কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

কুয়াশার ফুল – ১৫

পঞ্চদশ অধ্যায়

‘কিন্তু আপনি এভাবে কতদিন পালিয়ে পালিয়ে বেড়াবেন? ধরা তো আপনাকে দিতেই হবে, তাই না?’

দলটা আপাতত ফিরে গেছে। মশালের আলোর তীব্রতা কমে এসেছে জঙ্গলের ভিতরে। তবে ওরা বুঝতে পেরেছে যে সায়ন আর গঙ্গা এদিকেই এসেছে। দূর থেকে ওদের হাঁকডাকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।

কোনওরকমে গাছের আড়ালে লুকিয়ে নিজেদের আড়াল করেছে ওরা। গঙ্গা কিছুক্ষণ স্থির চোখে তাকিয়ে থাকে ওপরের দিকে। ওদের গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করে। তারপর শান্ত গলায় বলে, ‘আপাতত আর এদিকে আসবে না। দেখি তোমার পা-টা…’

সায়নের মনে হয়েছিল ওর মালাইচাকি গুঁড়ো হয়ে গেছে। গঙ্গা সেই জায়গাটার ওপর হাত রেখে একটু চাপ দেয়। সায়ন ককিয়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে ওর মুখ চেপে ধরে গঙ্গা, ‘আঃ, চিৎকার কোরো না। ওরা শুনতে পেয়ে যাবে…’

কোমরের কাছে বাঁধা চটের থলেটা খুলে তার ভেতর থেকে একটা শিশি বের করে গঙ্গা। কিছু একটা আঙুলে নিয়ে ওর হাঁটুতে লাগিয়ে দেয়। সোজা হয়ে দাঁড়াতে বলে, ‘আপাতত একটু শুয়ে থাকো। মিনিট পনেরো লাগবে। তারপর ঠিক হয়ে যাবে…’

সায়ন ভালো করে দেখে গঙ্গাকে। ছবিতে যেমন দেখেছিল তার থেকে তেমন কিছু বদল আসেনি শরীরে। হাঁটাচলার মধ্যে একটা দৃঢ় ভাব আছে। চোখের মণি চঞ্চল। সায়নের বুকের ভিতর উত্তেজনাটা একটু একটু করে কমে আসে। গঙ্গার মুখে একটা নিরাপত্তার আশ্রয় আছে।

হাত বাড়িয়ে জঙ্গলের একটা গাছ থেকে ফল ছিঁড়ে নেয় গঙ্গা। তারপর সেটার ওপর কামড় বসায়।

‘ফাঁসটা মৌলির জন্য ছিল, তাই না?’

গঙ্গা উপরে নিচে মাথা নাড়ায়। একমনে চিবোতে থাকে ফলটা।

সায়ন এতক্ষণে লক্ষ করে ও গঙ্গাকে যতটা শারীরিকভাবে অক্ষম মনে করেছিল আদৌ তেমনটা নয়। কেবল মুখে একরাশ ক্লান্তি আর অনাহারের ছাপ। শরীরে অসংখ্য কাটাছেঁড়া দাগ। কপালে তিনটে নখের আঁচড় জ্বলজ্বল করছে। মুখটা ভীষণ ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে।

‘দেখুন, আমি জানি আপনাকে ফাঁসানো হয়েছে। আপনি আদৌ কাউকে খুন করেননি, বাচ্চাগুলোকেও চুরি করেননি…’

ওর দিকে রাগত চোখে তাকায় গঙ্গা, ‘তুমি কিছুই জানো না।’

‘সত্যিই কি করেছেন আপনি? যদি কিছু করে না থাকেন তাহলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কেন?’

হঠাৎ কী নজরে পড়তে মাটির ওপর থেকে উঠে পড়ে গঙ্গা। তারপর হাত বাড়িয়ে একটা ফল পেড়ে এনে ওর দিকে ছুড়ে দিয়ে বলে, ‘আগে খেয়ে নাও, তারপর প্রশ্নোত্তর, শিশু আগে খেতে শেখে তারপর প্রশ্ন করতে, তাই না?’

কথা না বাড়িয়ে ফলটা খেয়ে নেয় সায়ন। এতক্ষণে ওর পায়ের ব্যথাটা সত্যিই কমতে শুরু করেছে। যেভাবে আঘাতটা লেগেছিল তাতে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে উঠে দাঁড়াতে পারবে ভাবতেই পারেনি।

ফলটা কিছুটা খেয়ে বাকিটা ছুড়ে ফেলে দেয় গঙ্গা। তারপর কোমরের থলে দুটো ভালো করে বাঁধতে বাঁধতে বলে, ‘তুমি বাড়ি যাও এখন। আমাকে অনেক দূর যেতে হবে।’

‘কোথায় যাবেন?’

