সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৮.১
৮.১
ডিপিটি-র বুস্টার টিকা নেবার পর বাপ্পার ফের তড়কা হলো। এবার কলকাতায়। রথীন তার কয়েকদিন আগেই বীরভূম থেকে বদলি হয়েছে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে। সদরে সার্কিট হাউস থেকে অফিস করছে, নতুন জায়গায় গুছিয়ে না-বসা পর্যন্ত ওদের আনা সম্ভব নয়। সেদিন কলুটোলা লেনের বাসায় শিউলি ছাড়া আর কেউ ছিল না। সকালে পৌর ক্লিনিকে টিকা নিয়ে আসার পর প্রত্যাশা মতোই জ্বর এল, আর জ্বর এলে বাপ্পার যেটা হয়, গলার কাছে নীল জন্মদাগটা স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠল। শিউলি প্রথমে অ্যাকোনাইট ৩০ তারপরে জেলসিমিয়ামের গুলি জিভে দেবার পরেও কাজ হলো না। দুপুর গড়াতে লাগল, জ্বরটাও লাফিয়ে বাড়তে লাগল। নীলচে রঙটা ছড়িয়ে পড়ল সারা দেহে, বিশেষত ঠোঁট দুটো কালচে বেগনি হয়ে উঠল। কপালে মাথায় গনগনে জ্বরের তাপ অথচ হাত পা বরফের মতো ঠান্ডা। জ্বরের বিকারে কান্নার ফোঁপানিটাও থেমে গেল, স্থির কাঠের পুতুলের মতো হয়ে গেল বাপ্পা।
আগের বার আদিরামবাটিতে বাড়িভর্তি লোকজন ছিল। এবারে সম্পূর্ণ একা দিশেহারা শিউলির চিৎকারে একতলার ভাড়াটিয়া প্রবীণ মারাঠি দম্পতি ছুটে এলেন। গলির দোকানিরাও দুচারজন জুটে গেল। হেলথ সেন্টারে নিয়ে গেলে সেই ডাক্তারকে পাওয়া যাবে কি না, নাকি সামান্য দূরে মেডিকেল কলেজেই সোজা নিয়ে যাওয়া উচিৎ হবে, এইসব জল্পনা হচ্ছে যখন তারই মাঝে গুমটির দোকানে ছোলা- বাদামভাজা বিক্রি করেন যে বয়স্কা হিন্দুস্থানি মহিলা, তিনি গলির মোড়ে পানের দোকানে ছুটে গিয়ে বরফ নিয়ে এলেন। নিজেই বাথরুম থেকে বালতিতে জল এনে তাতে ফেলে সেই বরফ-গলা জল মগে করে ঢালতে শুরু করলেন অচৈতন্য বাপ্পার মাথায়। সেই দৃশ্য দেখে শিউলি সমেত উপস্থিত সকলে হতবাক, কিন্তু এমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই বাদামওয়ালী কাজটা করছিলেন যে তাকে বাধা দেবার সাহস কারো হলো না।
এবং আশ্চর্যজনকভাবে, মিনিটখানেকের মধ্যেই বাপ্পার ঠোঁটে নীলচে বেগুনি বিষের মতো রঙটা কেটে গেল, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে এল, ফের কাঁদতে শুরু করলে সে। ক্লিনিক থেকে ডাক্তারকে ধরে আনা হলো যখন ততক্ষণে বাপ্পা বিপদমুক্ত, জ্বরও আয়ত্তের মধ্যে। বিকেলের মধ্যেই জ্বর ছেড়ে গেল। পুরুলিয়ায় সদর অফিসে ট্রাঙ্ক কল বুক করে জানা গেল রথীন ফিল্ড ট্যুরে বেরিয়েছে, ফিরতে রাত হবে। অপেক্ষা না করে শিউলি সেদিন সন্ধ্যাবেলাতেই বাপ্পাকে নিয়ে চলে এল এই পৃথিবীতে তার একমাত্র আশ্রয়স্থলে।
