Course Content
ভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
ভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
0/18
ভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

শুধু কুড়ি মিনিট – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

শুধু কুড়ি মিনিট

কফির কাপে চুমুক দিয়ে বাইরের দিকে তাকাল জয়ন্ত। আকাশের রং সিগন্যালহীন টিভি-র স্ক্রিনের মতো। তুলোর মতো বরফ বৃষ্টি হচ্ছে। একটা লুফতহ্যানসার প্লেন পার্কিং থেকে বেরিয়ে রানওয়ের দিকে এগোচ্ছে। হালকা সবুজ জ্যাকেট পরা একটা লোক ফ্ল্যাগ দেখিয়ে প্লেনটাকে এগিয়ে যেতে বলছে।

বিজনেস লাউঞ্জের সোফায় বসে এসব দেখে আরামসে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু নাহ, এবার এগোতে হবে। আর কুড়ি মিনিট বাদে বোর্ডিং। গেট খুঁজে ঠিক গেটের সামনে যেতে যেতে আরও দশমিনিট লেগে যাবে। গেটের সামনে বসে অপেক্ষা করাটা বেটার।

প্রায় দেড়মাস হয়ে গেল জয়ন্ত জার্মানি এসেছে। দু-সপ্তাহের জন্যে এসে কাজে আটকে গেছে। কত তাড়াতাড়ি দেশে ফেরা যায়, এখন তারই অপেক্ষা। তারই জন্যে প্রত্যেক সেকেন্ড গোনা। লাউঞ্জ থেকে বেরোনোর আগে ফ্লাইট টাইমিং-এর স্ক্রিনটাতে চোখ রাখে জয়ন্ত।

যাহ, ফ্লাইটটা আধঘণ্টা লেট। বরফ পড়ার জন্যেই হবে হয়তো। বরফ পড়লে প্লেনগুলোকে ছাড়ার আগে ডিআইসিং করতে হয়। অর্থাৎ আরও আধঘণ্টা বাদে বেরোলেই হবে। কিছু আঙুর আর পিয়ার নিয়ে ফের সোফায় এসে বসে জয়ন্ত।

লাউঞ্জের মধ্যের ঘড়িতে পাঁচটা জায়গার সময় দেখানো হচ্ছে টোকিও, হংকং, নিউইয়র্ক, লন্ডন আর মিউনিখ। একদিন হয়তো ভারতের কোনও জায়গাও যুক্ত হবে এই ঘড়ির সারণীতে। বাড়িতে রন্টু এখন কী করছে তা জানার জন্যে বারবার সাড়ে চারঘন্টা যোগের মেন্টাল ক্যালকুলেশনটাও করতে হবে না। নির্ঘাত এখন কার্টুনের কোনও চ্যানেল দেখছে। আর জয়তী ওকে মাঝেমধ্যে পড়তে বসার কথা বলে যাচ্ছে। একবার ফোন করে জানিয়ে দেওয়া যাক, প্লেন ছাড়তে দেরি করছে।

ফোন করে জয়ন্ত,—’হ্যাঁ, আমি মিউনিখ এয়ারপোর্ট থেকে বলছি। ফ্লাইট ছাড়তে আধঘণ্টা দেরি হচ্ছে। মনে হয় সকাল বারোটা নাগাদ কলকাতা পৌঁছোব। সময়মতো এয়ারপোর্টে চলে এসো। রন্টুকে নিয়ে এসো।…

উলটোদিকে জয়তীর কথা পরিষ্কার শুনতে পায় না জয়ন্ত। অন্য কেউ যেন ওর সঙ্গে কথা বলছে। ক্রস কানেকশন। নাহ, ফোনে নয়। কেউ যেন জয়ন্তর সামনেই কথা বলছে। অথচ সামনে কেউ নেই। অবাক ব্যাপার। বাধ্য হয়ে জয়তীকে সামান্য কিছু কথা বলে ফোনটা কেটে দিল জয়ন্ত। অন্য কথাটা কিন্তু এখনও চলছে। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে কে যেন ওকে বলে চলেছে। মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করে জয়ন্ত।