মুখে একটা অদ্ভুত ভঙ্গি করে গঙ্গা, ‘তুমি কী করবে জেনে?’

‘ওরা গোটা জঙ্গলের আশেপাশে ছড়িয়ে আছে। আপনি ধরা পড়লে আস্ত রাখবে না।’

গঙ্গা দু-পা এগিয়ে আসে ওর দিকে, ‘তোমার চিন্তা হচ্ছে আমার জন্য?’

সায়ন মুখ নামিয়ে নেয়, ‘আপনি আমার মায়ের বয়সি। আমি চাই না আপনার কোনও ক্ষতি হোক…’

গঙ্গা উত্তর দেয় না। অদ্ভুত দৃষ্টিতে একমনে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। সায়ন নিজে থেকেই বলে, ‘মৌলি বলেছিল আপনার কাছে সব রোগের ওষুধ থাকে। এমনকী মন খারাপেরও। আপনি ম্যাজিক জানেন…’

গঙ্গা ওর মাথা স্পর্শ করে, ‘এই যে বললে আমি ডাইনি নই? আচ্ছা বলো, কী কারণে মন খারাপ করে তোমার?’

‘মায়ের জন্যে…’

‘মা নেই বলে?’

‘না, মা আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারল বলে। ছোট থেকে এত বড় হয়েছি কখনও কারও মা কাউকে ছেড়ে চলে গেছে বলে শুনিনি…’ জঙ্গলের ঘন হয়ে থাকা হাওয়ায় সায়নের গলার স্বর গাছের পাতার সরসর শব্দের মতোই শোনায়।

‘কই…’ গঙ্গা ওর চোখে চোখ তুলে তাকায়, ‘আমি তো দেখতে পাচ্ছি তোমার মাকে। মায়ের রক্ত বইছে তোমার শরীরে…’ ওর গালে মাথায় একবার আলতো করে হাত বুলিয়ে দেয় গঙ্গা, ‘মা ভালো হোক বা খারাপ, বাড়িতে থাক বা ছেড়ে চলে যাক। তোমার শরীরে যতক্ষণ রক্ত আছে ততক্ষণ তার সব থেকে প্রিয় জিনিসটা তোমাকে দিয়ে গেছেন তিনি…’

‘কী জিনিস?’

‘তার অস্তিত্ব। আমরা চলে যাওয়ার পরেও শুধু যেটুকু থেকে যাবে। আর কিছু কি আমরা রেখে যেতে পারি—বলো?’

কথাগুলো বলে উল্টোদিকে হাঁটতে যাচ্ছিল গঙ্গা। কিন্তু কেমন যেন একটু টলে গেল সে। সায়ন দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ধরে নেয় গঙ্গাকে।

নিজের কপালে হাত রাখে গঙ্গা, ‘আসলে ঘুম হয়নি ক’দিন। তাই মাথাটা…বয়স হচ্ছে তো!’

গঙ্গা ওর দিকে তাকায়। ক্লান্ত, অবসন্ন দুটো চোখ। বোঝা যায় জঙ্গলের খোলা বাতাসে ঘুমানোর বিলাসিতা নেই। সতর্ক না থাকলে যে-কোনও সময়ে বন্য জন্তু আক্রমণ করতে পারে। পরপর ক’দিন অনাহার আর না ঘুমানোর ফলে শরীর চলতে চাইছে না আর।

সায়ন ওকে থামিয়ে বলে, ‘আপাতত আপনি জঙ্গল থেকে বেরোবেন না। ওরা গোটা জঙ্গলটা ঘিরে ফেলেছে। আজকের রাতটা অন্তত লুকিয়ে থাকুন। আমি একটা জায়গা চিনি। এখান থেকে বেশি দূরে না…’

গঙ্গা আর আপত্তি করে না। ওর শরীরটা সত্যি বিশ্রাম চাইছে। সায়ন ওর একটা হাত নিজের কাঁধে তুলে নেয়। ও নিজেও জোর পাচ্ছে না শরীরে। দুজনে কোনওরকমে শক্তি সঞ্চয় করে হাঁটতে শুরু করে জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে।

* * * *

রাস্তা দিয়ে ধেয়ে আসা একটা গাড়িকে ধাক্কা দিতে দিতে সামলে নিল প্রত্যয়। গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ করেই ঘুরে গেছে মাথাটা। ঘুমিয়ে পড়েছিল কি কয়েক সেকেন্ডের জন্য?

তনুজা ধমক দিল ওকে, ‘হয়েছেটা কী তোর? অ্যাক্সিডেন্ট করবি নাকি?’