রামপ্রাণ বললেন, চিকিৎসাশাস্ত্রের পরিভাষায় এই ব্যাধির নাম হলো ফেব্রাইল কনভালশন, তীব্র জ্বরের মধ্যে মস্তিষ্কে একধরনের শর্ট সার্কিট ঘটে। সেই হিন্দুস্থানী মহিলা কীভাবে জ্বর নামিয়েছেন শুনে বললেন, তিনি যা করেছেন ঠিক সেই কাজটা যে কোনো বিচক্ষণ ডাক্তারেও করত। তার কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি ছিল জ্বরের তাপ কমানো, নচেৎ সুকুমার মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। এবং মাথায় বরফগলা জল ঢালার জন্য এরপর নিউমোনিয়া হয়ে গেলেও ক্ষতি নেই, কারণ তার নির্দিষ্ট চিকিৎসা রয়েছে।
রঘুনাথপুর থেকে রথীন আসার পর বাপ্পাকে কলকাতায় নামী শিশু বিশেষজ্ঞ দেখানো হলো, কিন্তু তিনি কোনো রোগ খুঁজে পেলেন না। ছোটোবেলায় তীব্র জ্বরে তড়কার খিঁচুনি তেমন বিরল কোনো উপসর্গ নয়, বড়ো হবার পর আপনা থেকেই চলে যায়। কিন্তু খেয়াল রাখা দরকার জ্বর হলে যেন কোনো মতেই বাড়তে না দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর শিউলি বাপ্পাকে নিয়ে একা কলুটোলা লেনের ফ্ল্যাটে থাকতে চাইল না। এদিকে রঘুনাথপুরে সরকারি কোয়ার্টার পেতে রথীনের আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে। সেই সময়টায় শিউলিরা কিছুদিন সাতগাঁয় থাকবে ঠিক হলো।
বাপ্পার কাছে এর থেকে ভালো খবর আর কীই বা হতে পারে? সাতগাঁ হলো এক আশ্চর্য দেশ, সবুজ রঙের ছোটো রেলগাড়ি চেপে যেখানে যাওয়া যায়, যে দেশটায় বাপ্পার মন পড়ে থাকে সারাক্ষণ, তা সে কলকাতা ডুয়ার্স বীরভূম যেখানেই থাকুক, যেখানে বাপ্পার আরেকটা সত্তা থাকে, যে সাতগাঁ ছেড়ে কখনো কোথাও যায় না, এবং যেখানে তিতলি নামে তার এক খেলার সাথি থাকে।
তিতলির কাছেও এর থেকে ভালো খবর আর কিছুই হতে পারে না। যেবার তোলাঘরে তৃতীয় নয়ন দেখাবে বলে সে সিন্দুকে ঢুকে সতীর শাড়ি জড়ালো আর প্রথম বার তড়কা হলো বাপ্পার, তারপর তিতলি ওকে বারে বারে জিজ্ঞেস করত সেই মূর্ছা যাবার কয়েক মিনিট সে ঠিক কী দেখেছিল? সেবার বাপ্পা কেবল মনে করতে পেরেছিল ভিজে মাটি, আমের পাতার গন্ধ আর যেন বহুকাল আগের একটা সবজেটে আলো। এবারেও একইভাবে চাপাচাপি করতে লাগল তিতলি।
ইতিমধ্যে বাবা-মায়ের কাছে, দিদার কাছে, রেডিওর কাছে গল্প শোনার স্তর থেকে গল্প পড়ার স্তরে উন্নীত হয়েছে বাপ্পা, কারোর সাহায্য ছাড়া আস্ত গল্পের বই শেষ করতে পারে। তিতলিকে সে বলতে লাগল কীভাবে ঐ অচৈতন্য সময়টায় একটা অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে ঢুকে পড়েছিল এক আশ্চর্য জগতে, যেখানে গাছেরা কথা বলে, ডায়নোসর নামে এক রকমের বিশাল প্রাণী ডানা মেলে আকাশে ওড়ে, একই সঙ্গে সূর্য আর চাঁদ দেখা যায় মাঝ আকাশে। বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে দুলতে তিতলি কখনো চোখ গোল গোল করে, কখনো পেনসিল চিবোতে চিবোতে হেসে উঠে বলে
‘ধ্যাৎ! মিথ্যুক কোথাকার!’