‘তুমি আজকে ইন্ডিয়া পৌঁছোবে না। তোমার সামনে ভীষণ বড় বিপদ।’

আবার সেই কথাটা। উচ্চারণ শুনে মনে হয় ইটালিয়ান। ‘আই’ কে ‘ই’-এর মতো করে উচ্চারণ করছে।

চারদিকে তাকিয়ে দেখল জয়ন্ত। অনেক লোকেই বসে আছে বিজনেস লাউঞ্জে। তবে জয়ন্তর সবথেকে কাছে যে বসে, সেও হাতপাঁচেক দূরে। পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ভদ্রলোক। ছোট করে কাটা চুল। চওড়া কপাল। ঠোঁটের উপরে একচিলতে গোঁফ। চোখে গোল লেন্সের রিমলেস চশমা। চোয়ালের পাশ দিয়ে পড়া ভাঁজে মুখের কাঠিন্য অনেক বাড়িয়ে তুলেছে। লোকটা একবার জয়ন্তর দিকে তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে নিল।

লাউঞ্জে বেশিরভাগই নিজের মতো কাজ করছে। কেউ কাগজ পড়তে পড়তে কফি খাচ্ছে, কেউ ল্যাপটপে কাজ করছে। ওদিকে কিছু লোক টিভি দেখছে। কিন্তু এ লোকটা কিছুই করছে না। চুপচাপ বসে আছে।

‘ঠিকই ধরেছেন। আমিই বলছি। আমার নাম বোলে ফ্যাব্রিজিও। এর বেশি আমি কে, কোথা থেকে এসেছি এ ব্যাপারে কোনও কিছুই বলতে পারব না। শুধু এটুকুই জানবেন যে আমি আপনার ভালো চাই। আর এখন আপনাকে শুধু একটা খবর জানাতে চাই।’

এ এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা! লোকটা কি জাদু জানে! ঠোঁট নড়ছে না। অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। কিছু বলছে না। অথচ মনের মধ্যে প্রত্যেকটা শব্দ যেন পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে।

‘ঘাবড়াবেন না। মন দিয়ে শুনুন। আপনার কাছে ঠিক কুড়ি মিনিট আছে। কুড়ি মিনিট পরে আপনার জীবনে এমন একটা ঘটনা ঘটতে চলেছে যে আপনি আর কোনওদিনই বাড়ি ফিরতে পারবেন না। আপনার ছেলে-বউ-এর সঙ্গে আর দেখা হবে না।’

একটু সময় কথা থামল। তারপর ফের বলে উঠল—’আমার কথায় বিশ্বাস হচ্ছে না—তাই না! আপনার ছেলের নাম রন্টু। ভালো নাম জয়ব্রত। আপনারা থাকেন সল্টলেকের বিসি ব্লকে। ইদানীং রাজারহাটে একটা ফ্ল্যাট কিনেছেন। ঠিক কি না?’

জয়ন্ত বুঝতে পারল, উত্তেজনায় ওর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। এতবার যাতায়াত করে, এরকম ঘটনা ওর জীবনে কখনও হয়নি! উঠে লোকটার কাছে যাবে? কী বলতে চায়, পরিষ্কার করে বললেই পারে।

উঠতে যাবে, মনের মধ্যে আবার লোকটার গলা ভেসে এল, ‘খবরদার! আমার কাছে আসবেন না। এমন কিছু করবেন না যাতে অন্যরা কেউ এটা টের পায়। যা করার চটপট ভেবে নিন। আর ঠিক আঠেরো মিনিট বাকি আছে।’

আজব ব্যাপার! কী করবে? কী বিপদ? কার থেকে বিপদ? কোনও কিছুই তো জানা নেই! বিপদ কী, না জানলে তার মোকাবিলা করা যায় নাকি? অথচ জিগ্যেসও করা যাবে না।

‘আমি আপনাকে বেশি কিছু বলতে পারব না। কারণ এভাবে ভবিষ্যৎ থেকে এসে কিছু বলে বড়রকম কোনও চেঞ্জ করে ফেললে আমি নিজেই বিপদে পড়ে যাব। নেহাতই আপনার ছেলের অনুরোধে আসা। ওর মুখ থেকেই পুরো গল্প শোনা।’

ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে? আমার ছেলের অনুরোধে? লোকটা কী সব আজগুবি কথা বলছে!