‘মাথাটা…’ নিজের কপালে হাত দিয়ে রগদুটো টিপে ধরল প্রত্যয়, ‘মাথাটা ব্যথা করছে ভীষণ…’

‘আমারও, দাঁড়িয়ে একটু চা খেয়ে নিই তাহলে?’

রাস্তার ধারে গাড়িটা দাঁড় করায় ওরা। সামনেই একটা গুমটি চায়ের দোকান। বেলতলা থেকে মাত্র আধঘণ্টা মতো গাড়ি চালিয়েছে ওরা। এইটুকুতেই মাথাব্যথা করছে কেন কে জানে! দোকানে চায়ের অর্ডার দিয়ে বসতে বসতে প্রত্যয় বলে, ‘আজকাল শরীরে কী হয়েছে কে জানে, কাল মাল খাওয়ার পর থেকেই মনে হয় হ্যাংওভারটা এখনও কাটেনি…’

তনুজাকেও চিন্তিত দেখায়, ‘যা বলেছিস মাইরি, কখন ঘরে এলাম, কখন শুলাম, কী হল কিছু মনে পড়ছে না…’

বিকেল নামতে শুরু করেছে এতক্ষণে। ওরা দুজনে পাশাপাশি বসে চায়ের কাপে চুমুক দেয়। বিস্কুট ডোবাতে গিয়ে একটা টুকরো চায়ের কাপের মধ্যেই পড়ে যায়, বিরক্ত হয় তনুজা, ‘ধুর শালা, কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছে না…’

প্রত্যয়ও ওর সুরে সুর মেলায়, ‘এদিকে শালা গিয়েও কোনও লাভ হল না। বুড়োর শুধু টাকা খেঁচার ধান্দা…কিছুই জানি না। যত্তসব!’

তনুজা বড় করে একটা চুমুক দিয়ে বলল, ‘আমার না, কেমন মনে হচ্ছে বুড়ো আরও কিছু জানত। ঠিক করে মন দিয়ে শুনলে…বারবার মনে হচ্ছিল কিছু যেন বলছে আবার…’

আবার মাথার রগ চেপে ধরে প্রত্যয়, ‘নাঃ মাথাটা কাজ করছে না। এতক্ষণ ধরে বকবক করল কিন্তু কিছুই মনে পড়ছে না…’

‘বাদ দে, কাটা…আমি মনগড়া কিছু একটা বানিয়ে নেব নাহয়…’ হাত দিয়ে একটা ইশারা করে তনুজা।

প্রত্যয় পকেট থেকে ফোন বের করে মুখের সামনে ধরে, তারপর মুখ দিয়ে একটা শব্দ করে বলে, ‘যাঃ গাঁড় মারা গেছে!’

‘সে কী রে! কী হল?’

ফোনটা তনুজার দিকে ঘুরিয়ে দেখায় প্রত্যয়, ‘ফোনটা এসেফেক্সের জন্য রেকর্ডিং মোডে রেখেছিলাম, বন্ধ করতে ভুলে গেছি—। এতক্ষণ ধরে রেকর্ডিং হয়েই গেছে…আমিও বাঁড়া…’

বিশাল ঘণ্টাখানেকের ফাইলটাকে এক ঝটকায় ডিলিট করতে যাচ্ছিল প্রত্যয়। তনুজা ওর হাতে হাত রেখে বাঁধা দেয়, ‘ডিলিট করিস না, ভালো হয়েছে। হ্যাং ওভারটা কাটলে আর একবার শুনব নাহয়…’

কী মনে করে ফাইলটা দেখতে গিয়ে একটু খটকা লাগে প্রত্যয়ের। ভুরু কুঁচকে বলে, ‘আচ্ছা বেলতলার জমিদারবাড়িতে আমরা কতক্ষণ ছিলাম তাও?’

‘কতক্ষণ হবে, মিনিট পনেরো হবে…’

প্রত্যয় ঘড়ি দেখে। তারপর কী যেন হিসেব করে বলে, ‘স্পষ্ট মনে আছে সাড়ে এগারোটায় ও বাড়িতে ঢুকেছি। রেকর্ডিংটা যে সময়ে শুরু হচ্ছে সেটা হিসেব করলে অন্তত চল্লিশ মিনিট ও বাড়িতে ছিলাম আমরা…’

‘এতক্ষণ! হতেই পারে না…’ তনুজা অবিশ্বাসের গলায় বলে।

এতক্ষণে চা খাওয়া হয়ে গেছে ওদের। মনটা খুচখুচ করে ওর। তাহলে কি হ্যাংওভারের জন্যই সময়ের হিসেব হারিয়ে যাচ্ছে? নাকি অন্য কিছু?

