সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৭.৬
৭.৬
গঙ্গারাম যখন মিশন হাউসে যেতে শুরু করল, ততদিনে বিল সাহেবের মনোযোগ ধর্মের প্রচার পুস্তিকা ছাপানো থেকে সরে গিয়েছে রুয়ানো ডে ইনকান্টের হর্টাস বেঙ্গলেনসিস অনুবাদের কাজে। এক স্যাডলব্যাগ ভর্তি তার পাণ্ডুলিপি পাদরিবাবা মৃত্যুর আগে তাঁকে দিয়ে যান। এগারো বছর ধরে গোয়ার ইহুদি উদ্ভিদবিদ গার্সিয়া ডি’ওর্টার সঙ্গে চিঠিপত্রের সংলাপ চালিয়েছিলেন রুরানো, বা ডি’ওটা লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন Coloquios dos simples e drogas da India নামে প্রকাশিত তাঁর সুবিখ্যাত বইতে। হর্টাস বেঙ্গলেনসিস তারই সহযোগী গ্রন্থ। তবে এখানে যেসব গাছগাছড়া এবং তাদের ওষধি গুণাগুণ লেখা রয়েছে, সেসবই বাংলার মাটিতে জন্মায়।
দুশো বছরের পুরোনো তুলোট কাগজে এক পর্তুগীজ যাজকের হাতে আঁকা গাছগাছড়ার অনুপুঙ্খ রেখাচিত্র দেখে বিস্মিত হয় গঙ্গারাম। তার কিছু কিছু চিনতে ও পারে। সাতগাঁর পোড়ো ধ্বংসাবশেষের আশেপাশে জন্মায়, এতকাল জংলি উদ্ভিদ বলেই জেনে এসেছে। তাদের স্থানীয় নামগুলো সে বলতে পারে বিল সাহেবকে, কয়েকটি সংগ্রহ করে নিয়েও আসে। এবং এভাবেই গঙ্গারামের চোখের সামনে আক্ষরিক অর্থেই উন্মোচিত হয় জ্ঞানের এক নতুন জগত, অস্পষ্ট রহস্যময় কিন্তু উত্তেজক আর সম্মোহক। রেভারেন্ড বিলের উৎসাহে রুয়ানোর আঁকা জড়িবুটির ড্রয়িং-এর সঙ্গে মিলিয়ে তাদের খুঁজে বের করার নেশায় মাতে সে। সাথি গুঁকো গোঁসাই কিংবা ভাই পাগলরাম তার এই অভিযানে সঙ্গী হতে চায় না। আদাড়ে বাদাড়ে ঝোপে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোয় ওদের রুচি নেই।
মিশন হাউসের ঘাট থেকে একা ডিঙি বেয়ে হুগলির পাড় ধরে পর পর ফিরিঙ্গিডাঙাগুলো পার হয়ে খাল দিয়ে সরস্বতীতে পড়ার মাঝে চোখে পড়ে সাতগাঁর সঙ্কীর্ণ সমাজের বাইরে বৈচিত্র্যময় দুনিয়া। কতরকমের মানুষ, কত বিচিত্র তাদের বেশভূষা স্বপ্ন সাধনা। খালের ধারে বাদাবন কেটে গড়ে উঠেছে অস্ত্যজ জলচলদের বসতি, সাতগাঁর সাবর্ণরা এদিকে মাড়ায় না। কুমোরেরা মাটির চাক ঘুরিয়ে হাঁড়িকুড়ি বানাচ্ছে, মেয়েরা জ্বালানি কাঠ বয়ে আনছে, গোলপাতার চাটাই, বাঁশের ঝুড়ি বুনছে। কাটুনিডাঙার কাছে এলে চোখে পড়ে মেয়েরা জলের ওপর কেউ পা ঝুলিয়ে বসে আছে, কেউ বা সন্ধ্যার জন্য প্রসাধন করছে। এই নিষিদ্ধ অঞ্চলটা পেরিয়ে আসার সময় গঙ্গারামের হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়।
