Course Content
সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য
সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য
0/94
সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – ৯.৪

৯.৪

কোয়ার্সভিলের ফিরিঙ্গিরা যাই বলুক, আজব শহর বটে কলকাতা। সেখানে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে বরফ আসে, আবার বিচিত্র কলের জাহাজও আসে। ধর্মতলায় সেই জাহাজের খবর নিয়ে এল হান্স অ্যান্টনি।

‘পাল দাঁড় কিছুই নেই, নাম তার ফায়ারবোট। মাথায় কামান আকাশের দিকে তাক করা, কিন্তু গোলা নয় ধোঁয়া বেরোয় কেবল। আর বোটের পোঁদে বন বন করে চাকা ঘোরে!’

রসগোলার সুবাদে গোবর্ধনের বটতলার দোকানের সুনাম ছিলই, বরফ আসার পর থেকে আরও বেড়েছে। গ্রীষ্মের দুপুরে হিমশীতল ভাঙের শরবতের টানে রসিকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। কলকাতায় নিয়মিত টিউডর আইস কোম্পানির আমদানি শুরু হয়েছে, কাচের বরফঘর তৈরি হয়েছে। ঘোড়ার কম্বলে মুড়ে বরফের চাঙড় রোজ সকালে কোয়ার্সভিলে আসে নৌকায়। আড়তদারের ডিপো থেকে রোজ মার্কিন বরফ আনে ননী, মাটিতে গর্ত করে পুঁতে রাখা জালায় সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে। ভাঙের মৌতাত জমে উঠলে গোবর্ধনের ঠেকে নেশাড়ু হাওয়াতাঁতিরা যে সব কাহিনির বফত্ হাওয়া বফত্ শবনম বোনে, ফায়ারবোটের খবরটিও তার থেকে আলাদা কিছু ভাবার কোনো কারণ ছিল না যদি না এই সংবাদ বয়ে আনত অ্যান্টনি সাহেব।

সাহেবের কথায় সায় দিল ওলন্দাজডাঙার এক বানিয়ান।

‘ফায়ারবোটের কথা আমিও শুনেছি বাপু। তার বিরাট দাঁতওয়ালা চাকা বন বন করে ঘোরে, যত মাছ কুমির শুশুক কামট তার নাগালে পড়ে কেটে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। যে পথে জল কেটে বোট চলে, শুধু মরা মাছের লাশ ভেসে থাকে।’

কিছুদিনের মধ্যেই হুগলির বুকে দেখা দিল ফায়ারবোট। এক বুধবার দুপুর রোদে বিচিত্র কলের জাহাজ দেখতে মৎস্যভূমির মানুব ভেঙে পড়ল ঘাটে। প্রযুক্তির এই আশ্চর্য উদ্ভাবন সম্পর্কে যেসব গল্পকথা শোনা যাচ্ছিল, বাস্তবে সেটি চর্মচক্ষে চাক্ষুষ করার অভিঘাত ঢের তীব্র। আকাশের দিকে তাক করা রয়েছে একটি নয়, তিন-তিনটি কামান। তাদের মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরুচ্ছে, আগুনের ফুলকি বেরুচ্ছে, আর কিম্ভূত ইস্পাতের ময়দানব বিকট ধকধক ধকধক ধ্বনি তুলে নদীর জল উথালপাথাল করে, জেলে ডিঙি মোচার খোলার মতো দুলিয়ে দিয়ে ধেয়ে আসছে। কাছাকাছি আসতে দেখা গেল ফায়ারবোট আরেকটা বড়ো চ্যাটালো ভেলার মতো নৌকা টেনে আনছে, যার নাম নাকি— ‘ফ্ল্যাট’। ওলন্দাজডাঙার কাঠের জেটিতে এসে ভিড়তেই সেই ফ্ল্যাট-এর পেট থেকে বেরিয়ে এল এক ডজন লালমুখো ইংরেজ। তাদের পরনে কালো টেলকোট, ট্রাউজার্স, হাঁটুর নীচ পর্যন্ত ঢাকা হেসিয়ান বুট, মাথায় কালো বোলার হ্যাট আর চোখে প্যাসনে আঁটা। জনে জনে মাথায় ছাতা ধরে লাল কোমরবন্ধ-আঁটা আর্দালির দল। তাদের পেছনে চোগা-চাপকান পরা নেটিভ মুনশিরা। তাদেরও পেছনে একদল কুলি নামালো কাঠের চেয়ার টেবিল, পেঁচানো লোহার শেকল, দৈর্ঘ্য মাপার ফিতে, কাগজের বান্ডিল, দোয়াত কলম আর এক বিচিত্র ধরনের তেপায়া ছোটো কামানের মতো যন্ত্র।

‘দাস ব্যবসায়ী!’ গুফো গোঁসাই বলল। ‘মানুষ ধরতে এয়েছে!