চা শেষ করে দুজনে আবার গাড়িতে উঠে আসে। তনুজা সিটে বসতে বসতে বলে, ‘তোর ব্লুটুথ স্পিকারে একবার চালা তো অডিওটা…’

প্রত্যয় দ্বিরুক্তি না করে গাড়ির স্পিকারে রেকর্ডিংটা একটা বিশেষ জায়গা থেকে চালিয়ে দেয়। ওপাশ থেকে এক এক করে ভুপেন আর রতনের গলা ভেসে আসতে থাকে।

‘প্রত্যয়!’ তনুজার কাঁপা কাঁপা গলা শোনা যায় কিছুক্ষণ পরে। অন্যজনের গাড়ি চালানোর গতি ততক্ষণে শ্লথ হয়ে এসেছে। তার ভুরুতেও ভাঁজ পড়েছে।

‘ওয়াট দ্যা ফাক ইজ হ্যাপেনিং!’ চিৎকার করে ওঠে প্রত্যয়। তনুজা ধীর গলায় বলে, ‘কাল রাতে একটা নীল আলোর কথা ঝাপসা মনে পড়ছে আমার…কেউ আমাদের ভুলিয়ে দিয়ে…’

‘কী বলতে চাইছিস তুই?’

‘কাল রাতে থেকে আমরা নিজেদের মধ্যে ছিলাম না…গাড়ি ঘোরা। কুইক…’

‘আবার ওখানে যাবি তুই?’ প্রত্যয় হতবাক গলায় বলে।

‘না, যে চিঠিগুলোর কথা বলছেন ভুপেনবাবু সেগুলো সম্ভবত আমরাই কোথাও নষ্ট করে দিয়েছি। তার মধ্যে কিছু উদ্ধার করা যায় কিনা দেখতে হবে…’

‘কিন্তু এখন কোথায় পাবি ওসব?’

‘জানি না। কিন্তু ওগুলো হারিয়ে যাওয়া আমরা অ্যাফোর্ড করতে পারব না…কুইক, স্টার্ট কর…’

গাড়ি ঘুরিয়ে উল্টোদিকে ড্রাইভ করতে থাকে প্রত্যয়। এতক্ষণে ওর মাথার ব্যথাটা কমে এসেছে। তার বদলে আশ্চর্যরকম পরিষ্কার হয়ে উঠেছে সমস্ত কিছু। সজোরে গাড়ি হাকিয়ে দেয় সে।

ফাঁকা শুনশান গ্রাম্য রাস্তা। দুপাশে খোলা মাঠ পড়ে আছে। শীতের বেলা, তাই দ্রুত সন্ধে নামতে শুরু করেছে। একটু পরে আর কিছুই দেখা যাবে না।

হঠাৎ কী যেন দেখতে পেয়ে চেঁচিয়ে ওঠে তনুজা, ‘ওই যে, ওখানে কিছু একটা আছে…’

প্রত্যয় তাকিয়ে দেখে সেদিকে মাঠের উপরে খুব অল্প ধোঁয়ার কালো শিখা সাপের মতো বেয়ে বেয়ে উপরের দিকে উঠছে। দুজনে দ্রুতপায়ে সেদিকে এগিয়ে যায়।

ঘাসের উপরে পড়ে আছে কিছু আধপোড়া কাগজ, কয়েকটা হাতে লেখা চিঠি আর শতাব্দী প্রাচীন একটা খাতা। বেশিরভাগটাই পুড়ে গেছে।

তনুজার মুখ দিয়ে একটা অস্ফুট শব্দ বেরিয়ে আসে, ‘গুপ্তধন!’

* * * *

পুরনো ভাঙা লরিটার কাছে এসে ওরা দাঁড়িয়ে পড়ে। সিঁড়ির দিকটা প্রায় ভেঙে পড়েছে। কোনওরকমে তার পাদানিতে পা রেখে দুজনে ভিতরে ঢুকে আসে। ভিতরটা বিশ্রী একটা গন্ধে ভরে আছে। সম্ভবত কিছু একটা মরে পচেছে ক’দিন আগে। ড্রাইভারের ছেঁড়া সিটের উপরে গঙ্গাকে বসিয়ে নিজে ওর পাশে গিয়ে বসে পড়ে সায়ন। স্টিয়ারিঙের বেশিটাই ভেঙে গেছে। তার উপরে ক্লান্ত মাথা এলিয়ে দেয় গঙ্গা।

‘আপনি এ গ্রাম ছেড়ে চলে যান। আমি কিছু লোকজনকে চিনি। একবার এখান থেকে চলে গেলে ওরা আপনার আর ক্ষতি করতে পারবে না।’

‘কোথায় যাব?’