আরেকটি নিষিদ্ধ অঞ্চল হলো ধর্মতলার বট। জল থেকেও দূরে তার মাথাটা ঘন সবুজ পাহাড়ের মতো জেগে থাকতে দেখা যায়। সকালে সন্ধ্যায় সেখানে শত শত গাঙশালিখের ওড়াউড়ি। বিশেষ তিথিতে বউঝিয়ের দল ঘাটে ডুব দিয়ে উঠে বুকে দন্ডি কেটে যায় ধর্মতলার দিকে।
*
সাতগাঁয় এসে ইবন বতুতা নদীর ধারে যে কাটুনি মেয়েদের কুয়াশার সুতো বুনতে দেখেছিল,— ‘দখিনা বাতাসে দোদুল্যমান আমের মতো’ তাদের মসলিনে ঢাকা স্তনের দোলন দেখেছিল চরকা ঘোরানো হাতের ছন্দে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে বাংলার সেই তাঁত শিল্প ধ্বংস হবার পর তারা কেউ কেউ দেহব্যবসায় নামল। তখন মন্বন্তরে মড়কে উজাড় হচ্ছে তাঁতিদের গ্রাম। কাঠের তাঁতের খটাখট ধ্বনির বদলে শোনা যায় কেবল শিয়ালের ডাক। জলের ওপর কার্টুনি মেয়েদের বাঁশের মাচাগুলোয় খোড়ো ছাউনি উঠে দেহপোজীবিনীদের এই ঠেকের নাম হয়ে যায় কার্টুনিডাঙা।
তাই বলে বন্দরনগরী সাতগাঁয় এর আগে কোনো বেশ্যালয় ছিল না এমন নয়। প্রাচীন কাল থেকে, যবে বারাণসী ও পাটলিপুত্রের— ‘ছোট্’ নৌকাগুলো সমুদ্রে যাবার পথে এখানে এসে মাল ওঠাতো, গণকদের কাছে গিয়ে গ্রহ নক্ষত্রের শুভাশুভ নির্ণয় হতো, সাতগাঁর বিখ্যাত মন্দিরগুলিতে গিয়ে পূজাপ্রার্থনার আগে দেহ শুদ্ধ কামনামুক্ত করতে দেহপোজীবিনিদের কাছে যেত ধর্মপ্রাণ বণিকেরা। হুগলি নদীর পুনর্জন্মের পর একে একে ফিরিঙ্গিদের উপনিবেশগুলো গড়ে উঠল, কাটুনিডাঙাও উঠে এল হুগলি খালের মুখে, ইউরোপীয়দের শাসনাধীন এলাকার মধ্যবর্তী প্রচ্ছায়াময় নো-ম্যানস-ল্যান্ডে। বিভিন্ন কোম্পানির বন্দুকবাজেরা হয়ে উঠল তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। ততদিনে ডিহি বাংলায় সনাতন অর্থনীতি ধ্বস্ত, ছাইচাপা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে খিদের আগুন, গ্রামে আড়কাঠির দল ঘুরছে। কাটুনিডাঙায় তাজা তরুণী নারী সরবরাহের বিরাম নেই। পেটে খিদের আগুনে নির্বাপিত হতে লাগল গোরা পল্টনের তলপেটের আগুন।
*
বুদ্ধ পূর্ণিমার আগের রাতে শত শত মানুষ সরস্বতীতে ডুব দিয়ে বুকে দন্ডি কেটে ধর্মঠাকুরের থানে বটের ঝুরিতে পোড়ামাটির ঘোড়া বাঁধতে আসে। সেই সমাগমে যোগ দেয় কার্টুনিডাঙার নারীরাও। রাত বাড়লে চাঁদের আলো পাতার ফাঁক দিয়ে চৈতন্যধারার জলে প্রতিফলিত হয়ে গাছের নীচু ডালে জ্বলজ্বল করে। সবাই জানে, এ হলো গৌরাঙ্গের দেহের জ্যোতি। সেটি দেখা গেলেই ধরে নেওয়া হয় আবির্ভূত হয়েছেন তিনি, স্বয়ং কৃষ্ণের অবতার। মেয়েরা উলুধ্বনি দিয়ে ওঠে, ধর্মতলার বট আর সরস্বতীর পাড়ের মাঝে খোলা জমিতে উৎসবে শুরু হয়। সেই সমাগমে সকল নারীই রাধা, সকল পুরুষ কৃষ্ণের অংশ। কাটুনিডাঙার দন্ডি-কাটা মেয়েরা কেউ কেউ এরই মধ্যে আড়ালে-আবডালে তাদের বৃত্তি পালন করে। মেলায় নানান ধরনের ব্যাপারী ও হেটো উটকো লোকের সমাগম হয়, খদ্দেরের অভাব হয় না।
