা পড়ে। তাঁর অহিংসা, তাঁর চরকা, তাঁর দারিদ্র্যচর্চা-সবই নানারকম অসঙ্গতি ও গোঁজামিলে ভরতি। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাঁর অসঙ্গতি ও অসামঞ্জস্যকে ব্যবহার করে নিজেদের শাসনের পক্ষে। এইরকম রাজনৈতিক স্বভাবের ফলে সমগ্র দেশব্যাপী প্রসারিত গণআন্দোলনকে গান্ধি ধিক্কার দেন আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা বলে এবং দেশের বিশাল জনশক্তির উত্তুঙ্গ প্রবাহ তাঁর কল্যাণে প্রবাহিত হয় সংগ্রামবিমুখ সংস্কারবাদী আন্দোলনে।

এই গোঁজামিল ও অসঙ্গতি এবং অসামঞ্জস্য ও উদ্ভট চিন্তাভাবনার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা অ্যাটেনবরোর সাধ্যের বাইরে। সেরকম ইচ্ছাও তাঁর নেই। বরং ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের বিশাল ও ব্যাপক পটভূমির দিকে চোখ মেলেও তাঁর ক্ষীণদৃষ্টির জন্য আন্দোলনের মূল সত্য, মূল শক্তি ও সামগ্রিক রূপ তাঁর চোখের আড়ালে রয়ে যায়। খণ্ডিত ও টুকরো টুকরো পটভূমিতে বিদঘুটে তত্ত্বগুলো প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি মহা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন চালান। এই ছবিতে তাই বস্তুনিষ্ঠতার অভাব খুব প্রকট।

গান্ধিজীবনকে শিল্পসম্মতভাবে প্রকাশ করতে অ্যাটেনবরো ব্যর্থ হয়েছেন। একটি শিল্পকর্মে যে-বিষয় অবলম্বন করে কোন বক্তব্য প্রকাশিত হবে তার সঙ্গে শিল্পীর গভীর পরিচয় থাকা অপরিহার্য। এমনকী শিল্পীর নির্লিপ্ততা আয়ত্ত করতে হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে গভীর সংলগ্নতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু, ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ, তাদের জীবনযাপন, তাদের বিশ্বাস ও সংশয়, তাদের সংঘাত ও সংগ্রাম, তাদের বঞ্চনা ও বেদনা সম্বন্ধে মনগড়া ও উদ্ভট ধারণা প্রয়োগ করার কাজে ব্যস্ত থাকায়, বরং বলা যায়, ব্যতিব্যস্ত থাকায় ছবিতে গান্ধি ব্যক্তিত্বের স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ ঘটেনি। ক্যামেরা ও অভিনয়ের অপূর্ব দক্ষতা সত্ত্বেও ছবিটি দর্শকের মনে গভীর ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করতে কিংবা নতুন করে দেশ ও নিজেকে উপলব্ধি করাতে ব্যর্থ হয়। কলাকৌশলগত নৈপুণ্য সত্ত্বেও শিল্পকর্ম হিসাবে গান্ধিকে উঁচু আসন দেওয়া যায় না।

ভারতে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভাবান শিল্পী থাকা সত্ত্বেও গান্ধির জীবন-রূপায়ণের দায়িত্ব অ্যাটেনবরোকে দেওয়া হল কেন? এর জবাব খুব সোজা। এই উপমহাদেশের শোষক-শক্তি খুব প্রাচীনকাল থেকেই অত্যন্ত চতুর এবং সংগঠিত। বর্ণে বর্ণে ভাগ করে সাম্প্রদায়িক চেতনাকে উসকে দিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ নিম্নবিত্ত মানুষকে সংগঠিত হওয়া থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টা এদের অনেকদিনের। শোষণের বিরুদ্ধে নিম্নবিত্ত শোষিত মানুষ যখনই মাথা তুলে দাঁড়ায় তখন খুব কৌশল করে এরা সামনে চলে আসে এবং নানারকম মুখরোচক বুঝি প্রচার করে তাদের সংগ্রাম বিনাশ করে। গান্ধিকে ইংরেজরা নিজেদের অবস্থানকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য ব্যবহার করেছেন এটা ঠিক। সঙ্গে সঙ্গে একথাও বলতে হয়, গান্ধিও নিজেকে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন কেবল ইংরেজদের প্রতি গদগদচিত্ত হয়ে নয়, তাঁর দেশি শোষকশক্তিকে চিরায়ু করাই ছিল প্রধান সাধনা।