‘জানি না…শহরে? ওখানে এরকম শেয়াল কুকুরের রাজত্ব চলে না, অন্তত ক্যাঙ্গারু কোর্ট বসিয়ে ডাইনি সন্দেহে কাউকে…’

একটা নরম হাসি হাসে গঙ্গা, তার মুখটা করুণ দেখায়, ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের বদলে কী যেন বলে…হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট বসানো হয়। জলঘোলা হয়, ধর্ম আসে, রাজনীতি আসে, আলোচনা হয়, প্রতিবাদ হয়, তারপর সেই ডাইনি সন্দেহে পুড়িয়ে মারা হয়। যে মারে তার বিচার হয় না। না হে, কিছু খবর আমিও রাখি। পালিয়ে আর যাব কোথায়?’

সায়ন আর কিছু বলতে পারে না। গঙ্গা মাথাটা পেছনে হেলিয়ে এলিয়ে পড়তে পড়তে বলে, ‘তার থেকে একটু ঘুমিয়ে নিই। পালাতে পালাতে ক্লান্ত হয়ে গেছি…’

ভাঙা উইন্ডস্ক্রিন দিয়ে চাঁদের আলো এসে গঙ্গার মুখে পড়ে। সেই আলোয় অদ্ভুত মায়াবী নরম দেখায় তাকে। কপাল বেয়ে গড়িয়ে আসা জ্যোৎস্না তার খাড়া নাক ছুঁয়ে যায়। কপালের তিনটে চেরা দাগ যেন রাজটিকার মতো জ্বলজ্বল করে। আসন্ন পরাজয়কে বরণ করে নেওয়া এক ক্লান্ত হতোদ্যম সৈনিকের মতো দেখায় তাকে। ক্রমশ গভীর ঘুমে ঢলে পড়ে সে। ওর মাথাটা হেলে পড়ে, আশ্রয় নেয় সায়নের কাঁধে। বুকের ধুকপুকুনি শুনতে পায় সায়ন। ওর নিজেরও চোখ বুজে আসে। অদ্ভুত এক শান্তি!

সায়নের তন্দ্রা যখন ভাঙে। কতক্ষণ অতিবাহিত হয়েছে ও নিজেও জানে না। এখনও আগের আগের মতোই ঝিঁঝি ডেকে চলেছে। চারপাশ অদ্ভুতরকম নিস্তব্ধ। গঙ্গার মাথাটা এখনও ওর কাঁধেই হেলে রয়েছে।

হঠাৎ একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ করে সায়ন। ওর ঘুম কোনও স্বাভাবিক কারণে ভাঙেনি। ভেঙেছে কিছু বিশেষ ধরনের শব্দে। এবং সে শব্দটা আসছে লরির চারদিক থেকে। চতুর্দিকে ছড়িয়ে থাকা বুনো জন্তুদের মধ্যে কেমন যেন একটা চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। অথচ চারপাশে চোখে পড়ার মতো কিছুই নেই প্রায়।

সায়ন সতর্ক হয়ে খেয়াল করে চারদিক। করতেই ওর বুকের রক্ত হিম হয়ে যায়। খুব ক্ষীণ খসখসে আওয়াজ আসছে। যেন জঙ্গলের ভিতর খুব সাবধানে সন্তর্পণে পা ফেলছে অনেকগুলো লোক। দল বেঁধে তারা এগিয়ে আসছে ওদের দিকে।

‘গঙ্গা, গঙ্গা! ওরা এসে পড়েছে! পালাতে হবে আমাদের…’

মুহূর্তে চতুর্দিক বদলে যায়। জনা তিরিশেকের দলটা হাতে মশাল আর লাঠিসোটা নিয়ে হিলহিলিয়ে বেরিয়ে আসে জঙ্গলের গাছপালার ফাঁক দিয়ে। মুহূর্তে ঘিরে ফেলে লরিটাকে। এতক্ষণ যে জায়গাটায় বুনো জন্তুর হাঁকডাক ছাড়া আর কিছু ছিল না, সেটা ভরে ওঠে ঝাঁক-ঝাঁক মানুষজনের চিৎকারে। ছোট ভাঙা লরিটাকে ঘিরে ফেলে উত্তেজিত চিৎকার করতে থাকে ওরা।

‘এই এখানেই আছে, টেনে নামা মাগিকে!’

‘জ্বালিয়ে দে শালিকে। ওর ডাইনিপনা শেষ করে দেব আজ!’

সায়ন তাকিয়ে দেখে গঙ্গার ঘুম এতক্ষণে ভেঙেছে। বাইরের দৃশ্য খেয়াল করে না সে। তৃপ্তিমাখা মুখ তুলে বলতে যায়, ‘কী সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখলাম, জানো?’