‘ধর্ম করতে এসে ব্যবসা করছে, এদের পাপ হয় না?’ গঙ্গারাম জিজ্ঞেস করে গুঁফোকে।
চোদ্দ বছর পূর্ণ হবার আগেই বিবাহ করে সংসারী হয়েছে গুঁফো গোঁসাই, জগৎ জীবন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা বেশি। গুঁফো বলে-
‘দ্যাক গঙ্গা, খানকিরা হল পাপের খাতক, ধম্মোঠাকুর হলেন গে ওদের মহাজন। দন্ডি কেটে হত্যে দিয়ে আগের বছরের পাপের কর্জ শোধে, তারপর মহাজনের কাছে ফের নতুন খাতা খোলে।’
অদম্য কৌতূহল ওদের টেনে আনে এই পরিত্যাজ্য অঞ্চলে। মৃতপ্রায় সরস্বতীর বালির খাত থেকে ধর্মতলার ছড়ানো বটের সবুজ চাঁদোয়া পর্যন্ত পুজো সামগ্রী থেকে শুরু করে নানান ঘরকন্নার টুকিটাকি দোকানের মেলা, কাটুনিরা ঠেক পেতেছে বটের ঝুরির গভীরে। পুব আকাশে সোনার ডিবের মতো চাঁদ, সাদা বালি চিকচিক করছে। আলোআঁধারির ভেতর ছায়া-ছায়া মানুষগুলোকে দূর থেকে দেখে মনে হবে বুঝি চৈতালি পাতার ঘূর্ণি। বটের জমাট অন্দরে কন্দরে পাটকাঠি আর জ্যালজেলে পাটকাপড়ের লজ্জাছাউনির ভেতরে মাটির প্রদীপ জ্বলে, যেন গাছের নীচে আলোকিত ফানুস পড়ে আছে।
‘ও ঠাকুর, ইদিকে এস! ও চুনো ঠাকুর, এস গো!’ গাছের আড়াল থেকে নারীকণ্ঠ ডাকে।
চুঁইয়ে-আসা জ্যোৎস্নার আলোছায়ায় ভাসমান অসংখ্য নারীমুখ, ঝুরির ফাঁকে ফাকে বাতাসহীন আন্দোলিত হয় মুখোশের মতো সাদা ময়দা লেপা, চিবুকে ঠোঁটে আলতার ছোপ, চোখে পুরু কাজল। মুখের গড়নে ফিরিঙ্গি মগ বর্মি ও আরও নানান ছাঁচ গঙ্গারাম এর আগে দেখেনি এমন। আধোঅন্ধকারে চোখ সয়ে এলে বটের গভীর শ্যাওলাচ্ছাদিত কন্দরে, যেখানে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো পৌঁছয় না, মিটিমিটি প্রদীপের আলোয় কাপড়ে প্রতিফলিত মনুষ্য সিল্যুয়েট— জুড়ে যাচ্ছে, ফেঁসে মিশে যাচ্ছে, গলে নামছে ভূমিতে, আর বাতাসে ভাসছে চাপা শীৎকারধ্বনি, চুড়ির নিক্কন। গঙ্গারামের বুকে চেনা ধুকপুকুনিটা শুরু হয়, দিনেমারডাঙা থেকে ডিঙি টেনে খাল দিয়ে যাবার সময়ে প্রতিবার যেটা টের পায় সে।
‘এস গো বাঁউনঠাকুর!’ ছায়ামূর্তি মল বাজিয়ে পথ আটকে দাঁড়ায়, কাতর কণ্ঠে বলে— ‘জোড়ায় এস গো! যা শাস্তর শেখাবো না কোনো টোলের পঙিত পারবেনা গো! এক আনা গুরুদখিনে দিও কিন্তু!’
