Course Content
ভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
ভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
0/18
ভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

প্রতিবেশী – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

প্রতিবেশী

সেটা বোধহয় নভেম্বরের পাঁচ কি ছয় তারিখ। সোমবার। পেটখারাপ, তাই অফিস যাইনি। অন্য অনেকের মতো আমারও পেটখারাপে ফুচকা খাওয়া বন্ধ হয় না, চিংড়ির মালাইকারিও গোল বাটিতে করে পাতে আসে। বন্ধ হয় একটাই—তা হলো অফিস যাওয়া। আর দিদির বাড়িতে রোববার গেলে, সোমবার অফিসিয়ালি পেটখারাপ প্রায় নিশ্চিত। যাদের বিবাহিত দিদি ও অফিসে কাজের অভিজ্ঞতা আছে, তারা নিশ্চয়ই আমার কথা বুঝবে।

তখন দুপুর দুটো হবে। শীতের রোদ আমার ঘাড়ে আর পিঠে। জানালার দিকে পিঠ ফিরিয়ে সবে মাংসের কষাটা টেষ্ট করছি, হঠাৎ বেল বাজল। অদ্ভুত ব্যাপার, আমি আসছি জানলেই, দিদির বাড়ির কাজের লোকটার সিক-লিভ। সুতরাং মাংসের কষা ছেড়ে আমাকেই নীচে নামতে হয়।

তিনতলায় খাবার ঘর। বেরিয়ে প্রায় মুখ থেকেই সিঁড়ি। সিঁড়ি শেষ হয়েছে দোতলার বারান্দায়। চওড়া লম্বা বারান্দা। এক, দুই, তিন—তিনটে ঘর ছেড়ে বারান্দাটা ডানদিকে বাঁক নিয়েছে। তার পরে গেট। আর ওই গেটের ওপারে দাঁড়িয়ে একটা লোক। মাঝবয়সি। মাথার চুল সব পাকা। আজকাল সাদা চুল-সাদা দাড়ি আভিজাত্যের চিহ্ন। মাঝবয়সি হলে তো কথাই নেই। তাই একটু সন্দেহের চোখে চুলটা দেখলাম।

না:, আসলই মনে হচ্ছে। চোখ-মুখ কাটাকাটা। শর্ট হাইট, চেহারার মধ্যে আভিজাত্যের ছাপ।

—সোমনাথবাবু বাড়ি আছেন?

সোমনাথ ঘোষ—আমার জামাইবাবু।

মাথা নেড়ে না জানাই।

—কখন আসবেন?

—ঠিক বলতে পারছি না, তবে দুটোর মধ্যে ফিরে আসার কথা। আপনি একটু বসে যান।

—না, আমি কাছেই থাকি। পরে আসবখন।

খাবার ফেলে আমি আবার বেশিক্ষণ থাকতে পারি না। তাই ভদ্রলোকের কথা শুনে খুশিই হলাম। ওপরে উঠি। ফের থালার সামনে বসে হঠাৎ খেয়াল হল, ভদ্রলোকের নামটাতো জানা হয়নি।

খেয়ে উঠে একটা লম্বা ঘুম। ঘুম ভাঙল পাঁচটা নাগাদ। ঘর অন্ধকার। বারান্দার দুই প্রান্তের দুটি ল্যাম্পও নিষ্প্রভ। পাশের বাড়ির আলো তার খানিকটা অংশ বারান্দার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ধার দিয়েছে।

চোখ মুখ ধুয়ে ড্রয়িংরুমে এসে বসলাম। ভোল্টেজ খুব লো। টিউবলাইটটা বারবার জ্বলে ওঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু এই ভোল্টেজে স্টার্ট নিতে পারছে না।

পাশের বাড়ি থেকে ভেসে আসছে—’অন্তরে তুমি আছো চিরদিন ওগো অন্তরযামী।’ বাগেশ্রী রাগ। এ রাগটাই সম্প্রতি শিখছি। গান শেখার ফলে আমি আজকাল একটু-আধটু রাগ চিনতে পারি। তবে আমার গলায় গাওয়া রাগ অন্য কারুর পক্ষে চেনা শক্ত। বিশেষত তাদের পক্ষে, যাদের ভালো মতো রাগ পরিচয় আছে।

হঠাৎ ক্রিং, ক্রিং, ক্রিং। আবার কলিং বেল। দরজা খুলি। অন্ধকারের মধ্যে যে ভদ্রলোকের মুখ উদ্ধার করলাম, তাঁকে ঘণ্টা তিনেক আগে একবার দেখেছি। ফের এসেছেন।

সোমনাথবাবু আসেননি?