সায়ন তার আগেই ওকে থামিয়ে দেয়। ধাক্কা দিয়ে বলে, ‘দৌড়াতে হবে আমাদের। আপনাকে ধরতে পারলে ওরা…’

একদল লোক ছুটে এসে লরির দরজাটা টেনে খুলে ফেলে। তারপর হাত বাড়িয়ে টেনে নামায় সায়নকে। ও লক্ষ করে ওপাশ থেকে গঙ্গাকেও চুলের মুঠি ধরে হিড়হিড় করে টেনে নামানো হয়েছে। তাকে মাটিতে ফেলে চোখে মুখে পেটে পরপর লাথি মারতে থাকে একদল লোক।

সায়ন চিৎকার করে প্রায় কেঁদে ওঠে, ‘অত মারলে ও মরে যাবে! আপনারা কী মানুষ?’

কেউ কেউ থুতু ছিটিয়ে দেয় গঙ্গার শরীরে। সায়ন লরির তলা দিয়ে লক্ষ করে এতক্ষণ লাথি মারতে থাকা পা’গুলো দাঁড়িয়ে গেছে। পরমুহূর্তে কাতরাতে থাকা গঙ্গার শরীরে কয়েকটা সরু জলধারা এসে পড়ে, সঙ্গে হাসির শব্দ। পেচ্ছাপের গন্ধে ভরে ওঠে বন্য জায়গাটা।

সায়ন কাটা ছাগলের মতো চিৎকার করে ওঠে, ‘গঙ্গা ডাইনি নয়! ওকে ছেড়ে দিন, গঙ্গা ডাইনি নয়…’

কিন্তু হিংস্র হাসি আর চিৎকারের মাঝে ওর গলার আওয়াজ ঢাকা পড়ে যায়। ওর মুখেও কয়েকটা লাথি এসে পড়ে। পরক্ষণে হাতে টান পড়ায় বুঝতে পারে ওদের দুজনকে টেনে হিঁচড়ে কোথাও একটা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মাটির উপর ঘসটানিতে শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। ও আশেপাশে তাকিয়ে দেখে গঙ্গাকে আর দেখা যাচ্ছে না।

টানতে টানতে ওদের জঙ্গল ছাড়িয়ে একটা খোলা মাঠের মধ্যে নিয়ে যায় লোকগুলো। হট্টগোলের মধ্যে প্রভাকরকে আবার দেখতে পায় সায়ন। তার হাতে একটা কাটারি। মারতে মারতে প্রায় আধমরা করে রক্তাক্ত অবস্থায় গঙ্গাকে একটা বড় গাছের সঙ্গে বেঁধেছে গ্রামের লোকগুলো। বাঁধার পরেও তার দিকে ছিটিয়ে দিচ্ছে থুতু আর ঢিলের টুকরো। সেই সঙ্গে ক্রমাগত চলেছে প্রহার। ওর কপাল ফেটে গেছে। সমস্ত শরীর থেকে পেচ্ছাপের গন্ধ বেরোচ্ছে। মারের চোটে ফুলে যাওয়া রক্তাক্ত মুখটা আর চেনাই যাচ্ছে না। টেনে টেনে ওর চুলগুলো ছিঁড়ছে একদল লোক। কেউ মৃত হরিণের পাঁজর থেকে মাংস খুবলে নেওয়া হায়নার মতো টেনে ছিঁড়ছে ওর পোশাক…।

সায়নকে খানিক দূরে পিছমোড়া করে বাঁধা হয় অন্য একটা গাছের সঙ্গে। ওকে দেখতে পেয়ে কাছে এসে ওর গাল টিপে ধরে প্রভাকর, তারপরে হিসহিসে গলায় বলে, ‘আগে ওই ডাইনিটাকে শেষ করি, তারপর তার পোষা বিড়ালের কী ব্যবস্থা করা যায় দেখছি…’

সায়নের শরীরটা অবশ হয়ে আসছে। ও নিজের যন্ত্রণা ভুলে যায়। অবরুদ্ধ কান্না বেরিয়ে আসে ওর গলা দিয়ে। গঙ্গাকে মেরে ফেলবে ওরা…।

ও যেখানটায় দাঁড়িয়ে আছে সে জায়গাটা অপেক্ষাকৃত ফাঁকা। ওকে নিয়ে লোকগুলোর ততটা আগ্রহ নেই। ওরা আপাতত গঙ্গাকে মারধর করতেই ব্যস্ত।

‘পুড়িয়ে দে…পুড়িয়ে দে শালিকে…’ বিবস্ত্র গঙ্গার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে ওঠে কেউ।