ফায়ারবোট দেখবে বলে সকাল থেকেই গঙ্গা আর গুঁফো নদীর পাড়ে গাম্বেল গাছের ছায়ায় এসে বসেছিল। বাইরের দুনিয়ার সব খবর আগাম পেয়ে যায় গুঁফো। কিন্তু গঙ্গারাম বলল

‘উঁহু, ওরা ফিরিঙ্গিডাঙায় এয়েছে জমি কিনতে।’

বিকেলের আগে জানা গেল গঙ্গার অনুমান সঠিক। সাহেবগুলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অ্যাসেসর, ফিরিঙ্গিডাঙার যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব বুঝে নিতে এসেছে। লন্ডনে বসে ওলন্দাজ আর দিনেমার কোম্পানির কর্তারা চুক্তি সেরে ফেলেছে, ফিরিঙ্গিডাঙাগুলো ইংরেজরা নগদ মূল্যে কিনে নিচ্ছে। এখন তারা এসেছে চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে মাপজোক করে ফর্দ তৈরি করতে।

জাহাজঘাটায় নেমে কালো হ্যাটকোটেরা ছোটো ছোটো দলে ভাগ হয়ে ছড়িয়ে গেল বিভিন্ন দিকে, তেপায়া কামানগুলো যার নাম নাকি থিওডোলাইট জমিতে বসিয়ে মুনশিরা লম্বা লম্বা শিকল টেনে ফিতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাপজোক শুরু করে দিল। বট তেঁতুলের ছায়ায় সাহেবদের জন্য টেবিল পাতা হলো। প্রখর তাপে কসাইখানায় ছালছাড়ানো মাংসের মতো লালমুখো সাহেবগুলো গলতে গলতে, ল্যাভেন্ডারে চোবানো মসলিনে ঘাম মুছতে মুছতে সন্ধ্যার অন্ধকার নামার আগেই এক অনুপুঙ্খ তফসিল বানিয়ে ফেলল ওলন্দাজডাঙার দিনেমারডাঙার এলাকাভুক্ত যাবতীয় কোম্পানির বাড়ির, কাছারির, ফ্যাক্টারির, গুদামের, ক্লাব আর পানশালার, সেখানকার সবকটি পুল টেবিল, বল আর লাঠির, মদের পিপের, দুটি জেলখানার ও তার উনত্রিশ জন কয়েদির, পথের ধারে যাবতীয় প্রাচীন দামি গাছের, ১৭টি বেওয়ারিশ ষাঁড় ও ৫৮টি পথকুকুরের, সীমান্ত ফটকে রাস্তায় লোহার জাল পাতা থাকায় যারা নির্দিষ্ট উপনিবেশের এলাকা ছেড়ে যেতে পারে না।

দিনেমারডাঙা ইংরেজদের হাতে চলে যাওয়ার পর দেশে ফেরা ছাড়া রেভারেন্ড বিলের আর কোনো গত্যন্তর ছিল না। একজন দুঃখী ও হেরে যাওয়া মানুষ, ব্রিটিশ শাসনাধীন এলাকার বাইরে গিয়ে তাঁর ধর্মপ্রচারের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল।