ইতিমধ্যে অনেকটা লম্বা হয়েছে সে, প্রায় বাপ্পার মাথায় মাথায়, দুধে দাঁত পড়ে গিয়ে নতুন দাঁত উঠেছে। বাপ্পার নতুন দাঁত উঠেছে আগেই, কিন্তু সামনে ওপরের দুটো দাঁত কোদালের মতো, কারণ ওই দাঁতদুটো পড়েছিল কলকাতায় আর কলুটোলা লেনের বাসায় কোনো ইঁদুরের গর্ত ছিল না। জন্মানোর পর পীচফলের গায়ে রোঁয়ার মতো তিতলির ত্বকে যে সূক্ষ্ম রোম ছিল সেসব ঝরে গিয়েছে, কেবল চিবুকে জুলফির কাছে ছাড়া, তবুও বাপ্পা ওকে এখনও কখনো কখনো শুয়োপোকা বলে ডাকে, যেটা ওর মায়ের পছন্দ নয়।
‘ওর একটা ভালো নাম আছে তো!’ — প্রতিবার বাপ্পাকে মনে করিয়ে দেয় নতুনবউ।
তিতলির ভালো নাম জ্যোতিকণা, যে নামে ওকে স্কুলের সহপাঠী আর শিক্ষিকারা ডাকে, যা ওর দাদু, নতুনবউয়ের বাবা, রেখেছিলেন তিতলি জন্মানোর আগেই। রামকানাইয়ের জন্ম তিনি দেখে যেতে পারেননি।
বহুকাল পরে এই দিনগুলোর কথা স্মরণ করতে গিয়ে বাপ্পার মনে হবে, সেইসব দিনগুলো রাতগুলো ওর চেতনায় একটা অন্যরকম স্পষ্টতা নিয়ে ফুটে উঠছিল। তার আগের আলোআঁধারি দশাটা যেন ক্রমশ কেটে যাচ্ছিল। এই সময়ে আদিরামবাটিতে আলোছায়ার ছাঁদ, অ্যান্টনি মারা যাবার পর দুপুরের নৈঃশব্দ্যগুলো, মহাসাগরীয় প্লেটের মতো মেঝের ফাটলের চলন, বর্ষায় দেয়ালের ঘেমে ওঠা শাকম্ভরী দেবীর মৃত্যুর পর চুনের প্রলেপের ভেতর থেকে যেখানে হাতের ছাপগুলো ফুটে উঠেছিল এসবের সজীব অস্তিত্ব ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করছিল ওর চেতনায়।
কলুটোলা লেনের বাসায় দিনের বেলা সরাসরি সূর্যের আলো ঢোকে না, পাশের উঁচু বাড়ির গা থেকে প্রতিফলিত প্রভায় আলোকিত হয়। দিনের বেলাতেও টিউবলাইট জ্বলে গলির ভেতর প্রায় সব বাড়িতেই। সেই আলোয় কোনো ছায়া পড়ে না।
আদিরামবাটিতে টিউবলাইট নেই, সব ঘরেই জ্বলে হলুদ ফিলামেন্টের বাল্ব, যার টানে নানান জাতের পোকা ঝাঁক বেঁধে আসে বাড়ির পেছনে শিয়ালকাটার ঝোপ থেকে বিশেষ করে শরতের শেষে, হেমন্ত শুরুর আগে। সকালবেলায় দিদা বামুনদিদারা ঝাঁট দিয়ে ফেলে মৃত পোকার স্তূপ। কিন্তু বাড়ির পোষা বেড়াল ধুলো, কিংবা বেপাড়ার অন্য বেড়াল তাতে মুখ দেয় না কখনো। ওই শিয়ালকাটার ঝোপের নীচে আদিরামবাটির বহু প্রজন্মের মৃত শিশু আর গর্ভফুল পোঁতা আছে।
বহুকাল পরে স্মৃতির চোখ দিয়ে বাপ্পা স্পষ্ট দেখতে পাবে: সন্ধ্যাবেলা ঢাকা বারান্দার মেঝেয় মাদুর বিছিয়ে হোমওয়ার্ক করতে বসেছে তিতলি। কানাইও স্লেট পেনসিলে অক্ষর লিখতে শিখেছে, পরের বছর থেকে ইস্কুলে যাবে। বাপ্পার ইস্কুল নেই, হোমওয়ার্ক নেই। কালচিনি চা বাগানের ইস্কুলে কিছুদিন, সেখান থেকে খয়রাশোলের ইস্কুলে সরাসরি ক্লাস থ্রি, তারপর সিউড়ির ইস্কুলে কিছুকাল যেতে শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই ছেদ পড়ল ফের। যতদিন না রঘুনাথপুরে গিয়ে ওরা থিতু হয়, বাড়িতেই পড়াশোনা করবে। ওখানে নতুন ইস্কুলে ভর্তি হবার আগে শিউলি ওকে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ায়। রথীন ছুটিতে কিংবা সপ্তাহান্তে কলকাতায় এলে যেসময়ে মা-ছেলে কলুটোলা লেনের বাসায় চলে আসে— বাপ্পাকে অঙ্ক শেখায়।
বারান্দায় টেবিল ল্যাম্পের আলো ঘিরে তিনটি ছোটো ছেলেমেয়ে, সবচেয়ে ছোটোটি স্লেট পেন্সিল ছড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ওর মা এসে কোলে তুলে ঘরে নিয়ে যায়। অপর দুই বালক বালিকা একজন পড়ে কনভেন্ট স্কুলের ইংরিজি বই, আরেকজন বাংলা মাদুরে উপুড় হয়ে হোমটাস্ক করে। এদিকে বাইরের চিকন অন্ধকার থেকে আলোর টানে এসে ঢোকে নানাবর্ণের উচ্চিংড়ে আর মথ–তাদের কারোর ডানায় আঁকা বিস্ফারিত চোখ, কারোর হেলিকপ্টারের মতো আকার, কারোর বা গায়ে মধ্যযুগের সৈনিকের মতো বর্ম আঁটা। বাপ্পা পোকাগুলোর গায়ে পেনের নিব ছুঁইয়ে কালি লেপে দিয়ে, ডানায় গঁদের আঠা লাগিয়ে দিয়ে নিষ্ঠুর খেলায় মাতে।
জোরে হাওয়া দিলে মাঝেমধ্যেই কোথাও ইলেকট্রিকের তারে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ চলে যায়, অন্ধকার ঘিরে আসে। রামকানাই চিৎকার করে কেঁদে ওঠে, আমবনে ঝিঁঝির শব্দ বেড়ে যায়, পায়খানার ধারে কুয়োয় শাপভ্রষ্ট ব্যাঙের দল মুগ্ধবোধ আবৃত্তি করে। সজীব সজ্ঞান অন্ধকারে বাপ্পার পায়ের কাছে রোমশ কী যেন ছুঁয়ে যায়।
শিউরে উঠে বাপ্পা তিতলিকে জিজ্ঞেস করে— ‘তুই করলি?’