প্রভাকর হাত তুলে তাকে বাধা দেয়, ‘দাঁড়া, ও পরে হবে। আগে যে হাত দিয়ে আমাদের বাচ্চাগুলোকে তুলে নিয়ে গেছে, সেগুলোর ব্যবস্থা করি…’

পকেট থেকে একটা গজাল বের করে প্রভাকর। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় গঙ্গার রক্তাক্ত শরীরটার কাছে। কিছুক্ষণ একটানা তাকিয়ে থাকে গঙ্গার দিকে। তারপর আচমকাই ওর কব্জির কাছে সজোরে সমূলে বসিয়ে দেয় গজালটা। আকাশ ফাটিয়ে আর্তনাদ করে ওঠে গঙ্গা, প্রতিধ্বনিত হতে থাকে সেই আওয়াজ। যন্ত্রণার চিৎকারের সঙ্গে মিশে যায় কান্না। সেটার রেশ কাটতে না কাটতে আর একহাতে গজাল ঢুকে যায় তার।

পকেট থেকে অন্য একটা যন্ত্র বার করে প্রভাকর, ‘যে মুখ দিয়ে আমাদের বাচ্চাগুলোকে খেয়েছে সেখানে…’

একটা পেরেক তোলার সাঁড়াশি দিয়ে একটা একটা করে গঙ্গার দাঁতগুলো তুলতে থাকে সে। উন্মাদ চিৎকার আর ভেসে আসা কৌতুক হাসাহাসিতে ভরে ওঠে জায়গাটা।

জগন্নাথ এগিয়ে যায় এবার। বউটার কথা মনে পড়ছে এখন ওর। খুব ভালোবাসত বউকে। কাজ থেকে ফিরে একদিন দেখেছিল সামনের গাছ থেকে ঝুলতে। বউয়ের ছিবড়ে হয়ে যাওয়া শরীরটাও ভারি উপাদেয় মনে হয়েছিল তখন। গজালটা প্রভাকরের হাত থেকে নিয়ে গঙ্গার পেটের কাছে ধরে জগন্নাথ। হাসি খেলে যায় মুখে। বিড়বিড় করে বলে, ‘আমার বউয়ের শরীলটাও তোর মতো ছিল। দেখ কেমন মজা দি…’ গজালটা ঢোকাতে গিয়ে ওর নিজেরই মুখ থেকে চাপা শব্দ বেরিয়ে আসে। রক্তে ভরে যায় ওর হাত।

সায়নের সারা শরীর ঝিমঝিম করছিল। মনে হচ্ছিল এক্ষুনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবে। মনে হল গঙ্গার আগে লোকগুলো যদি ওকে মেরে ফেলত তাহলে এই দৃশ্য ওকে চোখের সামনে দেখতে হত না।

হঠাৎ এত চিৎকারের মধ্যেও সামনে একটা আলতো শব্দ শুনতে পায় সায়ন। ওর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে কেউ। ওর চোখ খুলে যায়। আবার খেয়াল করে শুনতে পায়, ‘ছোটদাদা, ও ছোটদাদা…’

এই গলার আওয়াজটা ও চেনে। কুসুম! সায়ন সামনে চোখ ফিরিয়ে দেখে ওর ঠিক সামনে এসে দাঁড়িয়েছে কুসুম। ও কী করে এল এখানে? কুসুমের হাতে একটা ছোট পেয়ারা কাটার ছুরি। ওকে মুখে আঙুল রেখে চুপ করতে বলে ওর পেছন দিকে সরে আসে কুসুম।

‘তুমি ভয় পেয়ো না। আমি তোমার দড়ি কেটে দিচ্ছি। তুমি পালিয়ে যাবে কিন্তু…’

‘কিন্তু কুসুম, গঙ্গা…গঙ্গাকে ওরা…’

পেছন থেকে কুসুম বিমর্ষ গলার বলে, ‘গঙ্গাদিদিকে বাঁচাতে পারব না ছোটদাদা…তুমিও পারবে না…’

সজল চোখে গঙ্গার দিকে তাকিয়ে থাকে মেয়েটা। একটা একটা করে উপড়ানো হচ্ছে তার দাঁত, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। অথচ মরতে দেওয়া হচ্ছে না কিছুতেই। ওর চিৎকারের বদলে তীব্র হাসির শব্দ ছুড়ে দিচ্ছে জনতা। সেই শব্দ কানে নিয়েই দড়ি কেটে সায়নের হাতের বাঁধনটা খুলে ফেলে কুসুম।

ছাড়া পেয়েই একছুটে সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছিল সায়ন। তার আগেই ওর হাত ধরে কুসুম, ‘তুমি যেও না! গঙ্গাদিদিকে তুমি বাঁচাতে পারবে না। তুমি যেও না। পালিয়ে যাও!’