—এসেছেন বোধহয়, দেখছি।…দিদি, জামাইবাবু ফিরেছেন?

যারা দেখতে পায় না, তাদের শ্রবণশক্তি নাকি বেশি হয়। প্রমাণ পেলাম। অন্ধকারে দিদি কোথায় টের না পেলেও একটা গলা ভেসে এল,—এক্ষুনি বেরিয়ে গেল।

ভদ্রলোক বেরিয়েই যাচ্ছিলেন। হঠাৎ মনে পড়ে গেল।

—আপনার নাম?

—মনোতোষ। উনি নাম বললেই চিনতে পারবেন।

—কখন আসবেন বলুন, ওনাকে থাকতে বলব।

—আমি এখানেই থাকি। পরে আসবো।

ভদ্রলোক চলে গেলেন। আমি একটা ইতিহাসের বই নিয়ে ড্রয়িংরুমের টিমটিমে আলোয় বসলাম।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘাড়ে একটা নতুন কাজ চাপলো। দিদির ছেলেকে সামলানো। দিদির ছেলেকে যারা চেনে না, তারা, ‘বা: কী মিষ্টি’, ‘কী সুন্দর’ ইত্যাদি ভালো ভালো কথা বলে নেয়। আর মিনিট পাঁচেক বাদেই বাড়ি ফেরার তাড়া দেখায়। আর আমার মতো অসহায় ও অভিজ্ঞ লোকেরা তাড়া না খেলে ওকে নেয় না। কিন্তু সময় এত খারাপ, ওকে নিতেই হল। দুধ ছাড়া ও পৃথিবীর সবকিছু খায়। চাদর, বেডকভার, পেনসিল—এমনকী এই মুহূর্তে ‘গ্লিমপসেস অব ওয়ার্লড হিস্ট্রি’ বইটাতেও দেখলাম বেশ আগ্রহ। কোল থেকে নামালে, সোফা থেকে মাটিতে পড়ার উদ্যোগ করে।

শেষ পর্যন্ত ওকে ঠান্ডা মেঝেতে নামিয়ে দিলাম। জিরো পোটেনশিয়াল এনার্জি। যা ফেলে ফেলুক। কিন্তু তাও হবার নয়। নামানোর সাথে সাথে। ওঁ…য়াঁ…

ভয়ে কোলে তুলে নিই। এরকম অবস্থা হবে আগেভাগে জানলে অফিসেই যেতাম।

এভাবে আরো আধঘণ্টা কাটে। ছোট হয়ে আসা টিভির স্ক্রিনটা হঠাৎ মীরকাশিমের মতো একবার বিদ্রোহ করে চলে গেল।

ড্রয়িংরুমের বাইরে আবছা অন্ধকার। তা বাড়তে বাড়তে তিনতলার সিঁড়ির দিকটা প্রায় অদৃশ্য করে তুলেছে। ভাগনেকে কোলে নিয়ে সিঁড়ির দিকে এগোই। অন্ধকারে ভয়, তবে ভাগনেতে ভয় আরো বেশি।

দোতলার দ্বিতীয় ঘরটার সামনে দিয়ে হাতড়াতে হাতড়াতে যাচ্ছি, হঠাৎ একটা শিহরণ।

ঘরের পর্দাটা হাওয়াতে উড়ছিল। একপলক দেখে মনে হল, ঘরে কে যেন বসে। কিন্তু ‘দিদি’ বলে ডাকতে সাড়াটা এল ওপর থেকে।

দাঁড়িয়ে না থেকে ওপরে পা বাড়াই। ভাগ্য যা দেখছি, তাতে শেষ পর্যন্ত চোরের হাতেও না পড়তে হয়!