‘না তো!’ তিতলি বলে।
এবার তিতলির পিঠে কী যেন টোকা দেয় দুবার। ‘বাপ্পাদাদা তুই করলি?’
‘কই না তো!’ বাপ্পা বলে।
অন্ধকারের ভেতর দুটো হাত চুপিসাড়ে পরস্পরের দিকে এগিয়ে যেতে গিয়ে হাতে হাতে ধাক্কা লাগে, খিলখিল করে হেসে ওঠে দুজনেই। আর তখনই কেরোসিনের লম্ফ হাতে নিজের বিপুল ছায়া টানতে টানতে এসে ওদের খেলা ভঙ্গ করে দেয় বামুনদিদা–
‘ঢের লেকাপড়া হয়েচে, এবার পাততাড়ি তোলো গো, গরম ভাত নেমেছে এসে খেয়ে নাও!’
বাপ্পা-তিতলির আঙুলে যে অশরীরীরা এসে ভর করেছিল, বামুনদির গলা শুনে তারা ছায়া হয়ে ঘরের কোণে ছিটকে যায়, চুনখসা দেয়ালে লাফ দিয়ে উঠে বাড়তে বাড়তে ক্রমশ কুলুঙ্গি, চিনেমাটির বয়াম, টিকটিকি, ঠাকুরের বাঁধানো ছবি সব গিলে নিতে থাকে। রাতে আর বিদ্যুৎ আসে না। বিশুকা ঠাকুরবাড়ির কাজ সেরে এসে উঠোনের সিঁড়িতে বসে গল্প বলে। নিমগাছের মাথায় তারায় ভরা আকাশ নেমে আসে। গামাও এসে উঠোনে উবু হয়ে বসে গল্পের টানে।
বিশুকার গল্পগুলো দিদার গল্পের মতো বয়ে চলে না, একেকটি বিষয় ঘিরে পাক খায় কিস্সার আকারে। তাতে তথ্য আর বিবরণ থাকে— চারপাশের জানাচেনা বস্তুজগত থেকে পেড়ে আনা, পায়খানার কুয়োয় কপিকলে চুঁচুপেত্নির (ওরফে গুয়েপেত্নি) কথা, কুয়োর ভেতর শাপগ্রস্ত ব্যাঙদের কথা, আরও নানান গোত্রের অশরীরী ভূতপ্রেত ডান্ পরী যাঁরা সাতগাঁয় থাকেন, সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে থাকেন হাটে ঘাটে বাজারে, যাঁদের চেনা দুষ্কর। কখনো কখনো উলটোনো গোড়ালি দেখে তেনাদের চেনা যায়। আশেপাশে বেড়াল থাকলে তাদের আচরণ দেখেও চেনা যায়। বাতাসে অন্যরকম গন্ধ থেকেও চেনা যায়।
| অন্তাই, দত্তাই, মড়ি, খড়ি | এঁরা সকলেই পুরুষ ভূত; দত্তাইয়ের মুলোর মতো দাঁত, নড়ি ও বড়ির চেহারাতেই নামের প্রকাশ |
| একানড়ে | তালগাছের মতো ঢ্যাঙা, এক পায়ে হাঁটেন |
| পেতনি, শাকচুন্নী | নারী ভূত; শাকচুন্নী বিবাহিতা, শাঁখা সিঁদুর পরেন |
| ব্ৰহ্মদত্যি | ব্রাহ্মণ ভূত |
| মামদো | মুসলমানের ভূত |
| গেছো | গাছে বাস করেন |
| মেছো | পোড়া কিংবা কাঁচা মাছ ভালোবাসেন |
| স্কন্ধকাটা | মুন্ডহীন |
| ভুলো, কানাওলা | যাঁরা পথিককে পথ ভুলিয়ে ঘুরিয়ে মারেন |
| নিশি | মাঝরাতে চেনা মানুষের গলায় ডাক দেন যিনি, সাড়া দিলেই আত্মাটা ডাবের খোলার মধ্যে ভরে নিয়ে চলে যান |
| আলেয়া | যিনি জলে ডুবে মরেছেন |
*
সব ভোজ্য যে রান্নাঘরেই প্রস্তুত হয় না, প্রকৃতির মাঝে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে, এই সত্যটা খুব ছোটোবেলাতেই বাপ্পার নিবিড় উপলব্ধি হয়েছিল আদিরামবাটিতে। এইসব অপ্রচলিত খাদ্যের সন্ধান জানত মান্দাসী। ও-ই শিখিয়েছিল কীভাবে নিতে হয় টগর কল্কে জবা ও অন্যান্য ফুলের বোঁটায় মধুর নিষিদ্ধ স্বাদ (পুজোর ফুলগাছে হাত দেওয়া মানা ছিল), উঠোনে ইটের ফাকে