‘বিশ্বাস করুন বা না করুন, আপনার ছেলে হল আমার বন্ধু। আমার বসও বটে। এমন অদ্ভুত লোক খুব কম হয়। এত নামকরা সায়েন্টিস্ট, এত ভালো ব্যবহার, কিন্তু কারুর সঙ্গে মিশবে না। কারুর সঙ্গে মিশতে ভয় পায়। তা একদিন অনেক সাধাসাধির পর কারণটা বলল। তখনই আপনার ঘটনাটা শুনলাম। আপনাকে ছোটবেলা থেকে সবসময় কীরকম মিস করেছে, সব বলেছে। এই ঘটনার পরে হঠাৎ করে এতটা অবস্থার পরিবর্তন, মা’র পক্ষে সবকিছু সামলানো, খরচ কমাতে নামি স্কুল থেকে অনামি স্কুল কিশোর ভারতীতে ভরতি—বাড়ি বিক্রি করে ভাড়াবাড়িতে শিফট —সবকিছু। সবথেকে বড় কথা এখনও ও আপনাকে খুব মিস করে।

‘তা আমিই একদিন ওকে বললাম—আমি যদি অতীতে গিয়ে আপনাকে আগে থেকে জানিয়ে দিই, তাহলে এত বড় দুর্ঘটনাটা হয়তো ঘটবে না। ও তো শুনেই লাফিয়ে উঠল। টাইমট্রাভেল এখন সম্ভব হলেও, পারমিশন পাওয়া যায় না। নিকট আত্মীয় হলে তো কোনওভাবেই নয়।

‘নেহাত আপনার ছেলের ইনফ্লুয়েন্সে আমার আসার পারমিশন পাওয়া গেছে। কিন্তু হাজারটা নিয়ম। এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না। সরাসরি কী হবে, তা বলা যাবে না। কার জন্য হবে, কী জন্য হবে তা বলা যাবে না। তা যা করবার তাড়াতাড়ি করুন। আর মাত্র বারো মিনিট।’

লোকটা যদি সব ঠিক বলে, তা হলেও বা কী করার আছে? কিছুই তো বোঝা যাচ্ছে না। প্লেন ছাড়তে আধঘণ্টা বাকি। প্লেনে উঠবে না! কিন্তু তা তো বারো মিনিটের মধ্যে নয়। লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে যাবে? বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দেবে? উত্তেজনায় মাথা কাজ করে না জয়ন্তর।

কাঁপা হাতে ফোন করে জয়ন্ত, ‘হ্যালো জয়তী! হ্যাঁ-বলছিলাম প্লেন দেরি হচ্ছে।…না-না এমনিই আবার ফোন করলাম। সাবধানে থাকবে। কোনও ধরনের প্রবলেম হলে মিলনকে ফোন কোরো।… শোনো রন্টুকে একটু দাও তো।…রন্টুসোনা, মার কথা শুনবে—ভালো হয়ে থাকবে বুঝলে? তোমার উপর অনেক দায়িত্ব। কী আনছি? তোমার জন্য ভালো বই কিনেছি। আচ্ছা তোমার মাকে একটু দাও।..জয়তী, শোনো আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাইলে আমার সব অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড আছে।…না-না—সব ঠিক আছে। এমনিই বলছি। ফাইলটা কোথায় ঠিক, বুঝতে পেরেছ তো?’