*

মি’লেডি, তাতে আশ্চর্য হবারও কিছু ছিল না। পূর্বভারতে বন্দর-হুগলিতে সর্বপ্রথম গির্জাটি গড়ে ওঠার পর বিভিন্ন বর্গ ও সঙ্ঘের ক্রিস্টান যাজকেরা এসেছে এই মৎস্যভূমিতে। তারা কেউই স্থানীয়দের মধ্যে ধর্ম প্রচারে সফল হয়নি। গোয়া থেকে প্রথম অগস্টিনীয়রা আসার পর মালাবারের সিরিয়ান ক্রিশ্চানরা এল, তারপর একে একে রোমান ক্যাথলিক, লুথেরান, প্রোটেস্ট্যান্ট মেথডিস্ট, প্রেসবাইটেরিয়ান, ইভ্যাঞ্জেলিস্ট, গ্রিক অর্থোডক্স গোষ্ঠী এসেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ হুগলির ধারে জমি নিয়ে গির্জা আর চ্যাপেল গড়ল, সেবাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করে সমাজে প্রান্তজীবী অসবর্ণদের মধ্যে কাজ করল, নানা ভাবে তাদের ঈশ্বরের বাণী প্রচার করার চেষ্টা করল। কিন্তু প্রত্যাশামতো ধর্মান্তকরণ হলো না। ব্যবসাবাণিজ্য বন্দর-হুগলি থেকে কলকাতায় সরে যাবার পরেও মার্কিন মুলুক থেকে চার্চ অফ নাজারিনের যাজকেরা এসেছে; অ্যাংলিকানরা এসেছে তার আগেই। আর্মানিরা সেই কবে ওলন্দাজডাঙায় গির্জা তৈরি করেছে নিজেদের প্রার্থনার জন্য। ফিরিঙ্গিডাঙায় বিভিন্ন উপাসনাস্থলে ক্রিসমাস কিংবা ইস্টারের মতো পরবের দিনে ছাড়া নেটিভদের সচরাচর দেখা যায় না। পাদরিবাবার আখ আর দুধের কেরেস্তান ম্যাজিক হেরে গিয়েছে বাংলার মাটিতে পুষ্ট সনাতন অলৌকিকের কাছে। উপর্যুপরি মারী মড়কের ধাক্কায় অসহায় মানুষ ধর্মঠাকুরের থানে হত্যে দিয়েছে, সরস্বতীতে ডুব দিয়ে দন্ডি কেটে এসে বটের ঝুরিতে মানতের ঘোড়া বেঁধেছে, গাজন পরবে উপোস করে বান কুঁড়েছে, আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে যন্ত্রণার অর্ঘ্য দিয়েছে দেবতাকে।

রেভারেন্ড বিলের বড়ো পরাজয় হলো, শত শত চিঠিচাপাটি আপীল ইত্যাদি থেকে শুরু করে হাজার হাজার লিফলেট ছাপিয়ে বিলি করেও তিনি সতীদাহ বন্ধ করতে পারেননি। যে বাংলার মলয় বাতাস দরপ খান গাজী থেকে শুরু করে সকল ভিনদেশিকে এই সবুজ সজল বাংলায় বেঁধেছে, তাদের হৃদয়ে অনির্বচনীয় আবুলির সঞ্চার করেছে, এমনকি বাত-খ্যাপা বাতুলদের একতারা হাতে দিয়ে ঘরছাড়া করেছে মনের মানুষের খোঁজে, সেই বাতাসই শেষ পর্যন্ত হারিয়ে দিল রেভারেন্ড বিলকে। সেই বাতাস জীবন্ত মনুষ্যদেহ পোড়ার গন্ধ থেকে মুক্ত করতে পারলেন না তিনি। সেই বাতাস ক্যাথির মাথায় ঢুকে গোল বাঁধালো। একদিন মাঝরাতে বিছানা ছেড়ে উঠে তিনি একতলায় ছাপাখানায় এলেন, এক জেরিক্যান ভর্তি তার্পিন তেলে স্নান করে দেশলাই ধরালেন। সতীদাহের দুঃস্বপ্নকে নিজ দেহে বাস্তবায়িত করলেন, সেই সঙ্গে স্বামীর সাধনার জগতেও আগুন লাগিয়ে দিলেন। বিল ছুটে এসে কোনোক্রমে তাঁকে বাঁচাতে পারলেন, নিজেও দগ্ধ হলেন। অসংখ্য প্রুফ এবং মূল্যবান পাণ্ডুলিপি আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলেন না। ক্যাথিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হলো কোয়ার্সভিলে সিস্টার্স দ্য ক্লুনি হাসপাতালে।

আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া কাগজপত্রের মধ্যে রুয়ানো ডে ইনফান্টের লেখা হর্টাস বেঙ্গলেনসিস-এর পান্ডুলিপি ছিল। বিগত চার বছর ধরে তিনি সেটি অনুবাদ করছিলেন, গঙ্গারামের সাহায্য নিয়ে দুষ্প্রাপ্য উদ্ভিদ সংগ্রহ ও চিহ্নিতকরণের কাজ করছিলেন।