আমরুলের টোকা স্বাদ, বাগানের ধারে গঙ্গামাটির পাহাড়ে বর্ষার পর ঝেপে আসা লতানে বন-টমেটোর স্বাদ। এইসব বিবিধ বিচিত্র স্বাদে বাপ্পার আবছা মনে পড়ত ছেড়ে আসা শৈশবে অভক্ষ্য পরখ করার স্বাদগুলো জানলার গরাদে লোহার স্বাদ, মায়ের শাড়ির আঁচলের স্বাদ, নীল গোলাপি হলুদ রবারের প্লাস্টিকের খেলনার স্বাদ। প্রতিটি রঙেরই আলাদা আলাদা স্বাদ, সেই স্বাদের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য পুরাণকথা, যার পলকা আলোআঁধারি ভাষা দুধে-দাঁত পড়ে গিয়ে নতুন দাঁত ওঠার পর, অক্ষরজ্ঞান হবার পর হারিয়ে যায় চেতনা থেকে। চিনিকাকার বর্ণনায় কাঁচা সিদলের স্বাদের মতো তাকে আর গল্পে বাঁধা যায় না, এমনকি মায়ের মুখে শোনা গঙ্গায় মেছোদের নৌকায় রুপোলি ইলিশের মতোও তাকে বাঁধা যায় না কথার চাপান-উতোরে
‘কর্তা, আছে নাকি?’
‘না গিন্নি, নেই!’
কলুটোলা লেনে যেমন, আদিরামবাটিতেও তেমনই বড়োদের দৈনন্দিনের অনেকখানি জুড়ে থাকে খাদ্য, খাদ্য ঘিরে নানান অনুশাসন, খাদ্যের নানান পদ ও তার রন্ধন প্রণালী নিয়ে চর্চা। প্রতিটি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে জিভে নতুন স্বাদকোরক ও পাকযন্ত্রের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যে বিশেষ বিশেষ উপাদানের প্রাধান্য দেখা দেয়— বসন্তের শুরুতে তেতো (নিমপাতা, উচ্ছে), গ্রীষ্মের শুরুতে টক (তেঁতুল, কাঁচা আম), শীতের শুরুতে মশলা (মেথি, জিরে, দারুচিনি)।
কিন্তু যে খাদ্যবস্তুটি ঘিরে সাতগেঁয়েদের আবেগ স্বপ্ন অনুভূতির অন্ত নেই, সেটি প্রকৃতির দান: আম।
মৎস্যভূমিতে আমের বনে মুকুলের সৌরভ একদা দূর দেশের বণিকদের ছলনাময়ী নদীখাত দিয়ে টেনে এনেছিল এতদূর। ফাল্গুনের শুরুতে মৌসুমি বাতাসে পাল তুলে তারা আসত। বসন্ত শেষ হয়ে এলে আমের মুকুলে গুটি ধরে, ঘন নীলাভ হয়ে ওঠে, তপ্ত দুপুরের পর আচমকা আকাশ কালো করে কালবৈশাখীর ঝড় উঠলে কচি আম পেন্ডুলামের মতো দুলে দুলে ছিঁড়ে পড়ে। শিশুরা বালক- বালিকারা বাগানে ছুটোছুটি করে আম কুড়োয়, নুন সরষের তেল মাখিয়ে সেই কাঁচা আম খাওয়া হয়, বাড়ির মেয়েবউরা আচার কাসুন্দি করে। কিন্তু জ্যৈষ্ঠ মাসে আম পাকতে শুরু করার পর এবাড়ির কেউ দেবতা আদিরামকে নিবেদন না করে পাকা আম দাঁতে স্পর্শ করবে না। দশহরার আগে সরোজা পাকা আম সরস্বতীতে ভাসাবেন; কাশীবাসী হবার পর যতদিন শাকম্ভরী দেবী জীবিত ছিলেন ততদিন বাড়ির সবচেয়ে প্রবীণ সদস্যাটির জন্যও একটি টুসটুসে পাকা আম ভাসাতেন। তারপরেই শুরু হয় দুই মাস ব্যাপী আম ভক্ষণের কাল।