ইংরেজরা বিদায় নেওয়ার পর শোষাকশক্তি বরং আরও নতুন উদ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠাকে সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের প্রতিরোধ স্পৃহাও বেড়েই চলেছে। ভারতের কোনো কোনো এলাকায় কেবল বিক্ষোভ নয়, প্রতিষ্ঠিত সরকার ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ পর্যন্ত হয়ে চলেছে। সরকারকে কখনো কখনো মুষ্টি শিথিল করতে হয়েছে এমনকী কোথাও কোথাও অপেক্ষাকৃত আপাত-প্রগতিশীল দলকে সরকারগঠনে বাধা দিতে পারেনি। এমনকী সরকার ও শোষক-শক্তি ‘সমাজতন্ত্র’ ‘সাম্যবাদ’ প্রভৃতি বুলি কপচাতেও পেছপা হয় না। কিন্তু শোষণের যারা শিকার তাদের পক্ষে এইসব মিথ্যাচারকে শনাক্ত করা কঠিন নয়। কোনটা দুধ আর কোনটা পিটুলিগোলা তা বোঝার জন্য মানুষের জিভই যথেষ্ট, এজন্য পুষ্টিবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে হয় না। ভারত সরকার তাই শুধু ‘প্রগতিশীল’ বুলি আউড়িয়ে পার পায় না। তাদের মূল কৌশলগুলোকে তাই পাশাপাশি চালু রাখা দরকার। ধর্ম, আধ্যাত্মিক শক্তি, অহিংসার মহিমা, শ্রেণীনিরপেক্ষ প্রেম-শোষণের পুরনো হাতিয়ারগুলো শানানো শুরু হয়। জওয়াহরলাল নেহরু ঘোরতর সংশয়বাদী হওয়া সত্ত্বেও যদি গান্ধির আধ্যাত্মিক মহিমার কাছে মাথা নত করতে পারেন তো তাঁর উত্তরসূরিরা সমাজতন্ত্রের বাণী প্রচার করেও গান্ধির একই মাহাত্ম্যকে প্রচার করতে পারবেন না কেন? জীবিত গান্ধিকে শোষকশক্তি ব্যবহার করে ইংরেজদের সাহায্যে। মৃত গান্ধিকে নিজেদের কাজে লাগাবার জন্য ইংরেজ কেন, যে-কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাহায্য নিতে তারা পেছপা হবে না।

এখন অ্যাটেনবরো ধরনের কলাকুশলীকে তাদের খুব দরকার। গান্ধির ওপর ভর করে মানুষের শোষণযুক্ত হবার সংগ্রামস্পৃহা দমন করার জন্য এরকম কূটকৌশলের আশ্রয় নিতে যে-কোনো দেশের সৎ ও প্রতিভাবান শিল্পীর ইতিহাসবোধ, শিল্পবোধ, মর্যাদাবোধ এমনকী সাংস্কৃতিক রুচিতে বাধত। মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জব্দ করাই ভারতের নতুন সায়েবদের প্রধান দায়িত্ব। তখন সায়েবদের সহায়ক শক্তি হিসাবে গান্ধিকে চাগিয়ে তুলতে পারলে এই সায়েবদের বরং সুবিধা। অ্যাটেনবরোর কাছে ধরনা না-দিয়ে তাদের তাই উপায় কী?