দিদি ওপরে রান্নাঘরে। কড়ার বাঁ-দিকটা সাঁড়াশি দিয়ে ধরে একমনে চেপে খুন্তি নেড়ে যাচ্ছে।

দিদিকে নীচের কথাটা বললাম। দিদি কিন্তু হেসে উড়িয়ে দিলে না। গম্ভীরভাবে বলল,—ঠিক দেখেছিস?

—সেই রকমই তো মনে হল।

—যা তো ফের দেখ। ওকে আমার কাছে দে।…দাঁড়া, এই টর্চটা নিয়ে যা।

সিঁড়ির মাঝ বরাবর এসে বুঝলাম পেছনে দিদি-ও আসছে। ওই ঘরের পরদা সরাতেই একটা ঠান্ডা হাওয়া ওদিকের জানলার পরদা উড়িয়ে পাশের বাড়ির পেয়ারাগাছের দিকে চলে গেল। ঘরে কেউ নেই। অন্তত মনুষ্যশ্রেণিভুক্ত। দিদির ঘরের ইঁদুর আর আরশোলা বহুদিন আগে থেকেই আমাদের আউট নাম্বার করে বসে আছে। ওই ঘরের এক ইঁদুরের কাছে কানমলা না কামড় কি একটা খাওয়ার পর বাড়ির পোষা কুকুরও আর ওখানে ঢুকত না।

ঘরের মেঝেতে ঘোরাফেরা করছে টর্চের আলো। দিদি উবু হয়ে বসে খাটের তলায় সমীক্ষা চালাচ্ছে। খানিকবাদে দিদি বলে উঠল —জানিস তো, সেদিনও কে যেন একই কথা বলেছিল।

আমি হেসে উড়িয়ে দিই। মাঝে হঠাৎ টর্চের আলোটা নিভে যেতে বুঝলাম হাসিটা অজান্তে হারিয়ে গেছে।

এর ঘণ্টা খানেক বাদে আলো ফিরে এলো। আরো মিনিট দশেক বাদে জামাইবাবু। সঙ্গে একটা চোদ্দো-পনেরো বছরের মেয়ে। নতুন কাজের লোক। কিছুক্ষণ পর আমি বললাম মনোতোষবাবুর কথা।

জামাইবাবু নাম চেহারা কোনওটাই খেয়াল করতে পারলেন না। মনোজ, মনোরম এরকম কয়েকটা ‘মনো’ যুক্ত নাম বলে গেলেন, যাদের সঙ্গে জামাইবাবুর আলাপ আছে। কিন্তু কারুর চেহারার বর্ণনাই ওই ব্যক্তির সঙ্গে মিলল না।

এখানে দিদিদের এই বাড়িটার কথা একটু বলা দরকার। আইভরি রঙের সিমেন্ট ওয়াশ করা তিনতলা বাড়ি। বাড়িটা দিদির খুড়শ্বশুরের। আজীবন অবিবাহিত ছিলেন। আদরের ভাইপোর নামে বাড়িটা উইল করে দিয়ে গেছেন।

একসময় ওনার ঘড়ির দোকান ছিল। ব্যবসা রমরমা হতে এই বাড়িটা কিনেছিলেন এক মুসলমান পরিবারের কাছ থেকে। কিন্তু ওনার বয়স তখন চুল পাকিয়েছে। দিয়েছে দু-পাটি বাঁধানো দাঁত আর কোঁচকানো গাল। তবু রাত ন’টায় নিয়ম করে বারান্দায় দাবার আসর বসত। আশপাশের বাড়ি থেকে আরো বুড়োর দল এসে জুটত।