ঘটনার তিনদিন পর শুক্রবার মিশন হাউসে গিয়ে গঙ্গারাম দেখল ভস্মীভূত ছাপাখানা, ছাইয়ের স্তূপের মাঝে একটি লোহার টুলের ওপর বসে আছেন রেভারেন্ড বিল, দুহাতে কনুই পর্যন্ত ব্যান্ডেজ জড়ানো। মাথার চুল আর ভুরুর কিছুটা অংশ পুড়ে গিয়েছে, চোখদুটি কোটরাগত। দেখে মনে হয় যেন আচমকাই অতি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন রেভারেন্ড। উঠোনে এক অচেনা ইংরেজের তদারকিতে দুজন কর্মচারী বড়ো বড়ো কাঠের প্যাকিং বাক্সে নিত্য ব্যবহারের তৈজসপত্র জামাকাপড় ভরে পেরেক ঠুকে ডালা বন্ধ করছে।

‘এস গঙ্গা!’ বিলসাহেব বললেন। এত কিছুর মধ্যেও তাঁর মুখে প্রশান্ত হাসিটি অমলিন আছে।

মেমসাহেব হাসপাতালে, গঙ্গারাম জানত। এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল—‘পিটার আর জন?—’

‘ওদের কলকাতায় আমার এক কাজিনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। ইনি মিস্টার স্মিথ, ওর স্বামী।’ উঠোনে ইংরেজটিকে দেখিয়ে বললেন।

গঙ্গারামের হাতে ছোটো বেতের সাঁপুড়িতে কয়েকটি চারাগাছ ছিল। সাতগাঁর আসেপাশে বনেবাদাড়ে ঘুরে সে গাছগাছড়া সংগ্রহ করত, স্থানীয়দের কাছে তাদের দিশি নাম ও গুণাগুণ জানার চেষ্টা করত। প্রতি শুক্রবার মিশন হাউসে আসত, বিল সাহেব ডে ইনফান্টের আঁকা রেখাচিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে আঞ্চলিক জ্ঞান গেঁথে দিতেন।

‘আমি অতীব দুঃখিত গঙ্গা, হর্টাস বেঙ্গলেনসিস-এর পাণ্ডুলিপিটি বাঁচাতে পারলাম না! আজ থেকে দুশো বছর আগের এক পর্তুগীজ যাজকের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান কাজটা রক্ষা করতে পারলাম না, সেটি ছাপিয়ে মানুষের হাতে তুলে দিতে পারলাম না।’

প্রবীণ পাদরিকে কী বলে সান্ত্বনা দেবে ভেবে পায় না গঙ্গারাম, হতচকিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। বেশ কিছুক্ষণ পরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিল বলেন—

‘মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। কত কী ভেবে ইংল্যান্ড থেকে যাত্রা করেছিলাম, আর কী তার পরিণতি হলো। হয়তো তোমাদের ধর্মে একে কর্মফল বলে। আমার দেশের মানুষ এই অত্যন্ত উর্বর সজীব দেশে এসেছে বন্দুক হাতে নিয়ে, তাকে ছারখার করেছে। সেই অন্যায়ের কাছে আমার এই ব্যক্তিগত বিপর্যয় কী আর এমন গুণাগার। তাছাড়া কত প্রাচীন এই সভ্যতা। প্রভু যিশুর জন্মের কতকাল আগে থেকে মানুষ এখানে কত রকমের বিশ্বাসের মাঝে বাস করছে। খ্রিস্টান ধর্ম এখানে আর কী-ই বা করতে পারে?’

দেশে ফেরার আগে গঙ্গারাম ও তার ভাই পাগলরামের জন্য একটি বিশেষ উপহার রেখেছিলেন রেভারেন্ড বিল— সেই পুরোনো অ্যালবিয়ন কোম্পানির ছাপার টগল যন্ত্রটি, যাকে স্থানীয়রা বলে বিল সাহেবের তিনপেয়ে দেবতা। বিধ্বংসী আগুনেও প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে ইস্পাতের কলটি, কাঠের হাতলগুলি ছাড়া আর কিছুই নষ্ট হয়নি।

নিজেই ব্যান্ডেজ বাঁধা হাতে মাটি থেকে বাংলা সীসের টাইপ কুড়িয়ে নিয়ে সযত্নে একটি কাপড়ের থলিতে ভরে দিলেন।

‘আমি জানি তোমরা দুই ভাই এই যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার করতে পারবে।’ আটদিন হাসপাতালে যন্ত্রণাভোগের পর ক্যাধি মারা গেলেন। তাকে কেরোন গোরস্তানে কবর দেওয়া হলো। রেভারেন্ড বিল কলকাতায় গিয়ে পুত্রদের সঙ্গে মিলিত হলেন, সেখান থেকে নতুন দ্রুতগামী ফায়ারবোটে ফিরে গেলেন দেশে।