লোকটার কথা আবার ভেসে আসছে। ‘আর ঠিক দশমিনিট।’ বাধ্য হয়ে ফোনটা রেখে দেয় জয়ন্ত। যাক, দরকারি কথাটুকু জানানো গেছে অন্তত। এলোমেলো অনেক চিন্তা মাথায় আসে। জয়তী, রন্টুর মুখ খুব বেশি করে মনে পড়ে। যদি সত্যিই কিছু হয়, কী করে চলবে ওদের? সবকিছুতেই তো ওরা জয়ন্তর ওপর নির্ভর করে। কিছুই জানে না।

‘আরে জয়ন্ত না?’ পরিচিত গলাটা শুনে চমকে ঘুরে তাকায় জয়ন্ত। তীর্থ। তীর্থ এখানে? দমবন্ধ হওয়া পরিবেশে এক ঝলক হাওয়া।

‘তুই, তুই এখানে?’

‘আমি কানাডা থেকে ছুটিতে ফিরছি। ছ’ঘণ্টা পরে কানেক্টিং, ফ্লাইট।’

‘তা কী করিস কানাডায়?’

‘ব্যবসা।’

‘কীসের?’

‘গারমেন্টস এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট। বেশ ভালোই জমে গেছে। তা সে কথা ছাড়। কতদিন পরে দেখা। সেই স্কুলের পরে। তা কতবছর হল? চব্বিশ-পঁচিশ বছর হবে, তাই তো?’

‘ঠিক সাতাশ বছর। মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরোনোর পর তোর মা আমাকে রান্না করে খাইয়েছিলেন। মাসিমা এখন কেমন আছেন রে?’

‘মা নেই। চারবছর হল।’ তীর্থর গলায় একটু ব্যথার সুর। একটু থেমে ফের বলে ওঠে, ‘শোন, আমার সুটকেসটা এখানে থাকল। একটু চোখ রাখিস। আমি একটু বাথরুম ঘুরে আসি।’ তীর্থ দ্রুত পায়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যায়। ওর শরীরটা আড়ালে মিলিয়ে যেতে না যেতে জয়ন্তর আবার লোকটার কথা মনে পড়ে যায়। আর ক’মিনিট বাকি? লোকটা আর আগের জায়গায় নেই। উত্তেজিত হয়ে আগে-পিছনে দেখতে থাকে জয়ন্ত। নাহ! লাউঞ্জের এদিকটায় অন্তত নেই।

আবোল-তাবোল দুশ্চিন্তা মাথায় আসে। প্লেন ক্র্যাশ? এখানেই কোনও টেররিস্ট অ্যাটাক? তীর্থকেই একটু খুলে বলা যাক। অবশ্য কী করে বোঝাবে? যে-কেউ শুনে তো পাগল বলবে। তিরিশ বছরের আগের তীর্থ তো আজ অনেকটাই অপরিচিত। উত্তেজনায় এক কাপ ক্যাপুচিনো নিয়ে চট করে আবার ফিরে আসে জয়ন্ত। ধুর, নিকুচি করেছে। বাজে স্বপ্নের মতো চিন্তাটাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে জয়ন্ত। পুরোটাই তো আজগুবি। গিয়েই কোনও সাইকিয়াট্রিস্টকে দেখাতে হবে। জোর করে একটু হাসার চেষ্টা করে।

অদ্ভুত! তীর্থ এত দেরি করছে কেন? ওকে বলতে পারলে একটু হালকা হওয়া যেত। কী যেন বলছিল লোকটা? ওর ছেলে রন্টু নাকি নামি সায়েন্টিস্ট। মনে মনে মুচকি হাসে জয়ন্ত। সারাক্ষণ কার্টুন দেখছে। আর ধৈর্য যা—সায়েন্টিস্ট! লোকটা আরও বলছিল—রন্টু নাকি অদ্ভুত ধরনের। কারুর সঙ্গে মিশতে ভয় পায়। আর সেই প্রসঙ্গেই নাকি জয়ন্তর কথা ওই লোকটাকে বলেছিল। কোনও মাথামুণ্ডুই খুঁজে পায় না জয়ন্ত। ওর মারা যাওয়ার সঙ্গে রন্টুর ওরকম স্বভাবের লিংক কোথায়? কী হতে পারে?