শেষের কথাগুলো প্রায় চিৎকার করে বলে কুসুম। ওর চোখে জল। সেটা মুছে নিয়েই একছুটে লোকগুলোর মাঝে মিলিয়ে যায় কুসুম। আর দেখা যায় না তাকে।

সায়ন তাও দৌড়াতে যাচ্ছিল ওদিকে। ওর হাতে একটা হাতের স্পর্শ লাগে। সেই হাত ওকে একটা হ্যাঁচকা টানে টেনে নিয়ে আসে জঙ্গলের মধ্যে।

মৌলি!

‘তুই! ওরা গঙ্গাকে…’ সায়ন পকেট থেকে ফোন বের করে ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলীর নাম্বারটা ডায়াল করে। ওপাশ থেকে তার উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর শোনা যায়, ‘মিস্টার মজুমদার, আপনি কোথায়?’

‘মাঠে, আপনারা তাড়াতাড়ি এখানে চলে আসুন, প্লিস যত তাড়াতাড়ি সম্ভব…’

‘কেন কী হচ্ছে ওখানে?’

‘গ্রামের লোকেরা গঙ্গাকে ধরে ফেলেছে। ওরা ওকে এক্ষুনি পুড়িয়ে মেরে ফেলবে…’

গাঙ্গুলীর নিরুত্তাপ গলা শোনা যায়, ‘সেই জন্যই বলছি আপনি এইসব ফালতু লাফড়ার মধ্যে থাকবেন না। এখানে চলে আসুন, আমি আপনার বাড়িতেই আছি…’

‘আপনি কি পাগল?’ সায়ন গর্জে ওঠে, ‘গঙ্গা যে কোনও ক্রাইমের সঙ্গে যুক্ত নয় সেটা আপনিও জানেন। তাছাড়া আমার কাছে প্রমাণ আছে গঙ্গার ফ্যামিলি হিস্ট্রিতে ডাইনি বলে কেউ ছিল না। আপনার কাছে ফোর্স আছে, অস্ত্র আছে…’

‘তাতে আমার কিছু যায় আসে না মিস্টার মজুমদার…’ ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলীর গলায় একটা অদ্ভুত উদাসীনতা খেলে যায়, ‘কিন্তু গঙ্গা ক্রাইম করুক আর না করুক, ওকে বাঁচিয়ে রাখলে আমার চাকরিটা যে আপনার জেঠু খাবেন…’

সায়ন কথা বলতে পারে না। কান বেয়ে যেন আগুন ঝরে পড়তে থাকে ওর। ওপাশ থেকে আবার শোনা যায়, ‘সব থেকে বড় ফোর্স আর অস্ত্র কার কাছে আছে জানেন? সর্বশক্তিমান ভগবানের কাছে। তিনি যখন নেমে এসে কিছু করছেন না, আমি তো তার অনুগত দাস…’

‘খানকির ছেলে!’ সায়নের মুখ থেকে এক দলা থুতুর সঙ্গে খিস্তিটা বেরিয়ে আসে। সেটা গাঙ্গুলীর উদ্দেশে, নাকি সেই সর্বশক্তিমানের উদ্দেশে বোঝা যায় না।

‘আরে, রাগ করবেন না, তার চেয়ে কাল সকালে ওর পোড়া দেহটা নিয়ে আপনি বরং গ্রাম্য কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মোমবাতি মিছিল করবেন। এখন চলে আসুন ওখান থেকে…’

হাতের ফোনটা সজোরে গাছের উপর ছুড়ে মারে সায়ন। একটা হলদে আলো জ্বলে উঠেছে মাঠের দিকে। সমস্ত জায়গাটা ভরে গেছে কেরোসিনের গন্ধে।

মৌলি এসে দাঁড়িয়েছে ওর পেছনে। সায়ন ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে যায় ওর দিকে, ‘মৌলি গঙ্গাকে…ওরা গঙ্গাকে মেরে ফেলবে!’

‘আমি জানি…আমাদের কিছু করার নেই…’

সায়ন বিশ্বাস করতে পারে না কথাটা, ‘গঙ্গা তোর মা মৌলি!’

মৌলি সজল চোখ তুলে তাকায় ওর দিকে। ওর গালে একটা হাত রাখে। দুদিকে মাথা নাড়ায়, ‘না, গঙ্গা আমার মা নয় সায়নবাবু…’

‘তাহলে?’

মৌলির মুখে একটা করুণ হাসি ফোটে। দূরে জ্বলন্ত মানুষটার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘গঙ্গা আপনার মা সায়নবাবু। আপনার বায়োলজিক্যাল মাদার…’