মহালয়ার আগে যেমন, ঠিক তেমনই গ্রীষ্মে রামপ্রাণ জামাতা রথীন্দ্রনাথকে পত্র লিখবেন। মুক্তোর মতো হস্তাক্ষরে লেখা সেই পত্রে কুশল সম্ভাষণ, শুভেচ্ছা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উপদেশাবলী থাকবে, এবং থাকবে আদিরামবাটিতে আম পেকে ওঠার সংবাদ, সেই বছর বিভিন্ন প্রজাতির আমের ফলন সংক্রান্ত খবরাখবর— শিলাবৃষ্টিতে কোন কোন জাতের আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোন আমের ফলন সন্তোষজনক এবং তারপর থাকবে সপরিবারে এসে কিছুদিন থেকে আম ভক্ষণের আমন্ত্রণ। তবে কর্মস্থলে দায়দায়িত্বের কারণে নিজের আসা যদি একান্তই অসম্ভব হয়, যা সহজেই অনুমেয়, তাহলে শিউলি ও বাপ্পাকে সাতগাঁয় পাঠানোর ব্যবস্থা করলে বাড়ির সকলে বড়ো প্রীত হয়, ইত্যাদি।
বিয়ের পরে-পরেই একবার জামাইষষ্ঠীতে শাশুড়িমাতার নিজে হাতে বানানো কলকাতার বিভিন্ন দোকানের কিংবদন্তীপ্রতিম সুখাদ্যের বিশুদ্ধ নিরামিষ সংস্করণ আস্বাদ করার পর আর কখনো জামাইষষ্ঠীতে রথীনের সাতগাঁয় যাবার অবসর হয়নি। রামপ্রাণের চিঠি পাবার পরেও রঘুনাথপুরে নতুন কর্মস্থলে ব্যস্ততার কারণে সেটা যে সম্ভব হবে না শিউলি জানত, এবং শিউলি যে জানে সেটাও রথীন জানত।
এদিকে আলিপুরদুয়ারের মতোই এখানেও রথীনের লেখা হাতচিঠি নিয়ে তার অফিস অ্যাসিস্টেন্টের হাত ধরে বাপ্পাদিত্য গঞ্জের সবচেয়ে বড়ো ইস্কুলে যেতেই প্রধান শিক্ষক ঐকিক নিয়মের একটি অঙ্ক ও গাছ নিয়ে একটি রচনা লিখতে দিয়ে ওকে সোজা চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসঘরে পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে একেবারে ফার্স্ট বেঞ্চিতে স্থান হলো তার।
প্রথমেই পাটিগণিতের ক্লাস। শিক্ষকের পরনে নীলে ছোপানো কলারতোলা কুর্তা আর ঢোলা পাজামার নীচে বুটজুতো। ক্লাসঘরে ঢুকেই কোনো কথা না বলে ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে ফিরে একটি বই থেকে লম্বা লম্বা সিঁড়িভাঙা অঙ্ক কষতে শুরু করে দেন। কেউ গোলমাল করলে নিজে কিছু করেন না, লাস্ট বেঞ্চিতে একজন ষন্ডা গোছের ছাত্রকে ইশারায় নির্দেশ দেন, সে-ই অপরাধীকে ওঁর হয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক গাঁট্টা মেরে আসে।
ছেলেদের কারোর কারোর গা থেকে বের হয় একটা অচেনা বিকট গন্ধ (যা অনেক বছর পরে বাপ্পা জানতে পারবে মহুয়ার তেলের গন্ধ)। লম্বাটে ঘাসজমির মাঝখানে হলদে রঙের একতলা ইস্কুলবাড়িটার পেছনেই একসারি পলাশগাছ, একটি গাছের নীচু ডালে ট্রাকের টায়ার ঝুলিয়ে দোলনা। তার পাশে একটি কুয়ো, যাতে জল শুকিয়ে গিয়েছে।
ইস্কুলে যেতে শুরু করার সাত দিনের মধ্যেই শুরু হলো দাবদাহ, ছুটি পড়ে গেল। একতলা বাংলোয় জানলা দরজা বন্ধ করে বারান্দায় ভিজে খসখস ঝুলিয়েও তার প্রকোপ ঠেকানো যায় না। প্রেতের মতো, লৌহবাসরে কালনাগিনির মতো ঠিক ভেতরে ঢুকে পড়ে, মেঝেয় আসবাবপত্রে সর্বত্র শুকনো পাথুরে ধুলোর পরত পড়ে যায়। বাংলোর বাগানে রুক্ষ পাথুরে জমিতে শিউলি যে ফুল আর মরশুমি সবজির গাছ লাগানোর চেষ্টা করছিল, সেই গাছগুলো এলিয়ে পড়ে।