আচ্ছা, তীর্থ এত দেরি করছে কেন? উঠে ওয়াশরুমের দিকে যায় জয়ন্ত। নাহ, এখানে তো নেই। তা হলে কি শাওয়ার রুমে স্নান করতে ঢুকেছে? শাওয়ার লিস্টের নামের মধ্যে তীর্থর নাম খোঁজে জয়ন্ত। নাহ, তাতেও তীর্থর নাম নেই। ঘড়ির দিকে নজর পড়ে। আর ঠিক একমিনিট বাকি।

বুকের ভেতর ধুকপুকুনির আওয়াজটা যেন নিজেই টের পায়। হঠাৎ কী খেয়াল হতে জয়ন্ত ছুটে ওর বসার জায়গার কাছে আসে। তীর্থর লাল স্যামসোনাইটের ট্রলিব্যাগটা একবার আড়চোখে দেখে নিয়ে, শুধু নিজের ব্যাগটা নিয়ে জোর পায়ে লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসে। প্রায় ছুটতে থাকে জয়ন্ত। এয়ারপোর্টে মাঝেমধ্যেই এরকম কাউকে না কাউকে ছুটতে দেখা যায়। তাই জয়ন্তর ছোটাটা তেমন অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু বেশিদূর নয়। একটা বিশাল বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনে। আওয়াজটা এসেছে লাউঞ্জের দিক থেকে।

একমাস পরের ঘটনা। সকালের কাগজে তীর্থর ছবি। মিউনিখ এয়ারপোর্টে বিস্ফোরণের কারণে তীর্থকে ধরেছে জার্মান পুলিশ। শুধু একটা নয়, সেদিন এয়ারপোর্টের তিনটে জায়গায় বিস্ফোরণে মারা গেছে টোটাল আটজন। আহত শতাধিক। জয়ন্ত জানে নিহতের সংখ্যাটা আরও একজন বেশি হত। শুধু ওই লোকটার জন্যেই ও বেঁচে গেছে। শেষ মুহূর্তে জয়ন্ত বুঝতে পারে। লোকটা বলেছিল, ‘রন্টু কারোর সঙ্গে মিশতে ভয় পায়।’ কেন? সে ধাঁধার উত্তর পেয়ে গেছে জয়ন্ত। জয়ন্ত তার ছেলেবেলার বন্ধুর সঙ্গে দেখা হওয়ার জন্যই মারা গিয়েছিল। সেটাই হতে যাচ্ছিল, যদি না ঠিক এক মিনিট আগে সন্দেহ হত তীর্থের উপরে। কতজনেই তো বন্ধু হয়, কিন্তু আমরা ভালোভাবে চিনি তাদের কতজনকে? আর এই ঘটনার জন্যই রন্টু কারোর সঙ্গে মিশতে ভয় পায়। নাহ, পায় তো আর বলা যাবে না। বলা যায় ভয় পেত।

রন্টু খাটের উপর বসে হট হুইলের গাড়ি নিয়ে খেলছে। ওর আর জয়তী দুজনেরই মন খারাপ। আগের ভালো দামি প্রাইভেট স্কুল ছাড়িয়ে ওকে পাড়ার এক সাধারণ স্কুলে ভরতি করেছে জয়ন্ত। তাতে না আছে লন টেনিস খেলার জায়গা, না সুইমিং পুল। একদম সাধারণ স্কুল। নাম কিশোর ভারতী।

কেন করেছে? তা জয়ন্তই জানে। যদি বোলে সত্যিই টাইমট্রাভেল করে থাকে, তাহলে রন্টু সায়েন্টিস্ট না হলে সে তো ভারী বিপদে পড়ে যাবে। বোলে সেদিন স্পষ্ট বলেছিল যে রন্টু পড়েছে কিশোর ভারতী স্কুলে।

ভবিষ্যৎ আর পালটানোর ইচ্ছে নেই জয়ন্তর।