লাঠিতে ভর দিয়ে খেলার রোমন্থন করতে করতে রাত বারোটা নাগাদ বেরিয়ে যেত দাবাড়ুরা।

এরকম বেশ কিছু সন্ধ্যা কাটিয়ে একদিন অসুস্থ হয়ে খুড়শ্বশুর মারা গেলেন। দিদির শ্বশুর ফ্যামিলি নিয়ে আগের বাড়ি ছেড়ে এবাড়ি চলে এলেন।

অবশ্য আসা থেকেই একটা না একটা অঘটন লেগে আছে। হঠাৎ সেরিব্রাল অ্যাটাকে দিদির শাশুড়ি মারা গেলেন। দিদির ননদ স্টোভের আগুন লেগে পুড়ে মারা গেলেন। বাড়ির পোষা কুকুরটা হঠাৎ একদিন বমি করে মারা গেল। তা এই হল বাড়িটার ইতিহাস।

 সেবার এক সপ্তাহ বাদে ফের হাবড়ায় গিয়েছিলাম। জামাইবাবুর সঙ্গে গাড়ি কেনা নিয়ে আলোচনা করছি, হঠাৎ জামাইবাবু একটা বেখাপ্পা প্রশ্ন করে বসলেন।

আচ্ছা, যে ভদ্রলোক আমার খোঁজে এসেছিলেন, তার নাম কী বল তো?

—কেন? আপনাকে বললাম না, মধুতোষ না মনোতোষ কী একটা।

জামাইবাবু একটু গম্ভীর হয়ে গেলেন,—কীরকম দেখতে বল তো?

—এই সাড়ে পাঁচ ফুট হাইট, ফরসা, টিকলো নাক, মাথাভরতি পাকা চুল, মাঝবয়সি।

—কেন? খেয়াল করতে পারছেন—কে?

—না—মানে আমি চিনতে পারিনি। পাশের বাড়ির অন্যত্রবাবু বলছিলেন—

—কী বলছিলেন?

—না, উনি তো এখানকার অনেক দিনের বাসিন্দা! উনি বলছিলেন, কাকাবাবুর আগে নাকি এখান থাকত এক মুসলমান পরিবার। তার-ও আগে থাকত এক মিত্তির পরিবার। স্বামী-স্ত্রী, সুখের সংসার, ভদ্রলোক ছিলেন খুব হুল্লোড় টাইপের। হঠাৎ একদিন রাতে আর বাড়ি ফিরলেন না। থানায় ডায়েরি করা হল। চারদিকে খোঁজাখুঁজি চলল। অনেকদিন কেটে গেল, ওনার আর খোঁজ পাওয়া গেল না। বাড়িটা বিক্রি করে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গেলেন।…তা ওনার নাম মনোতোষ মিত্র। আর দেখতেও নাকি অবিকল ওরকমই।

—তাহলে?…ভদ্রলোক এখনো জীবিত?

—না ভদ্রলোক বেঁচে নেই। অন্যত্রবাবুর স্ত্রীর মুখে শোনা ভদ্রলোকের ডেডবডি নাকি পানুদের পুকুরে পাওয়া গিয়েছিল।

তাহলে?—জামাইবাবুর দিকে দেড় হাত সরে আসি।

—এজন্যই নাকি মুসলমান ওই ফ্যামিলি এ-বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। তখনও এই ভদ্রলোক মাঝে মাঝে খোঁজ করতে আসতেন। অন্যত্রবাবুর ভাষায় অতৃপ্ত আত্মা। আর আসা মানেই নাকি কারুর মৃত্যুর পরোয়ানা। ওদেরও বেশ কয়েকজন পর পর অপঘাতে মারা যায়।

তুই যাবার পর আর একবার উনি এসেছিলেন। আমার অ্যাবসেন্সে। ঝুমু—মানে আমাদের কাজের মেয়েটা দরজা খুলেছিল। কোথায় থাকেন জিগ্যেস করতে তখনো কিছু বলেননি।