রঘুনাথপুরে গ্রীষ্ম মানেই জলাভাব, দেড় মাস ইস্কুল বন্ধ। শিউলি আর বাপ্পা যে এই সময়টায় সাতগাঁয় চলে যাবে সেটা স্বতঃসিদ্ধ। কিন্তু রথীনের এসময়ে সত্যিই কোথাও যাবার উপায় নেই। সরকার থেকে চাষিদের ঋণ দিয়ে গভীর নলকূপ বসিয়ে বোরো ধান চাষের প্রকল্প শুরু হয়েছে, জিপে চড়ে ব্লকে ব্লকে পরিদর্শনে যেতে হয়।
পুরুলিয়া থেকে রাতের চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারে চেপে ভোরবেলায় হাওড়া, সেখান থেকে লোকাল ট্রেনে বন্দর হুগলি। তারপরেই শুরু হয় সেই স্বপ্নের যাত্রা। কোয়ার্সভিল-চাদেরডাঙা, দুফের চিনিকল পার হবার পরেই রেললাইনের দুপাশে আমের বনে গাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে, গাছের নীচে ইজারাদারদের রাতপাহারার খোড়ো ছাউনি, হনুমানের তান্ডব ঠেকাতে দূরে ক্যানেস্তারা পেটানোর শব্দ রেলের চাকায় কেরেস্তান-গোরস্তান কেরেস্তান-গোরস্তান ধ্বনি ছাপিয়ে শোনা যায়। সাতগাঁর বাতাস ম ম করে পাকা আমের গন্ধে। চারিদিকে শুধু আম আর আম – বাঁশের ঝাঁকায় ভরা, চৌকি তক্তপোশের নীচে আমপাতার বিছানায় রেখে জাক দেওয়া বাগানের আম, ছাড়িগঙ্গার ওপারে গ্রামে রামপ্রাণের রুগিদের বাগিচা থেকে আসা, রামশশাঙ্ক চক্রবর্তীর আমলের শিষ্যবাড়ি থেকে আসা বেতের টুকরিতে আম, সকালে জলখাবারে চিঁড়েমুড়ির সঙ্গে আম, দুপুরে ভাতের পাতে, বিকেলে এবং রাতের বেলায় আমদুধ, ঠাকুরঘরে বিশুকার পুষ্যি উনত্রিশ দেবীদেবতার জন্য দড়ির শিকেয় রাখা বিশেষ খুঁতবিহীন আম, ভিক্ষা চাইতে আসা ভিখারির পাত্রেও আম, গলির বাঁকে জাবরকাটা ষাঁড়ের জন্যে আম, আমের খোসা, নিশ্বাসে ঘামে পাকা আমের গন্ধ, এমনকি চুঁচুপেত্নির কপিকলে টানা বালতির জলেও, আমের গন্ধে আসা সর্বত্র নীল ডাঁশ মাছি, দূরদূরান্ত থেকে আসা জ্ঞাতিগুষ্টি, বাড়ির পেছন দিকে আমের বনে ভামবেড়ালের দল।
সদাসতর্ক, ক্ষিপ্র এই নিশাচরদের দেখা যায় না। কখনো কখনো গোবিন্দভোগ চালের মতো ওদের গায়ের গন্ধ পাওয়া যায়। সরস্বতীর পাড়ে পোড়ো ধ্বংসস্তূপে ওরা থাকে, আমের মরশুমে বাড়ির পেছনে বনে চলে আসে। ঘন অন্ধকারে ঘড়ির রেডিয়াম ডায়ালের মতো চোখ জ্বলতে দেখা যায়। অর্কিডে ছাওয়া দৈত্যাকার আমগাছগুলো যত প্রাচীন, সেই গাছের আম ততই ছোটো আর মিষ্টি। সকালবেলায় পাঁচিলের ওপর গাছের ডালে ভামবেড়ালের বিষ্ঠার মালায় ফুটে থাকে ক্ষুদে মধুগুলগুলি আমের আঁটি। কখনো ওরা এল-ডোরাডোর দোতলার বারান্দায় ঢুকে পায়রা শিকার করে। একদিন কার্নিশের ওপর দেখা গেল পর পর তিনটি জালালি কবুতর, ঠোঁট আর পা-দুটো আকাশে তোলা যেন রামনবমীর মেলায় আসা তুলোর পাখি, বিশুষ্ক, গলার কাছে ফুটো করে সব রক্ত শুষে নেওয়া হয়েছে।
তিতলি জানালো, আগের রাতে বাতাসে গোবিন্দভোগ চালের গন্ধ পেয়েছিল সে। ভামবেড়ালের গায়ের বিশিষ্ট গন্ধ, যা কেবল ওর সূক্ষ্ম ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে ধরা পড়েছে। সেই রাতে ও কিছু খেল না, কাঁদতে লাগল। ওর দুঃখ কেবল ওই তিনটি পায়রার জন্যেই নয়, অ্যান্টনির জন্যেও।