সেই শুনে অন্ধকারে কেউ কাংস্যকণ্ঠে হেসে ওঠে। এক বিচিত্র আঁশটে মিষ্টি গন্ধ নাকে এসে লাগে। গঙ্গারামের অনুভূতি হয় যেন শীতের হিমেল নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। গুঁফো গোঁসাইয়ের পৈতে টেনে ফিসফিস করে বলে,
‘শিগগির চলে চল গুঁফো, এখানে আর এক মুহূর্তও নয়!’
‘দাঁড়া না বাপু, অত তাড়া কীসের?’ গুঁফো নিজের ট্যাক হাতড়ায়। ওর হাতের তালুতে একটা মুদ্রায় জ্যোৎস্নার আলো ঠিকরোয়।
‘কিন্তু তোর বাড়িতে বিয়ে করা বউ আছে না?’ গঙ্গারাম হিসহিসিয়ে ওঠে।
‘বটেই তো, বটেই তো!’ গুঁফো গঙ্গার দিকে ফিরে শান্ত গলায় বলে, ওর চোখ দুটো উদগ্র লালসায় চিকচিক করছে রুপোর আধুলির মতো। ‘বাড়িতে আমার জল খাবারও একটাই কাঁসার ঘটি আছে, আর কোনো পাত্তরে খাই নে, বিশ্বেস কর। কিন্তু বাড়ির বাইরে তেষ্টা পেলে মাটির ভাঁড়ে জল পান করতে বাধা কোথায়?’
আস্ত হরিণ যেভাবে বিকট অজগরের পেটে হারায়, সেভাবেই গুঁফো গোঁসাইকে টেনে নিল একটা আঁশটে মিষ্টি ভেষজ ছায়া। গঙ্গারাম একা, বটের ছায়া ছেড়ে বালির পাড়ে নেমে আসে। ক্ষোভে আত্মগ্লানিতে চোখ ফেটে জল আসে। কিন্তু মৃত্যুভয়ের চেয়েও গভীর আর অদম্য কৌতুহলে কিছুতেই গুঁফোকে ফেলে রেখে চলে যেতে পারে না। চারদিক থেকে ভেসে আসছে ববম বম বম বম গালবাদ্য, হত্যে-দেওয়া ক্রন্দনের রোল, একলা করুণ গুপিযন্ত্রের পিড়িং পিড়িং।
কয়েকটি অনন্ত মুহূর্ত পরে গুঁফো ফিরল। ডান কানে পৈতে জড়ানো, মুখে ঘোর-লাগা অভিব্যক্তি, ঠোঁট দুটো নড়ছে।
‘ইদম অধিকম! ইদম অধিকম! ইদম অধিকম…’
‘কী হলো, গুঁফো?’ ছোঁবে না ভেবেও গঙ্গা ওর কাঁধদুটো ধরে ঝাঁকায়। ‘তোর কি মতিভ্রম হল? কিম অধিকম?’
‘ইদম অধিকম! ইদম অধিকম!’ নেশাগ্রস্তের মতো বিড়বিড় করে চলে গুঁফো গোঁসাই।
নদীর পাড়ে এসে জলে ডুব দিয়ে উঠে ধাতস্থ হবার পর জানায়, কীভাবে সেই নারী তাকে টেনে নিয়ে গেল গাছের নীচু ডালে পাটকাপড় ঝোলানো ছইয়ের ভেতর, ভূমিতে খেজুরের চাটাই পাতা। প্রদীপের সলতে উসকে গুঁফোর দেওয়া সিক্কাটা উলটে পালটে দেখল, মিশি-দেওয়া দাঁতে কামড়ালো, তারপর চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে শাড়িটা টেনে তুলল কোমরের কাছে। গুঁফো ওর দুই অজগরী উরুর মাঝে উবু হয়ে বসে ধুতির কোঁচা সরিয়ে, কানে পৈতে জড়িয়ে মুত্রত্যাগের কালে যেমন করে, সঙ্গমের কালেও যেমন করে – সেইভাবে প্রস্তুত হতেও, গুর স্ত্রী যেমন আঁচলটা টেনে গলা অব্দি মুখ ঘোমটায় ঢেকে নেয়, সেরকম কিছুই করল না, প্রদীপের সলতেও নামালো না। ড্যাবড্যাবে আলোয় তাকিয়ে রইল গুঁফোর দিকে, আলতারাঙানো ঠোঁটের ফাঁকে ট্যারা হাসি, আর গুঁফো যখন পরবর্তী ধাপে অভ্যাসমতো বাঁ হাতের তর্জনী-মধ্যমা অনামিকায় থুৎকার করে নিজের মদনদন্ডে লেপন করতে লাগল, ঠিক তখনই…
‘তখনই কী?’