এমন সময় হঠাৎ দিদি এসে ঢোকে।

—দেখেছ কী বিপদ! ঝুমু কিছুতেই দরজা খুলতে চাইছে না। প্রায় পাঁচমিনিট কলিংবেল বাজছে। দুধওয়ালা। তবু ও নামবে না। বলে, গতকাল সন্ধ্যায় দরজা খুলে দেখেছে কেউ নেই। যখন ফিরছে, একটা পায়ের শব্দ নাকি ওর সাথে সাথে আমাদের ঘরের দিকে এগিয়ে এসেছে। ঘরে আলো জ্বেলে ও কিছুই দেখতে পায়নি।

—তা, এসব কথা আমাকে তো কিছু বলোনি।

—তোমায় কী বলব? আমিই কি জানতাম! এখন ও বলছে। কাল থেকে ওর তাই কীরকম অ্যাবনর্মাল-অ্যাবনর্মাল হাবভাব।

—না:, এখানকার ব্যাপার-স্যাপার ঠিক সুবিধের লাগছে না। কালকে যখন বাথরুমে গেলাম ঘরে আলো জ্বলছিল। বেরিয়ে দেখি আলো নেভানো। ঝুমু নেভায়নি, তোমরাও নেভাওনি। ঘরে ঢুকে দেখি সব ঠিকঠাক আছে। কিন্তু বিছানার চাদরটা মনে হল গরম। সামান্য কোঁচকানো। কেউ যেন এই মাত্র বিছানা ছেড়েছে। অথচ—

সেদিন রাতে আমারও ভালো ঘুম এল না। ভোরে চোয়া ঢেঁকুর নিয়ে দিদির বাড়ি ছাড়লাম।

এর মাসখানেক বাদে দিদিরা ওবাড়ি ছেড়ে দিল। উপদ্রব বাড়ছিল। ঝুমুও পাগলের মতো হাবভাব শুরু করেছিল। অন্যত্রবাবুই দিদিদের অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কলকাতার উপকণ্ঠে। আটতলায় ফ্ল্যাট। বাসের শব্দ ছাড়া কারো পায়ের শব্দ শোনার উপায় নেই। দিদির শ্বশুর-ও কলকাতায় ব্যবসাপত্র গুটিয়ে চলে এসেছেন। বাড়িটা প্রায় জলের দরে বিক্রি হয়েছে। বাড়ির যা সুনাম—এমনি খদ্দের পাওয়া মুশকিল।

এর বছরখানেক বাদে হাবড়া যেতে হয়েছিল। মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজ। কিছু ডাক্তারকে মুখ দেখিয়ে আসা। হাতে বেশ খানিকটা সময় ছিল। ভাবলাম দিদির বাড়ির দিকটা একবার ঘুরে আসি। দেখে আসি দিদিদের পরবর্তী হতভাগ্য মালিকের অবস্থা। পারলে অন্যত্রবাবুর সঙ্গেও দেখা করব। ওরকম একটা উপকার করলেন।

জায়গাটার সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়াই। চেনাই যায় না। একটা বহুতল ফ্যান্সি মার্কেট। সামনের দোকানে জিগ্যেস করি,—আচ্ছা, এখানে যে বাড়িগুলো ছিল, সেগুলোর কি হলো?

—কেন, অনেকদিন বাদে এলেন বুঝি? এখানকার পাঁচ-ছ’টা বাড়ি ভেঙেই তো এই মার্কেটটা তৈরি হয়েছে।…তা বছরখানেক হবে।

—কিন্তু এখানে যাঁরা ছিলেন?

—প্রায় সবই তো অন্যত্র মিত্রদের ছিল। একটা-দুটো বাড়ি যা ছিল না, তাও আস্তে আস্তে কিনে নিয়েছিল। ওদেরই তো এই বিশাল মার্কেটটা। ওপরের তলায় ওরা থাকে। ওনার ছেলে তো ওই সামনের কাচের ঘরটার বসে।…যান!

এগোতে গিয়ে থমকে দাঁড়াই। ঘরটাতে চা নিয়ে ঢুকল যে মেয়েটি, তাকে আমি ভালো করেই চিনি—ঝুমু। আর অন্যত্রবাবুর ছেলে যার সঙ্গে কথা বলছেন—তিনিও আমার বেশ চেনা। কয়েক মুহূর্তের আলাপ হলে-ও!