ছোটো ছোটো কালচে সবুজ আম, নীচের দিকটা টিয়াপাখির ঠোঁটের মতো লাল আর বাঁকানো, ভেতরে জাফরান রঙের শাঁস — সাতগাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত এই আমের নাম পাদরি আম। পাদরিবাবার অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।
গাছ থেকে পাড়ার পর পাদরি আম দিন দুয়েক রেখে দেওয়াটা দস্তুর। তারপর সঠিক পরিপক্ক হলে ধারালো বঁটিতে, সম্ভব হলে কাঠের ছুরিতে কাটা হয়। আদিরামবাটিতে এই কাজটা করেন সরোজা। যে নিবিড় মমতায় যত্নে তিনি এবাড়ির শিশুদের পরিচর্যা করেছেন, সেভাবেই পাদরি আম কাঁথার বিছানায় মসলিন চাপা দিয়ে রেখে, মাঝেমাঝে উলটে পালটে দিয়ে, প্রতিটি আম পরখ করে খাবার জন্য বের করে দেন।
কিন্তু আম জিনিসটায় বাপ্পার ঘোর অরুচি। তার কারণ আমের এই নাছোড় সর্বব্যাপী গন্ধ কাঁচা সিদলের মতো, যা বাড়িময় সর্বত্র, এমনকি পায়খানার বাতাসেও ম ম করে।
একদিন বিকেলে সরোজা ওর হাত ধরে ভাঁড়ার ঘরে নিয়ে এসে তক্তপোশের নীচ থেকে একটি টুকটুকে পাকা পাদরি আম বেছে নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে টিপে টুপে নীচের দিকে সরু অংশটায় দাঁত দিয়ে ছোট্ট ফুটে করে চেপে ধরলেন বাপ্পার ঠোঁটের ফাকে। ওর দুহাতে ধরিয়ে দিয়ে তর্জনি আর বুড়ো আঙুল দিয়ে টিপতেই বাপ্পার মুখ ভরে উঠল আশ্চর্য মিষ্টি রসে, এক অনির্বচনীয় সুখে ওর দুচোখ বুজে এল, দুহাতে আঙুল দিয়ে টিপে টিপে, রস চুষে চুষে সদ্যশৈশবে মায়ের স্তন্য পানের স্মৃতির চেয়েও নিবিড়, যেন বা বিগত কোনো জন্মে কালবৈশাখীর আমের বাগানে ডাচ কোকোর স্বাদের মতো গভীর কোনো অনুভূতির প্লাবন বইল গোটা শরীরে। এক নতুন ধর্মে দীক্ষিত হলো সে। এরপর ক্রমশ আম ভক্ষণের প্রকৃষ্ট উপায় ও তার প্রতিটি ধাপ আয়ত্ত হয়ে উঠবে:
১ – বেছে নিতে হবে সুপক্ক নিখুঁত আম
২ – আমটি দুহাতে ধরে, শিশুর পলকা দেহে মালিশ করার মতো করে, নীচের দিক থেকে (যেদিক থেকে আম পাকতে শুরু করে) ক্রমশ ওপর দিকে তর্জনি আর বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের সাহায্যে টিপতে হবে
৩ – আমের নীচের দিকে দাঁত দিয়ে ছোট্ট ছিদ্র করে ঠোঁটে চেপে ধরতে হবে
৪ – চুষতে হবে, একই সঙ্গে রস ও শাঁস আঙুলে টিপে টিপে ছিদ্রের দিকে ঠেলতে হবে
৫ – অনেকক্ষণ চোষার পর যখন মুখে আর রস আসবে না, খোসার ভেতর আঁটি নড়ছে টের পাওয়া যাবে, তখন ছিদ্রের দিক থেকে দুহাতে টেনে লেফাফার মতো খুলে ফেলতে হবে
৬ – প্রথমে দুদিকের খোসা একে একে ওপরের ঠোঁট ও নীচের দাঁতের সাহায্যে টেনে, তারপর আঁটিটি চুষে চুষে অবশিষ্ট সবটুকু শাঁস আত্মসাৎ করতে হবে
৭ – হাতের কনুই পর্যন্ত গড়িয়ে নামা আমের অম্ল মিষ্ট ধারা, ত্বকের স্বেদলবণ মিশ্রিত, নীচে থেকে ওপর দিকে জিভ দিয়ে চেটে নিতে হবে।