‘তখনই মাগীটা হাউ হাউ করে হেসে উঠল, গাছের ডালে ঘুমন্ত গাংশালিখগুলো ডানা ঝাপটে উঠল, আর একখানা পা আমার বুকের ঠিক এইখানে তুলে লাথি মেরে বলে উঠল, দূর হ মিসে!’
গঙ্গারাম বাক্যহারা, গুঁফো বুকের মাঝখানে হাত বোলাতে বোলাতে বিড়বিড় করে চলে,— ‘ইদম অধিকম! ইদম অধিকম!’
ইহাই অধিক। ব্রাহ্মণের ধর্মপত্নী কখনো উদগ্র কর্ষণের প্রাকমুহূর্তে— ‘দূর হ মিসে’ বলে না, বুকে পদাঘাত করে না। ইদম অধিকম! ভাষার অধিক যা কাব্যের সারাৎসার— ওই— ‘দূর-হ-মিন্সে’ ধ্বনির ব্যঞ্জনা, ওই চৈতন্যের হৃদয়ে পদাঘাত, ওই উন্মোচিত রসের যোনিপীঠ, যা তিন-তিনটি বছর স্ত্রীসহবাসের পরেও গুঁফো গোঁসাই এর আগে কখনো চর্মচক্ষে অবলোকন করেনি।
*
এক বিরল গোত্রের শটি, শেয়ালের লেজের মতো ধূসর ফুল যার, রুয়ানোর পান্ডুলিপিতে যার নাম Arundo donax অস্ত্রাশয়ে প্রদাহের মহৌষধ। সেই শটির নমুনা খুঁজে পেলে হয়তো তার স্থানীয় নাম জানা যেতেও পারে। স্থানীয় আয়ুর্বেদাচার্যদের কাছে, এমনকি ডকবাজারে জড়িবুটি নিয়ে বসে যেসব শাকবুড়িরা, তাদের জিজ্ঞেস করে কোনো হদিশ না পেয়ে একদিন শরতের বিকেলবেলা ডিঙি নৌকাটা টেনে গঙ্গারাম চলে এল বর্গিব্যাটারি ছাড়িয়ে আরও উত্তরে, গাজির বাগানের ভেতর গিয়ে ঢুকল।
ঘাটের ধারে ভাঙা মিরাদরের পাশ দিয়ে বনের ভেতর পায়ে চলা পথ, কিছুদূর যেতেই একখণ্ড ঘাসজমি, সবুজ ফার্নের বিছানা, কিছুটা অংশে মাটিতে পোড়া ছোপ ছোপ দাগ। কয়েকটা বড়ো বড়ো পাথর দাঁড়িয়ে আছে। ‘এইখানে ঘামন্ডি গিরি আর কামান শাহ্ গোরা পল্টনের সঙ্গে লড়েছিল!’ আপন মনে বিড়বিড় করে গঙ্গারাম। আরও কিছুদূর এগোতেই একটা হেলানো বাসাল্টের চাটান, তার ওপরে খোলামকুচি দিয়ে ঝাপসা লেখা, কিন্তু পড়া যায় :
পতিত গুরু
পাপের বাসা
তার নীচে কাঁপা কাঁপা হস্তাক্ষরে কেউ লিখে রেখেছে–
আর এসো না। চলে যাও।।
